মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা হরমুজ প্রণালি ঘিরে আবারও নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে, আর ইরান সেটি খুলে দিতে আগ্রহী—মূলত বিপুল আর্থিক ক্ষতি এড়ানোর জন্য।
মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় ইরান প্রতিদিন প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তার ভাষায়, এই বিশাল ক্ষতির কারণেই তেহরান এখন প্রণালি খুলে দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে।
তিনি আরও দাবি করেন, কয়েকদিন আগেই কিছু ব্যক্তি তাকে জানিয়েছে যে ইরান দ্রুত এই জলপথ চালু করতে চায়। তবে ট্রাম্পের মতে, ইরানের এই অবস্থান মূলত ‘মুখ রক্ষার কৌশল’—কারণ বাস্তবে তারা যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখেই এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছে।
ইরান ইস্যুতে নিজের অবস্থান আরও কঠোর করে তুলে ধরেন ট্রাম্প। তিনি ইঙ্গিত দেন, যদি পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের পছন্দমতো না এগোয়, তাহলে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের পথ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
তার বক্তব্যে এমনও ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহার করে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হতে পারে। ট্রাম্প দাবি করেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—তাদের নৌবাহিনী, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং পারমাণবিক অবকাঠামো বড় আঘাত পেয়েছে।
তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই দাবির বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ সংঘাত চলমান থাকা সত্ত্বেও ইরান এখনো পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং হরমুজ প্রণালিতে প্রভাব বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।
এই উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্প জানিয়েছেন, পাকিস্তানের অনুরোধে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে। তবে একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অব্যাহত থাকবে।
এতে করে একদিকে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা থাকলেও অন্যদিকে বাস্তব পরিস্থিতিতে কোনো বড় পরিবর্তন আসছে না—যা পুরো কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলছে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য মূলত একটি কৌশলগত বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের বড় অংশ এই পথ দিয়ে যায়, তাই এখানে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা মানে বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর প্রভাব বিস্তার করা।
তবে প্রশ্ন হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই কতটা নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারছে, আর ইরান কতটা চাপে আছে—এই দুইয়ের মধ্যে বাস্তবতা কতটা মিলছে? অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান শক্ত দেখাতে তথ্যযুদ্ধ চালাচ্ছে।
সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালি এখন শুধু একটি জলপথ নয়—এটি হয়ে উঠেছে ভূরাজনৈতিক শক্তির লড়াইয়ের কেন্দ্র, যেখানে প্রতিটি বক্তব্যই পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে।

