Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice শুক্র, আগস্ট 28, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • জলবায়ু ও পরিবেশ
      • লাইফস্টাইল
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিলে বাংলাদেশের কী লাভ, কী ঝুঁকি?
    ভূ-রাজনীতি

    মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিলে বাংলাদেশের কী লাভ, কী ঝুঁকি?

    নিউজ ডেস্কআগস্ট 28, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দেওয়া নিয়ে বাংলাদেশ নানা আলোচনা আছে। ছবি: BBC
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    বিবিসি বাংলা

    সৌদি আরব, তুরস্ক, পাকিস্তান- মুসলিম বিশ্বের এই তিন দেশ সম্প্রতি যে প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে, তাতে বাংলাদেশও যোগ দেবে কি না তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।

    একদিকে সামরিক তাৎপর্য, অন্যদিকে জোটের সম্প্রসারণের চেষ্টা দুটি মিলিয়েই এই চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশেও আগ্রহ আছে।

    যদিও বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, বাংলাদেশ এখানো চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পায়নি।

    যদিও চুক্তির ব্যাপারে বাংলাদেশ ‘ইতিবাচক অবস্থানে’ আছে বলে তিনি জানান।

    কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, মক্কা জোটে বাংলাদেশের যোগ দেওয়া কতটা জরুরি?

    এই প্রশ্ন উঠছে, কারণ মক্কা জোটে যোগ দিলে ভূ-রাজনৈতিক নানা ঝুঁকির কথাও বলছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

    ফলে প্রশ্ন উঠেছে, এই জোটে যোগ দিলে বাংলাদেশের লাভ কী এবং এতে কোনো ঝুঁকি আছে কি-না।

    হরমুজ প্রণালির কাছে ভাসছে অনেকগুলো নৌযান

    ছবি:Reuters / সম্প্রতি ইরান যুদ্ধ শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়েছে

    এই জোটের গুরুত্ব কী?

    মুসলিম বিশ্বের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ- সৌদি আরব, তুরস্ক, পাকিস্তান।

    সৌদি আরব বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারকদের একটি এবং একইসঙ্গে বড় অর্থনৈতিক শক্তি।

    তুরস্ক নেটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনীর অধিকারী। তাদের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি অত্যন্ত উন্নত মানের এবং দেশটির আধুনিক যুদ্ধবিমান, ড্রোন, মিসাইল সমৃদ্ধ শক্তিশালী সেনাবাহিনী রয়েছে।

    আর মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রশক্তির দেশ পাকিস্তান।

    তিনটি দেশ মিলে যে চুক্তি সই করে তার আনুষ্ঠানিক নাম মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি। এটা স্বাক্ষরও হয় মুসলিমদের সর্বোচ্চ পবিত্র নগরী মক্কায়।

    একে এমন একটি জোট হিসেবে দেখা হচ্ছে যেখানে মুসলিম দেশগুলো একত্রিত হচ্ছে।

    সামরিক জোটের অংশ হিসেবে সামরিক প্রশিক্ষণ, ব্যবস্থাপনা ব্যয় আর গোয়েন্দা তথ্য আদান প্রদানের ক্ষেত্রে কোন দেশ কতটুকু অবদান রাখবে, তা নিয়ে সব দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা ইঙ্গিতও দিয়েছেন।

    ফলে সামরিক তাৎপর্য থাকায় তিনটি দেশের এই যৌথ প্রতিরক্ষা জোট বৈশ্বিক রাজনীতিতে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনা তৈরি করে। অনেকেই এটাকে ‘মুসলিম নেটো’ নামেও ডাকছেন।

    কারণ, চুক্তি অনুযায়ী স্বাক্ষরকারী তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপরই হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ঠিক একইরকম ধারা ১৯৪৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরোধীতায় মার্কিন নেতৃত্বে গড়ে ওঠা নেটোতেও রয়েছে।

    ফলে মক্কা জোটের সামরিক উদ্দেশ্য তাৎপর্যপূর্ণ।

    প্রায় এক বছর ধরে আলোচনার পর গত সাতই অগাস্ট এই চুক্তিতে সই করেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।

    গত ৭ই অগাস্ট সৌদি আরবের মক্কায় সাক্ষরিত হয় মক্কা প্যাক্ট

    ছবি: Getty Images / গত ৭ই অগাস্ট সৌদি আরবের মক্কায় সাক্ষরিত হয় মক্কা প্যাক্ট

    বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কী বলেছেন?

    বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমনি ফারহানা মক্কা জোটে বাংলাদেশের যোগ দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন করেন।

    জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানান, মক্কা প্যাক্টকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে বাংলাদেশ। তবে এ নিয়ে আলোচনা করার সময় এখনো আসেনি।

    “এতে যোগদান করার বিষয়টি এখানো আসেনি। কারণ এটা নির্ভর করছে যারা এই প্যাক্টের সদস্য, তাদের অভিপ্রায়ের ওপর। তারা যদি অভিপ্রায় প্রকাশ করেন বাংলাদেশকে এই প্যাক্টে নেওয়ার জন্য, তাহলে আমরা নিশ্চয়ই সেটা ইতিবাচকভাবেই বিবেচনা করবো।”

    মক্কা প্যাক্টে বাংলাদেশ যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ না পেলেও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট, বাংলাদেশ এতে যোগ দিতে আগ্রহী।

    “মক্কা প্যাক্ট হচ্ছে বিশ্ব মুসলিম সমাজের আত্মরক্ষার একটা ব্যবস্থা এবং এটা আমাদের মুসলিম পরিবারের আভ্যন্তরীণ বিষয়। সুতরাং এটা নিয়ে কারো, অন্যান্যদের উদ্বেগের কোনো অবকাশ নাই,” বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

    একইসঙ্গে তিনি জানান, যেহেতু এই জোটে বাংলাদেশ যুক্ত হয়নি ফলে এখানে যোগ দিলে কী লাভ হবে সেগুলোও আলোচনা করার সময় এখনো আসেনি।

    বাংলাদেশের লাভ কী?

    মক্কা প্যাক্ট মূলত প্রতিরক্ষামূলক চুক্তি। নামেই প্রতিরক্ষা শব্দটি আছে। চুক্তিতেও আলোচনা হচ্ছে মূলত এই জোটের যৌথ সামরিক সক্ষমতা নিয়ে। যেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে তুরস্ক ও পাকিস্তান।

    যৌথ জোটের দেশগুলো সামরিক গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় থেকে শুরু করে অস্ত্র প্রযুক্তি বিনিময় পর্যন্ত যেতে পারে।

    জোটের তিনটি দেশের তিন ধরনের সক্ষমতা আছে। যেটা একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে পারে।

    • সৌদি আরবের আছে অঢেল অর্থ, তেল, ভৌগোলিক অবস্থানগত সুবিধা এবং রাজনৈতিক শক্তি।
    • তুরস্কের আছে অত্যাধুনিক সামরিক শিল্প, ড্রোন প্রযুক্তি, মিসাইল, সেন্সর, নৌশক্তি এবং ইলেক্ট্রনিক যুদ্ধের সক্ষমতা। আছে উন্নত মানের অস্ত্র প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ।
    • পাকিস্তানের আছে দক্ষ সৈন্য, বিশাল পেশাদার সেনাবাহিনী ও অবকাঠামো, যুদ্ধের অভিজ্ঞতা, অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা এবং পরমাণু অস্ত্র।

    এই চুক্তির ফলে সৌদি আরবের জন্য আমেরিকার বাইরে অস্ত্র সংগ্রহের নতুন দ্বার খুলে যাচ্ছে। তারা তুরস্ক ও পাকিস্তান থেকে প্রয়োজনীয় অস্ত্র আমদানি করতে পারবে।

    অন্যদিকে তুরস্ক ও পাকিস্তানের দরকার অর্থ। তারা অস্ত্র ও প্রযুক্তি বিক্রি করে সেটা পাবে এবং সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নতুন বিনিয়োগ করতে পারবে।

    এই দেশগুলো যদি নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং সামরিক সক্ষমতা নিয়ে যৌথভাবে কাজ করে তাহলে সেটা দেশগুলোর জন্য বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠবে।

    আর এখানেই আসছে বাংলাদেশসহ নতুন দেশগুলো যদি মক্কা জোটে যুক্ত হয়, তাহলে তাদের লাভবান হওয়ার সুযোগ। সেগুলো কী?

    “এখানে বাংলাদেশের প্রাপ্তির অনেক কিছুই আছে। সেটা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে হতে পারে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে পার্টনারশিপ হতে পারে, ইন্টেলিজেন্স বা গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের সম্পর্ক সৃষ্টি হতে পারে যেটা আসলে বড় বড় সামরিক জোটে এধরনের তথ্য আদান-প্রদান হয়ে থাকে” বলেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক হাসিব আজিজ।

    নিরাপত্তা বিশ্লেষক হাসিব আজিজ
    ছবি: BBC, নিরাপত্তা বিশ্লেষক হাসিব আজিজ

    মি. আজিজ ঢাকা ভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ওসমানী সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের সঙ্গে যুক্ত আছেন।

    “আমরা তুরস্ক থেকে বায়রাক্তার ড্রোন, আরমার্ড ভেহিকেল এরকম অনেক কিছুই আমদানি করি। এই অংশীদারত্বটা আরো বড় হতে পারে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের একটা সুযোগও আসে যে, তুরস্কের মতো একটা দেশের সঙ্গে আমরা জয়েন্ট কোলাবরেশনে গিয়ে কোনোকিছু উন্নত করতে পারি কি-না, বিশেষত মিলিটারি টেকনোলজির ক্ষেত্রে,” যোগ করেন হাসিব আজিজ।

    এছাড়া এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের নৌপথের কৌশলগত সাপ্লাই চেইনকেও শক্তিশালী করবে।

    “আপনি যদি ম্যাপ খেয়াল করেন। বঙ্গোপসাগর, তারপর ভারত মহাসগর এবং এরপরে আরব সাগর। সুতরাং আমরা যখন ভারত মহাসগরকে ক্রস করে যাচ্ছি, তখন যদি আমার ওই অঞ্চলে একটা চুক্তি থাকে, তাহলে সেটা আমাদের প্রবেশাধিকারকে অনেক সহজ করে। আমরা ওখান থেকে এলএনজি আনছি, পেট্রোলিয়াম আসে। সুতরাং সেখানকার কোনো একটা সিগনিফিকেন্ট অ্যাক্টরের সঙ্গে যদি সামরিক সম্পর্ক থাকে, সেটা তো আমার বেনিফিটে কাজ করার কথা। এবং একইসঙ্গে এটা আমার ইকোনমিক লাইফ লাইনকেও সাহায্য করবে,” বলেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক হাসিব আজিজ।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কে অধ্যাপক ড. লাইলুফার ইয়াসমিনও মনে করেন, মক্কা প্যাক্টে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে সমুদ্রে নৌ-চলাচল এবং নিরাপত্তা একটা বড় উদ্দেশ্য।

    তাছাড়া সৌদি আরবে বহুসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি আছেন। দেশটি বাংলাদেশের বৈদেশিক আয়ের একটি প্রধানতম উৎস। সৌদি আরব বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগীও বটে।

    ফলে চুক্তিতে থাকলে সেটা বাংলাদেশের শ্রমিক পাঠানো থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক বিনিয়োগ সহায়তারও নতুন দ্বার খুলতে পারে।

    লাইলুফার ইয়াসমিন
    ছবি: লাইলুফার ইয়াসমিন

    বাংলাদেশের ঝুঁকি কী?

    বাংলাদেশ যদি চুক্তিতে যোগ দেয়, তাহলে ঝুঁকি অনেকগুলোই আছে।

    • প্রথমটিই হচ্ছে, জোটের একটি নির্দিষ্ট নীতি যেখানে বলা হয়েছে, কোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে সেটা জোটের বাকি দেশগুলোর উপরও হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে। ফলে বলা হচ্ছে, নেটোর আদলে এমন কোনো জোটে বাংলাদেশ থাকলে সেটা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করবে।
    • দ্বিতীয়টি হচ্ছে, দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি। মক্কা জোটে পাকিস্তান থাকায় তার প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত শুরু থেকেই এই জোটকে এক ধরনের হুমকি হিসেবেই বিবেচনা করছে। তাছাড়া ভবিষ্যতে ভারত-পাকিস্তান যেকোনো সংঘাতে মক্কা জোটের ভূমিকা কী হবে এবং বাংলাদেশের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পরিস্থিতি তৈরি হবে কি না সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।
    • তৃতীয় হচ্ছে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্টের ঝুঁকি এবং দক্ষিণ এশিয়ায় প্রক্সি ফোর্সের সংখ্যা বাড়তে পারে।

    মক্কা জোটে যাওয়ার আগে বাংলাদেশের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনায় নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক ড. লাইলুফার ইয়াসমিন।

    “আমাদের প্রায়োরিটি অনেকগুলো আছে। সেগেুলো মাথায় রেখে আমাদেরকে চিন্তা করতে হবে যে, আমি একটি সামরিক জোটে জয়েন করতে চাই কি না। একইসঙ্গে আমাকে চিন্তা করতে হবে যে, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের জন্য আমার দক্ষিণ এশিয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ নাকি একটি সামরিক জোটে যোগ দেওয়া বেশি প্রয়োজন।”

    “এখানে অবশ্য বিষয়টা এমন না যে, যেকোনো একটি পথ বেছে নিতে হবে। এখানে দুটোই একইসঙ্গে সম্ভব। কিন্তু চুক্তিতে ডিফেন্স কথাটা যেহেতু আছে এবং ডিফেন্স প্যাক্টের মতো করে এটা চিন্তা করা হচ্ছে, সুতরাং এই এলাকায় এর প্রভাবটাও বিবেচনা করতে হবে” বলেন অধ্যাপক ইয়াসমিন।

    তার মতে, বাংলাদেশ সবসময় সামরিক জোট থেকে দূরে থাকার নীতি অতীতে দেখিয়েছে।

    “বাংলাদেশ এখনো পর্যন্ত কখনই কোনো সামরিক জোটে যোগ দেয়নি। যদি এখন যোগ দিতে চায় তাহলে সেটা হবে প্রথম। সুতরাং কোনো কিছুতে প্রথম হওয়ার আগে জাতীয় পর্যায়ে এটাকে আলোচনা করা দরকার।”

    এছাড়া জোটে পাকিস্তান থাকায় এই জোট নিয়ে ভারতের সতর্ক দৃষ্টি রয়েছে।

    বাংলাদেশের একজন ভূ-রাজনীতির গবেষক ও বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজ মনে করেন, বাংলাদেশ এই জোটে যখনই যুক্ত হবে, তখন প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত এটি নিয়ে উদ্বিগ্ন হবে। যেটি একদিক বিবেচনায় বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকির কারণ হিসেবেও দেখছেন তিনি।

    মি. পারভেজ বলছিলেন, “এটার তাৎক্ষণিক একটি প্রতিক্রিয়াও হতে পারে। কারণ তখন ভারত ভাব পারে সে অনিরাপদ। তখনই সে ইসরায়েলে শরণাপন্ন হতে পারে। এই ইস্যুতে তখন ভারতকে সহযোগিতায় আগ্রহী হতে পারে ইসরায়েল। দক্ষিণ এশিয়ায় তৈরি হতে পারে সামরিক উত্তেজনা।”

    “এ উত্তেজনায় দক্ষিণ এশিয়ায় প্রক্সি ওয়ার এবং প্রক্সি ফোর্সের সংখ্যা বাড়তে পারে। সেদিক থেকে বাংলাদেশ বাড়তি ঝুঁকিতে থাকবে। সেক্ষেত্রে চুক্তিতে ঝুঁকলেও এক ধরনের ঝুঁকি, না ঝুঁকলেও থাকবে আরেক ধরনের ঝুঁকি”।

    মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির তিনটি দেশ হচ্ছে সৌদি আরব, তুরস্ক, পাকিস্তান
    ছবির ক্যাপশান,মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির তিনটি দেশ হচ্ছে সৌদি আরব, তুরস্ক, পাকিস্তান

    এছাড়া প্রতিরক্ষামূলক এই জোটে বাংলাদেশের প্রকৃত অর্থে ভূমিকা রাখার সুযোগ কতটা আছে সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।

    বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্যে কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর মতো সক্ষমতায় নেই।

    তাছাড়া বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ কাজে সৌদি আরবে সৈন্য মোতায়েন করতে পারে। এতে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যাবে। কিন্তু সেখানেও সৌদি আরব মূলত পাকিস্তান নির্ভর।

    তবে বাংলাদেশ জোটে প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়ে ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক হাসিব আজিজ।

    তিনি বলেন, “আমাদের অনেক বড় একটা ফুটপ্রিন্ট জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে আছে। সেখান থেকে এই জোটে আমরা মূলত প্রশিক্ষণ এবং কমপ্লায়েন্স রিলেটেড বিষয়গুলো অফার করতে পারি। কিন্তু যখন স্পর্শকাতর ওই বিষয়টা সামনে আসে যে, বাংলাদেশ এমন একটা প্যাক্টে জয়েন করে সৈন্য পাঠাবে কি না। এমনটা হলে বড় ধরনের আঞ্চলিক এবং বাইরের বিশ্বে নানা রকম ইমপ্লিকেশন আছে।”

    এটা ঠিক বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে একধরনের অসামরিক নীতি রয়েছে। কিন্তু এটাও একটা বাস্তবতা যে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের পর আঞ্চলিক বিশেষত, বাণিজ্যিক নৌরুটের নিরাপত্তার ধারণায় বড় পরিবর্তন এসেছে।

    যেখানে মার্কিন নির্ভরতা কমে যাওয়ায় নিজস্ব নিরাপত্তা বলয় তৈরি করতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে।

    বাংলাদেশ সেই নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ না হয়েই তার অর্থনৈতিক স্বার্থ আদায় করার সুযোগ পেতে থাকবে কি না, সেটাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

    মক্কা জোটে থাকলেই কি যুদ্ধের বাধ্যবাধকতা আছে?

    বিষয়টা মোটেও এরকমও নয়। এখানে দুটি উদাহরণ আছে।

    প্রথমটি হচ্ছে, একইধরনের একটা প্রতিরক্ষা চুক্তি আছে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে। যেটা স্বাক্ষর হয় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে। কিন্তু এরপর সৌদি আরব ইরানের হামলার মুখে পড়লেও পাকিস্তানকে সৌদি আরবের পক্ষে যুদ্ধ করতে হচ্ছে না।

    দ্বিতীয়টি হচ্ছে, বাংলাদেশ নিজেও গত জুলাইয়ে সৌদি আরবের উদ্যোগে একটি সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটে যুক্ত হয়। যার উদ্দেশ্য হচ্ছে, বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা করা। কিন্তু বাব আল-মান্দেবে হুতিদের আক্রমণ হলেও বাংলাদেশকে সেখানে যুদ্ধ করতে হয়নি, সৈন্যও পাঠাতে হয়নি।

    মক্কা জোট নিয়ে জানতে চাইলে তুরস্কের সমরবিশারদ ও হাসান কালিয়ানকু বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক মুরাত আসলান বলেন, এই প্যাক্ট মূলত আত্মরক্ষামূলক চুক্তি।

    ফলে এই জোটে থাকলেই যে যুদ্ধ করতে হবে, ব্যাপারটা তেমন নয়।

    “আপনি এটাকে যদি শুধু সামরিকভাবে দেখেন তাহলে ভুল হবে। কারণ, এটা আসলে কোনো আক্রমণাত্মক জোট নয়, বরং প্রতিরক্ষামূলক। এই জোটের কোনো নির্দিষ্ট শত্রু দেশ নেই। এর প্রাথমিক উদ্দেশ্য হচ্ছে, জোটের দেশগুলো নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ করবে না। এবং তারা নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াবে।”

    একইসঙ্গে মক্কা প্যাক্টকে নেটোর মতো করে এখনই দেখার সুযোগ নেই বলেও মত দেন তিনি।

    “আমি মনে করি না যে এটা একটা নতুন নেটো। কারণ এখানে নেটোর মতো কোনো কমান্ড স্ট্রাকচার নেই, কোনো সেনাবাহিনীও নেই। তাছাড়া এরকম চুক্তি সৌদি-পাকিস্তানের মধ্যেও রয়েছে। সেখানে আমরা দেখি, সৌদি আরব ইরানের হামলার শিকার হলেও পাকিস্তানকে কিন্তু যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে হয়নি। তবে হ্যাঁ, চুক্তিতে কী আছে, সেটা আমরা বিস্তারিত জানি না।”

    তিনি মনে করেন, একটা বৃহত্তর জোট হলে এবং সেই জোটের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা সহযোগিতা থাকলে সেটা অন্য কোনো দেশের হামলাকে এমনিতেই নিরুৎসাহিত করবে।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    আন্তর্জাতিক

    যুক্তরাষ্ট্র থেকে ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী জ্যাভলিন ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে ভারত

    আগস্ট 28, 2026
    বাংলাদেশ

    সীমান্তে ‘বন্দুকযুদ্ধে’র পর ভারতীয় নাগরিক আটক: বিজিবি

    আগস্ট 28, 2026
    বাংলাদেশ

    বাইকের সেই নিথর তরুণী বেঁচে আছেন

    আগস্ট 28, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিলে বাংলাদেশের কী লাভ, কী ঝুঁকি?

    ভূ-রাজনীতি আগস্ট 28, 2026

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.