বিশ্বের বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ব ধরে রেখেছে মার্কিন প্রতিষ্ঠান টেসলা। তবে সেই অবস্থান এখন আগের মতো নিরাপদ নেই।
বিশেষ করে চীনা গাড়ি নির্মাতা বিওয়াইডির ধারাবাহিক অগ্রযাত্রা বৈশ্বিক ইভি বাজারে নতুন প্রতিযোগিতার জন্ম দিয়েছে। ফলে টেসলার আধিপত্যের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।
সাম্প্রতিক তৃতীয় প্রান্তিকের বিক্রির তথ্য বলছে, এই সময়ে টেসলা গ্রাহকদের কাছে ৪ লাখ ৩৫ হাজার ৫৯টি সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক গাড়ি সরবরাহ করেছে। একই সময়ে বিওয়াইডির বিক্রি দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৩১ হাজার ৬০৩ ইউনিটে। দুই প্রতিষ্ঠানের বিক্রির ব্যবধান এখন মাত্র সাড়ে তিন হাজারের কিছু বেশি, যা বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতার তীব্রতাই তুলে ধরছে।
কয়েক প্রান্তিক আগেও পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। টানা ছয়টি প্রান্তিকে বিওয়াইডির তুলনায় প্রায় ৭ লাখ বেশি গাড়ি বিক্রি করেছিল টেসলা। তবে সম্প্রতি কারখানা সংস্কারজনিত উৎপাদন বিরতি এবং নতুন মডেল থ্রি নিয়ে ক্রেতাদের অপেক্ষার কারণে টেসলার প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা শ্লথ হয়েছে। অন্যদিকে বিওয়াইডি একই সময়ে বার্ষিক ৬৬ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে দ্রুত বাজার সম্প্রসারণ করেছে।
এ কারণে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, চলতি চতুর্থ প্রান্তিক কিংবা নিকট ভবিষ্যতেই বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রিতে বিশ্বের শীর্ষস্থানে উঠে আসতে পারে বিওয়াইডি।
বাজার দখলের এই প্রতিযোগিতায় দুই প্রতিষ্ঠানই উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। টেসলা মেক্সিকোতে নতুন উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। অন্যদিকে বিওয়াইডি উজবেকিস্তান, থাইল্যান্ড ও ব্রাজিলে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ করছে। একই সঙ্গে মেক্সিকোকে কেন্দ্র করে উত্তর আমেরিকার বাজারে প্রবেশের কৌশলও বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি।
এরই অংশ হিসেবে মেক্সিকোর ৩২টি রাজ্যে ৫০টি ডিলারশিপ চালুর প্রস্তুতি নিয়েছে বিওয়াইডি। পাশাপাশি তারা বাজারে আনছে জনপ্রিয় ‘ডলফিন’ মডেলের গাড়ি। আকর্ষণীয় নকশা এবং একবার চার্জে প্রায় ৪০৫ কিলোমিটার চলতে সক্ষম হওয়ায় মডেলটি ইতোমধ্যে ক্রেতাদের নজর কাড়ছে। তুলনামূলক কম দামের কারণে এটিকে টেসলার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রতিযোগিতা কেবল দুটি কোম্পানির বাজার দখলের লড়াই নয়। বরং বৈশ্বিক পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার বিস্তার ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনকে আরও গতিশীল করতে পারে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ফলে আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে নেতৃত্বের পালাবদল ঘটে কি না, সেদিকে নজর থাকবে বিনিয়োগকারী, বিশ্লেষক এবং প্রযুক্তি খাতের পর্যবেক্ষকদের।

