হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ও আলোচিত দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে সম্প্রতি হওয়া সমঝোতার ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথটি স্থায়ীভাবে টোলমুক্ত থাকবে। বিষয়টি আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাণিজ্যে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রোববার, ১৪ জুন, নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সমঝোতার কাঠামোর ফলে হরমুজ প্রণালিতে চলাচল আগের তুলনায় আরও সহজ হবে এবং সেখানে কোনো ধরনের টোল আরোপ থাকবে না।
একই সাক্ষাৎকারে তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, যদি ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তবে পরিস্থিতি আবারও সামরিক সংঘাতের দিকে যেতে পারে। অর্থাৎ, আলোচনার পাশাপাশি চাপের কৌশলও সমানভাবে বজায় রাখছেন তিনি।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, চুক্তি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এমনকি তিনি অঞ্চলটির অর্থনৈতিক প্রবাহের একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার সঙ্গে যুক্ত থাকার ইঙ্গিতও দেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।
তিনি আগের অবস্থানের পুনরাবৃত্তি করে বলেন, ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ এবং পরবর্তী নৌ-অবরোধের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের অনুকূলে এসেছে। তাঁর মতে, এই চাপই বর্তমান কূটনৈতিক অগ্রগতির পথ তৈরি করেছে।
তবে এখনো স্পষ্ট নয়, চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পরবর্তী সময়ে তিনি একই অবস্থান বজায় রেখেছেন কি না বা নতুন কোনো আলোচনা হয়েছে কি না।
অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি কাঠামোগত সমঝোতা হয়েছে, যেখানে যুদ্ধবিরতি, নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং হরমুজ প্রণালির কার্যক্রম পুনরায় স্বাভাবিক করার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
চুক্তি ঘোষণার পর সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা চূড়ান্ত হয়েছে।
এর আগে মধ্যস্থতাকারী পক্ষ হিসেবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানান, আলোচনার মাধ্যমে সোমবার ভোরে এই সমঝোতা অর্জিত হয়েছে।
সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে অনিশ্চয়তা ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

