যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টানটান উত্তেজনা নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। দুই সপ্তাহের চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ২২ এপ্রিল শেষ হওয়ার প্রাক্কালে পরিস্থিতি এমন এক জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে শান্তি আলোচনা না যুদ্ধ—দুটোর যেকোনো একটির দিকেই মোড় নিতে পারে সংকট।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো সমঝোতা না হলে আবারও ব্যাপক বোমা হামলা শুরু হতে পারে। তার ভাষায়, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর বাড়ানোর সম্ভাবনা খুবই কম, এবং এরপর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে।
এই বক্তব্যের পরই তেহরানের প্রতিক্রিয়া আসে কঠোর ভাষায়। ইরানের শীর্ষ আলোচক ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক মাধ্যমে জানিয়ে দেন, হুমকির মুখে কোনো আলোচনায় বসবে না ইরান। বরং যুদ্ধ ফের শুরু হলে তাদের হাতে ‘নতুন কার্ড’ রয়েছে, যার প্রস্তুতি গত দুই সপ্তাহ ধরেই নেওয়া হচ্ছে।
সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে হরমুজ প্রণালি—বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ এবং সাম্প্রতিক একটি ইরানি জাহাজ জব্দের ঘটনাকে তেহরান সরাসরি যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে।
এই পরিস্থিতিতে হরমুজ শুধু একটি কৌশলগত জায়গা নয়, বরং পুরো আলোচনার ভাগ্য নির্ধারণের প্রধান ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। এখানে যে কোনো উত্তেজনা সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে।
উভয় পক্ষই আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের কথা বললেও বাস্তবে সেই পথ এখনো পরিষ্কার নয়। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও এখনো কোনো পক্ষই সেখানে পৌঁছায়নি।
মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে যাওয়ার কথা রয়েছে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স-এর। তার সঙ্গে থাকবেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ এবং জারেড কুশনার। তবে ইরান আদৌ এই আলোচনায় অংশ নেবে কি না, সেটিও এখনো নিশ্চিত নয়।
বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়, আলোচনার টেবিলের বাইরে চাপ সৃষ্টি করার কৌশলই এখন প্রধান হয়ে উঠছে। একদিকে ট্রাম্পের প্রকাশ্য হুমকি, অন্যদিকে ইরানের পাল্টা কঠোর অবস্থান—দুটোই কূটনৈতিক অগ্রগতিকে জটিল করে তুলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধবিরতির সময়সীমা যত ঘনিয়ে আসছে, ততই উভয় পক্ষ নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে। ফলে সমঝোতার বদলে সংঘাতের সম্ভাবনাই বাড়ছে।
সব মিলিয়ে, আগামী কয়েকদিনই নির্ধারণ করে দেবে—এই সংকট আলোচনার পথে এগোবে, নাকি আবারও মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের আগুন জ্বলবে।

