নরওয়ের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র ‘আফতেনপোস্তেনে’ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে প্রকাশিত একটি কার্টুন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক তৈরি করেছে। ব্যঙ্গচিত্রটিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সমালোচকদের একটি অংশ এটিকে বর্ণবাদী, অবমাননাকর এবং ঔপনিবেশিক যুগের পুরোনো স্টেরিওটাইপের পুনরাবৃত্তি বলে অভিযোগ তুলেছেন। সূত্র: এনডিটিভি
প্রকাশিত কার্টুনে নরেন্দ্র মোদিকে একজন সাপুড়ে হিসেবে দেখানো হয়েছে। তার হাতে সাপের আকৃতির একটি জ্বালানি পাম্পের পাইপও চিত্রিত করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সাম্প্রতিক জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি ইঙ্গিত করেই ব্যঙ্গচিত্রটি আঁকা হয়েছে।
কার্টুনের পাশাপাশি প্রকাশিত একটি মতামতধর্মী নিবন্ধে তাকে ‘চতুর’ এবং ‘কিছুটা বিরক্তিকর’ ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
অনেকে এটিকে ভারত এবং দেশটির নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অসম্মানজনক আচরণ বলে মন্তব্য করেন। একজন ব্যবহারকারী লেখেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে কাউকে অপমান করা গ্রহণযোগ্য নয়। আরেকজন মন্তব্য করেন, নরওয়ের গণমাধ্যম এখনো ঔপনিবেশিক যুগের পুরোনো উপস্থাপনা থেকে বের হতে পারেনি।
সমালোচকদের একটি অংশের দাবি, ব্যঙ্গচিত্রটি ২০১৪ সালে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে দেওয়া নরেন্দ্র মোদির একটি বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করেছে। সে সময় মোদি বলেছিলেন, একসময় বিশ্ব ভারতকে ‘সাপুড়ের দেশ’ হিসেবে দেখত। তবে বর্তমানে ভারত প্রযুক্তিনির্ভর ও ডিজিটাল শক্তিতে রূপান্তরিত হয়েছে।
তবে সবাই কার্টুনটির সমালোচনা করেননি। কেউ কেউ ভারতীয় গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, বিদেশি সংবাদমাধ্যম সরকারের সমালোচনা করলেই তাকে বর্ণবাদ হিসেবে আখ্যায়িত করা উচিত নয়।
এই বিতর্কের মধ্যেই সম্প্রতি নরওয়েজিয়ান সাংবাদিক হেলে লিং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্ন নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোরের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ উপস্থিতিতে বিষয়টি সামনে আসে।
এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক সিবি জর্জ সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে বলেন, ভারতের পরিসর সম্পর্কে অনেকের পর্যাপ্ত ধারণা নেই। তিনি দাবি করেন, ভারতের সংবিধান নাগরিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করেছে এবং আইনি প্রতিকারের সুযোগও রয়েছে।

