চীন-এর হুনান প্রদেশে একটি আতশবাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ২১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৬১ জন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
সোমবার (৪ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার পর প্রদেশটির রাজধানী চাংশা এলাকায় এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে আশপাশের বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে ঘন ধোঁয়া।
ঘটনার পরপরই উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়। প্রায় ৫০০ জন দমকলকর্মী, উদ্ধারকর্মী এবং চিকিৎসাকর্মী ঘটনাস্থলে কাজ করেন। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধারে দীর্ঘ সময় ধরে অভিযান চালানো হয়।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, একটি আতশবাজি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে এই বিস্ফোরণ ঘটে। তবে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
এই ঘটনার পর দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে শিল্পখাতে নিরাপত্তা জোরদার, ঝুঁকি শনাক্তকরণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনে আতশবাজি শিল্প অত্যন্ত বড় এবং ঝুঁকিপূর্ণ। বিশ্ববাজারে এই খাতে দেশটির প্রভাব ব্যাপক, যেখানে বিপুল পরিমাণ রপ্তানি হয় প্রতি বছর। তাই এ ধরনের দুর্ঘটনা শুধু মানবিক বিপর্যয়ই নয়, শিল্প নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকেও সামনে নিয়ে আসে।
সব মিলিয়ে, এই বিস্ফোরণ আবারও স্মরণ করিয়ে দিল—উৎপাদনমুখী শিল্পে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে যে কোনো সময় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে।
সিভি/এইচএম

