মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে এবার জর্ডানে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মহাকাশ ইউনিটের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন সেনাদের ব্যবহৃত ওই ঘাঁটিতে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে আঘাত হেনেছে এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইরানের দাবি—হামলায় ঘাঁটির বেশ কয়েকটি কৌশলগত স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে আধুনিক যুদ্ধবিমান সংরক্ষণের হ্যাঙ্গার এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রও রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই অভিযান কোনো বিচ্ছিন্ন হামলা নয়; বরং সাম্প্রতিক সংঘাতের ধারাবাহিকতায় পরিচালিত বৃহত্তর পাল্টা সামরিক কর্মসূচির অংশ। তাদের দাবি, এই অভিযানের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত মার্কিন সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধে একযোগে আঘাত হানা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অভিযানের আওতায় মোট ২১টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করা যুক্তরাষ্ট্রের একটি মানববিহীন নজরদারি উড়োজাহাজও ভূপাতিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। যদিও এসব দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে যে সামরিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, এই হামলার দাবি সেই সংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগর ও আশপাশের অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে।
ইরান তাদের বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছে, ভবিষ্যতে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কোনো নতুন সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার জবাব আরও কঠোর ও ব্যাপক হতে পারে। একই সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে তার দায় যুক্তরাষ্ট্রকেই নিতে হবে বলেও দাবি করেছে তারা।
এদিকে এই ঘটনার পর পার্শ্ববর্তী কুয়েতেও সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। দেশটির সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং সম্ভাব্য যেকোনো আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত আছে।
কুয়েতের সামরিক কর্তৃপক্ষ সাধারণ নাগরিকদের সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে গুজব বা অনির্ভরযোগ্য তথ্য এড়িয়ে কেবল সরকারি সূত্রের তথ্যের ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও নতুন নতুন সামরিক ঘটনার ফলে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ফলে আগামী দিনগুলোতে এই সংকট কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

