থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে ভয়াবহ এক সড়ক দুর্ঘটনা মুহূর্তেই রূপ নেয় আগুনের বিভীষিকায়। ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষের পর একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন ধরে গেলে অন্তত ৮ জন নিহত হন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২৫ জন। শনিবার (১৬ মে) ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।
স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের পরপরই বাসটিতে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে আশপাশে থাকা কয়েকটি ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলও আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনার সময় সড়কজুড়ে ধোঁয়া আর আগুনের লেলিহান শিখা দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে একটি বিকট শব্দ শোনা যায়। এরপর মুহূর্তেই বাসের ভেতর থেকে আগুন বের হতে শুরু করে। যাত্রীরা আতঙ্কে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। অনেকেই জানালা ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করেছেন বলেও জানা গেছে। তবে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় কয়েকজন বের হতে পারেননি।
ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দমকল বাহিনী, পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে একাধিক ইউনিট কাজ শুরু করে। দমকলকর্মীরা পানির পাইপ ব্যবহার করে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালান, অন্যদিকে উদ্ধারকারীরা আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠান।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় একটি ট্রেন, যাত্রীবাহী বাস, কয়েকটি ব্যক্তিগত গাড়ি এবং মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আরও কেউ আটকা পড়ে আছে কি না, তা নিশ্চিত হতে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।
এখন পর্যন্ত দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় কোনো ধরনের সমন্বয়হীনতা বা সংকেত অমান্যের কারণে সংঘর্ষটি ঘটে থাকতে পারে। থাই কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে দ্রুত নগরায়ণ ও যানবাহনের চাপ বাড়লেও নিরাপত্তা অবকাঠামো সেই হারে উন্নত হয়নি। বিশেষ করে রেলক্রসিং ও গণপরিবহন নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। ব্যাংককের এই দুর্ঘটনা আবারও সেই দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এলো।
থাইল্যান্ডে সড়ক দুর্ঘটনার হার আগেও আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে। অতিরিক্ত গতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং পুরোনো পরিবহন ব্যবস্থাকে প্রায়ই বড় দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে দেখা হয়। সর্বশেষ এই দুর্ঘটনা দেশটির পরিবহন নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
নিহতদের পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে হাসপাতাল সূত্র। স্থানীয় প্রশাসন নিহতদের পরিবারকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।

