ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা জোরদারে কঠোর অবস্থান নিয়েছে অ্যাপল। প্রযুক্তি জায়ান্টটি জানিয়েছে, গত বছর তাদের অ্যাপ স্টোর থেকে শতকোটির বেশি ভুয়া অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতারণামূলক লেনদেন, ক্ষতিকর অ্যাপ এবং ভুয়া রিভিউ ঠেকাতে ব্যাপক নজরদারি চালানো হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মোট ১১২ কোটি প্রতারণামূলক অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। পাশাপাশি ৫৪ লাখ চুরি হওয়া ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার শনাক্ত করে বন্ধ করা হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তা ও মানদণ্ড পূরণ না করায় ২ লাখের বেশি অ্যাপের আবেদন বাতিল করেছে অ্যাপল।
বিশ্বজুড়ে সাইবার অপরাধীদের কার্যক্রম বেড়ে যাওয়ায় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি সতর্ক। বিশেষ করে স্বয়ংক্রিয় রোবট বা ‘বট’ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি, স্প্যাম ছড়ানো এবং কৃত্রিমভাবে অ্যাপের রেটিং বাড়ানোর প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। এতে ব্যবহারকারীরা বিভ্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি অনলাইন নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
অ্যাপলের দাবি, সাইবার অপরাধীরা এখন আরও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। তারা স্বয়ংক্রিয় বটের মাধ্যমে অল্প সময়ে বিপুল সংখ্যক অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে পারছে। এসব অ্যাকাউন্ট দিয়ে ভুয়া রিভিউ, জাল রেটিং এবং প্রতারণামূলক লেনদেন পরিচালনা করা হচ্ছে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নতুন কোডিং টুল বাজারে আসায় অ্যাপ তৈরি ও প্রকাশের প্রক্রিয়া অনেক সহজ হয়েছে। ফলে অ্যাপ স্টোরে জমা পড়া অ্যাপের সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে। গত বছর অ্যাপল ৯১ লাখের বেশি অ্যাপ পর্যালোচনা করেছে। এর মধ্যে নিরাপত্তা ঝুঁকি, ত্রুটি বা নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে দুই লাখের বেশি অ্যাপ বাতিল করা হয়।
ক্ষতিকর অ্যাপ শনাক্ত করতে এখন স্বয়ংক্রিয় এআই প্রযুক্তির ওপর বেশি নির্ভর করছে অ্যাপল। এ প্রযুক্তি সন্দেহজনক আচরণ, অস্বাভাবিক কার্যক্রম এবং ক্ষতিকর সফটওয়্যারের ধরন দ্রুত শনাক্ত করতে সক্ষম। ফলে মানুষের হাতে দীর্ঘ সময় ধরে যে বিশ্লেষণ করতে হতো, তা এখন অনেক দ্রুত ও কার্যকরভাবে করা সম্ভব হচ্ছে।
অ্যাপল আরও জানিয়েছে, আইফোন ও অ্যাপ স্টোরের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর কারণেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্মের তুলনায় নিয়ন্ত্রিত ইকোসিস্টেম ব্যবহারকারীদের তথ্য সুরক্ষায় বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ভুয়া অ্যাকাউন্ট ও প্রতারণা ঠেকাতে ভবিষ্যতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে আরও উন্নত এআইভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। কারণ অনলাইন প্রতারণার ধরন দিন দিন আরও জটিল ও সংগঠিত হয়ে উঠছে।

