কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নতুন একটি নৌ-পথ চালুর ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী এই নতুন পথের নাম দিয়েছে “লারাক করিডোর”।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। একই খবর আন্তর্জাতিকভাবে প্রচার করেছে চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জিনুয়াহা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নতুন নৌপথটি হরমুজ দ্বীপের দক্ষিণ থেকে লারাক দ্বীপের দক্ষিণ অংশ পর্যন্ত বিস্তৃত এবং এটি সম্পূর্ণভাবে ইরানের আঞ্চলিক জলসীমার ভেতরে অবস্থিত।
আইআরজিসি নৌবাহিনী এই এলাকায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখছে। ফলে অনুমতি ছাড়া কোনো ধরনের জাহাজ বা নৌযানের এই করিডোর ব্যবহার করা কার্যত সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর তার নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
তবে এখনই এই নতুন রুটটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা যাবে না। আইআরআইবি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার পর কেবলমাত্র আইআরজিসি নৌবাহিনীর বিশেষ অনুমতির ভিত্তিতেই বাণিজ্যিক বা অন্যান্য জাহাজ এই লারাক করিডোর ব্যবহার করতে পারবে।
হরমুজ প্রণালিতে নতুন এই করিডোর চালু হওয়া কেবল একটি অবকাঠামোগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি একটি স্পষ্ট কৌশলগত বার্তা। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ আরও দৃশ্যমান হচ্ছে।
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরান একদিকে তার আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব জোরালো করছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণের সুযোগও বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে যেহেতু হরমুজ প্রণালি বিশ্ব তেল সরবরাহের একটি প্রধান পথ, তাই এখানে যেকোনো পরিবর্তন সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, “লারাক করিডোর” শুধু একটি নতুন নৌপথ নয়, বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক রাজনীতিতে ইরানের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

