বিশ্ব রাজনীতি বহুদিন ধরেই অস্থিরতার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। কোথাও সীমান্ত বিরোধ, কোথাও রাষ্ট্রের ভেতরে ক্ষমতার লড়াই, কোথাও আবার আঞ্চলিক আধিপত্যের প্রতিযোগিতা। কিন্তু ২০২৫ সাল এই অস্থিরতাকে এমন এক ভয়াবহ জায়গায় নিয়ে গেছে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরের সময়কে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। নরওয়েভিত্তিক পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট অসলো তাদের বার্ষিক সংঘাত প্রবণতা প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০২৫ সাল ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে সংঘাতপূর্ণ বছরগুলোর একটি। এক বছরে সংঘাতে নিহত হয়েছেন প্রায় আড়াই লাখ মানুষ।
এই সংখ্যা শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়। এর পেছনে আছে ভেঙে যাওয়া পরিবার, ধ্বংস হয়ে যাওয়া শহর, শরণার্থী শিবিরে ঠাঁই নেওয়া মানুষ, অনিশ্চিত শিশুকাল এবং এমন এক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা, যা ক্রমেই সংঘাত ঠেকাতে অক্ষম হয়ে পড়ছে। ২০২৫ সালে বিশ্বের নানা প্রান্তে যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে, তা দেখিয়ে দিয়েছে যে যুদ্ধ আর কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের সংকট নয়। এটি এখন বৈশ্বিক নিরাপত্তা, অর্থনীতি, খাদ্য সরবরাহ, মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির গভীর সংকট।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে অন্তত ৬৫টি সংঘাত তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে অন্তত একটি রাষ্ট্র সরাসরি জড়িত ছিল। ১৯৪৬ সালের পর এই সংখ্যা সর্বোচ্চ। অর্থাৎ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা যতবারই শান্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, ২০২৫ সালের বাস্তবতা সেই প্রতিশ্রুতিকে কঠিন প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়েছে। শুধু সংঘাতের সংখ্যা নয়, রাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষের সংখ্যাও ৮০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আগের বছরের তুলনায় তা দ্বিগুণ হয়ে আটটিতে দাঁড়িয়েছে।
এই আটটি আন্তরাষ্ট্রীয় সংঘাতের মধ্যে রয়েছে ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত সংঘর্ষ, আফগানিস্তান-পাকিস্তান উত্তেজনা, কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্ত বিরোধ, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন এবং সিরিয়ায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান। এসব সংঘাতের প্রতিটি ভিন্ন ভিন্ন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা থেকে জন্ম নিয়েছে। কিন্তু এগুলোর মধ্যে একটি সাধারণ মিল আছে—রাষ্ট্রগুলো এখন আগের তুলনায় বেশি দ্রুত সামরিক প্রতিক্রিয়ায় যাচ্ছে এবং কূটনৈতিক পথ ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়ছে।
২০২৫ সালের ভয়াবহতার সবচেয়ে করুণ দিক হলো বেসামরিক মানুষের মৃত্যু। সরাসরি যুদ্ধ অথবা রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন দুই লাখ ৪৫ হাজার মানুষ। তাদের মধ্যে ৭৬ হাজার ৫০০ জন ছিলেন বেসামরিক মানুষ, যাদের সরাসরি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ১৪ হাজার ২০০। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে সহিংসতা ভয়াবহভাবে বেড়েছে। এটি শুধু যুদ্ধের বিস্তার নয়, যুদ্ধের চরিত্র বদলে যাওয়ারও ইঙ্গিত দেয়।
আগে যুদ্ধের ভাষায় সেনা, সীমান্ত ও কৌশলগত স্থাপনার কথা বেশি বলা হতো। এখন যুদ্ধের কেন্দ্রে চলে এসেছে শহর, গ্রাম, আশ্রয়শিবির, হাসপাতাল, খাদ্যপথ এবং সাধারণ মানুষের বসতি। বেসামরিক মানুষকে ভয় দেখানো, উচ্ছেদ করা, ক্ষুধায় ফেলা বা সরাসরি হত্যা করা অনেক সংঘাতে কৌশলের অংশ হয়ে উঠছে। এই প্রবণতা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
বেসামরিক মৃত্যু বেড়ে যাওয়ার পেছনে সুদানের সংঘাতকে বড় কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। সুদানে সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনীর মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘর্ষ দেশটিকে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে দারফুর অঞ্চলের এল-ফাশের শহরে অবরোধ ও গণহত্যার ঘটনায় প্রায় ৬০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই শহরের ঘটনাই দেখিয়ে দিয়েছে, আধুনিক সংঘাতে একটি নগরী কীভাবে ধীরে ধীরে মৃত্যুকূপে পরিণত হতে পারে।
সুদানের ঘটনা শুধু একটি দেশের অভ্যন্তরীণ সংকট হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি আন্তর্জাতিক ব্যর্থতার প্রতীক। দীর্ঘদিন ধরে সতর্কতা ছিল, সহিংসতা বাড়ছিল, সাধারণ মানুষ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ছিল। তবুও কার্যকর আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ দেখা যায়নি। মানবিক সহায়তা বাধাগ্রস্ত হয়েছে, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দুর্বল ছিল এবং সংঘাত থামাতে বৈশ্বিক শক্তিগুলোর অবস্থান ছিল বিভক্ত। ফলে স্থানীয় সংঘাত ধীরে ধীরে বড় গণহত্যার আশঙ্কায় রূপ নেয়।
স্নায়ুযুদ্ধের অবসানের পর ২০২৫ সাল ছিল তৃতীয় সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর। এর আগে শুধু ১৯৯৪ ও ২০২১ সালে গত বছরের চেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছিল। ১৯৯৪ সালে রুয়ান্ডার গণহত্যা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। আর ২০২১ সালে ইথিওপিয়ার টিগ্রে অঞ্চলের যুদ্ধ বড় প্রাণহানির কারণ হয়েছিল। এই তুলনা ২০২৫ সালের ভয়াবহতা বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি দেখায়, বিশ্ব একবিংশ শতাব্দীতে এসেও গণহত্যা, অবরোধ, রাষ্ট্রীয় সহিংসতা এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের চক্র থেকে বের হতে পারেনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সবচেয়ে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল ছিল আফ্রিকা মহাদেশ। সেখানে ২৯টি সংঘাত তালিকাভুক্ত হয়েছে। আফ্রিকার বহু দেশ দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় দুর্বলতা, সম্পদ নিয়ে প্রতিযোগিতা, জাতিগত উত্তেজনা, সীমান্ত সমস্যা, সশস্ত্র গোষ্ঠীর উত্থান এবং বিদেশি প্রভাবের জটিলতায় আটকে আছে। সুদান, কঙ্গো, সাহেল অঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় সংঘাত কেবল নিরাপত্তা সমস্যা নয়; এটি খাদ্য, জলবায়ু, বাস্তুচ্যুতি এবং দারিদ্র্যের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত।
আফ্রিকার পর সংঘাতের তালিকায় রয়েছে এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, আমেরিকা মহাদেশ ও ইউরোপ। এই বিস্তার প্রমাণ করে, সংঘাত এখন কোনো এক মহাদেশের সমস্যা নয়। ইউক্রেন যুদ্ধ ইউরোপের নিরাপত্তা ধারণাকে পাল্টে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে গাজা, সিরিয়া, লেবানন, ইরান এবং ইয়েমেন ঘিরে অস্থিরতা আঞ্চলিক সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করেছে। এশিয়ায় সীমান্ত উত্তেজনা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিযোগিতা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। আমেরিকা মহাদেশেও রাজনৈতিক সহিংসতা, অপরাধী গোষ্ঠীর বিস্তার এবং রাষ্ট্রীয় দুর্বলতা নিরাপত্তা সংকট বাড়াচ্ছে।
পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট অসলো–এর গবেষক সিরি আস রুস্তাদ বলেছেন, এ বছরের সংখ্যাগুলো অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সাধারণত বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপনের সময় কিছু ইতিবাচক দিক তুলে ধরা যায়, কিন্তু ২০২৫ সালের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ খুব কম। তাঁর পর্যবেক্ষণ হলো, গত পাঁচ-ছয় বছরে একের পর এক বড় সংঘাত শুরু হয়েছে এবং বিশ্ব যেন কোনো বিরতিই পায়নি। এই মন্তব্য বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার গভীর দুর্বলতাকে সামনে আনে।
আগের সময়ের সংঘাতগুলোর অনেক ক্ষেত্রেই একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ড বা সীমিত সামরিক লক্ষ্য ছিল। এখন সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে, এক অঞ্চল থেকে আরেক অঞ্চলে প্রভাব ফেলছে এবং বহু পক্ষ জড়িয়ে পড়ছে। রাষ্ট্রীয় বাহিনী, আধাসামরিক গোষ্ঠী, বিদ্রোহী সংগঠন, বিদেশি মিত্র, ভাড়াটে যোদ্ধা এবং প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধ—সব মিলিয়ে সংঘাতের ধরন আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ফলে যুদ্ধ থামানো যেমন কঠিন, তেমনি দায় নির্ধারণও কঠিন হয়ে পড়ছে।
প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে উপসালা সংঘাত তথ্য কর্মসূচির তথ্যের ভিত্তিতে। এতে সংঘবদ্ধ সহিংসতার তিনটি ধরন চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রথমটি রাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট সংঘাত, যেখানে রাষ্ট্র সরাসরি লড়াইয়ের পক্ষ। দ্বিতীয়টি অ-রাষ্ট্রীয় গোষ্ঠীর সংঘাত, যেখানে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো পরস্পর বা রাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। তৃতীয়টি বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে একতরফা সহিংসতা, যেখানে সাধারণ মানুষকে সরাসরি লক্ষ্য করা হয়। ২০২৫ সালে এই তিন ক্ষেত্রেই উদ্বেগজনক প্রবণতা দেখা গেছে।
ইসরায়েলের ভূমিকাও প্রতিবেদনের আলোচনায় বিশেষভাবে এসেছে। সিরি আস রুস্তাদের মতে, বিশ্বের সবচেয়ে আগ্রাসী দেশগুলোর মধ্যে ইসরায়েল অন্যতম। দেশটি একইসঙ্গে গাজা, সিরিয়া, লেবানন, ইরান ও হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে আছে। এই বহুমুখী সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। গাজা যুদ্ধের মানবিক বিপর্যয়, সিরিয়ায় সামরিক অভিযান, লেবানন সীমান্তে উত্তেজনা এবং ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য আবারও বিশ্ব নিরাপত্তার কেন্দ্রীয় সংকটে পরিণত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাও আলোচনায় এসেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরে আসার পর হামলা ও সহিংসতার মাত্রা বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে। পাশাপাশি বৈদেশিক বাণিজ্যেও নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। এই বাস্তবতা দেখায়, বৈশ্বিক নেতৃত্বের ধরন বদলে গেলে আন্তর্জাতিক সংঘাত ব্যবস্থাপনাতেও তার প্রভাব পড়ে। বড় শক্তিগুলোর মধ্যে সহযোগিতা দুর্বল হলে ছোট ও মাঝারি সংঘাতগুলো দ্রুত বড় আকার নিতে পারে।
বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সংকট হলো মেরুকরণ। একসময় সংঘাত ঠেকাতে বড় শক্তিগুলো অন্তত কিছু বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করত। এখন সেই সহযোগিতার জায়গা অনেকটাই ক্ষয়ে গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ বহু বড় সংকটে কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। স্থায়ী সদস্যদের ভেটো, ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা এবং পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। ফলে সংঘাতের পক্ষগুলো অনেক সময় মনে করছে, তাদের থামানোর মতো শক্তিশালী আন্তর্জাতিক চাপ নেই।
এই পরিস্থিতি শুধু যুদ্ধক্ষেত্রের মানুষকে নয়, পুরো বিশ্বকে প্রভাবিত করছে। সংঘাত বাড়লে খাদ্য সরবরাহ ব্যাহত হয়, জ্বালানি বাজার অস্থির হয়, শরণার্থী সংকট বাড়ে, বাণিজ্যপথ ঝুঁকিতে পড়ে এবং উন্নয়ন ব্যয় সামরিক ব্যয়ে পরিণত হয়। যুদ্ধের খরচ শুধু বন্দুক বা গোলাবারুদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর খরচ বহন করে শিশুদের শিক্ষা, রোগীদের চিকিৎসা, কৃষকের ফসল, শ্রমিকের আয় এবং সাধারণ মানুষের ভবিষ্যৎ।
২০২৫ সালের সংঘাতপ্রবণতা তাই একটি সতর্কবার্তা। এটি বলছে, বিশ্ব শুধু বেশি যুদ্ধ দেখছে না; বরং যুদ্ধ প্রতিরোধের প্রতিষ্ঠানগুলোও দুর্বল হয়ে পড়ছে। কূটনীতি পিছিয়ে যাচ্ছে, সামরিক সমাধানের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে এবং সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছে। এই ধারা চলতে থাকলে আগামী বছরগুলোতে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, অনেক সংঘাত এখন দীর্ঘস্থায়ী হয়ে গেছে। কোনো কোনো যুদ্ধ শুরু হয়েছে বহু বছর আগে, কিন্তু শেষের লক্ষণ নেই। আবার নতুন সংঘাত পুরোনো সংঘাতের ওপর চাপ তৈরি করছে। এক জায়গার যুদ্ধ অন্য জায়গার অস্ত্র, জ্বালানি, খাদ্য ও রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রভাবিত করছে। ফলে বিশ্ব এখন বিচ্ছিন্ন সংকটের যুগে নয়, বরং সংযুক্ত সংঘাতের যুগে প্রবেশ করেছে।
এই বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে কয়েকটি জরুরি কাজ আছে। প্রথমত, বেসামরিক মানুষের সুরক্ষাকে কথার বাইরে বাস্তব নীতিতে পরিণত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার দায়মুক্তি বন্ধ করতে হবে। তৃতীয়ত, জাতিসংঘসহ বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর করার রাজনৈতিক সদিচ্ছা তৈরি করতে হবে। চতুর্থত, সীমান্ত বিরোধ ও অভ্যন্তরীণ সংঘাতকে বড় যুদ্ধ হওয়ার আগেই থামাতে কূটনৈতিক ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
২০২৫ সাল তাই ইতিহাসের একটি অন্ধকার বছর হিসেবে থেকে যেতে পারে। কিন্তু এটিকে শুধু অতীতের হিসাব হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি ভবিষ্যতের সতর্ক সংকেত। যদি বিশ্ব নেতৃত্ব সংঘাতের কারণগুলো নিয়ে আন্তরিকভাবে কাজ না করে, যদি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার না দেয়, যদি আন্তর্জাতিক আইনকে কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ রাখে, তাহলে ২০২৫ সালের রক্তাক্ত হিসাব ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ হয়ে ফিরে আসতে পারে।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি খুব সরল: বিশ্ব কি যুদ্ধকে স্বাভাবিক বাস্তবতা হিসেবে মেনে নেবে, নাকি শান্তিকে আবার রাজনৈতিক অগ্রাধিকার বানাবে? ২০২৫ সালের আড়াই লাখ প্রাণহানি আমাদের সামনে সেই কঠিন প্রশ্নই রেখে গেছে।

