রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আগামী সেপ্টেম্বরে ভারত সফরে আসছেন। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতেই তার এই সফর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতির বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।
দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থিত রুশ দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানিয়েছে, আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেবেন পুতিন। পরে ক্রেমলিনের সহকারী ইউরি উশাকভও বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর অনুযায়ী, এবারের সম্মেলন ঘিরে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হতে পারে।
বিশ্ব রাজনীতিতে বর্তমানে যে টানাপোড়েন চলছে, তার মধ্যেই এই সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধ, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং নতুন বৈশ্বিক জোট রাজনীতির প্রেক্ষাপটে রাশিয়া এখন বিকল্প অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। সেই জায়গা থেকেই ভারতকে মস্কো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা।
ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, পারমাণবিক সহযোগিতা এবং বাণিজ্য—বিভিন্ন খাতে দুই দেশের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পশ্চিমা বিশ্বের চাপ থাকা সত্ত্বেও ভারত রাশিয়ার সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রেখেছে। বিশেষ করে জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে ভারত-রাশিয়া সহযোগিতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এদিকে এবারের ব্রিকস সম্মেলনকে ঘিরেও বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে ব্রিকস জোট শুধু অর্থনৈতিক জোট হিসেবেই নয়, বরং পশ্চিমা প্রভাবের বাইরে বিকল্প বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে। সদস্য দেশগুলোর মধ্যে স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য, উন্নয়ন তহবিল বৃদ্ধি এবং নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির বিষয়গুলোও আলোচনায় থাকতে পারে।
তবে পুতিনের সফরসূচি সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। সফরকালে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পর বেইজিং সফরের পরপরই পুতিনের চীন সফরের খবর সামনে আসে। আগামী ২০ মে চীনে সংক্ষিপ্ত সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে তার। ফলে রাশিয়া, চীন ও ভারতের মধ্যকার কূটনৈতিক যোগাযোগ নতুন আন্তর্জাতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

