যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকীকে সামনে রেখে নতুন এক স্মারক পাসপোর্টের নকশা প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন এই বিশেষ সংস্করণের পাসপোর্টে ট্রাম্পের একটি গম্ভীর ও কঠোর মুখভঙ্গির ছবি যুক্ত করা হয়েছে, যা প্রকাশের পরপরই দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ পাসপোর্টটির নমুনা প্রকাশ করেন ট্রাম্প। ছবির সঙ্গে তিনি সংক্ষিপ্ত একটি বার্তা লেখেন— ‘যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পাসপোর্ট।’ পাসপোর্টের প্রচ্ছদে আরও একটি বাক্য ব্যবহার করা হয়েছে— ‘স্বাগত, তবে ভদ্রভাবে থাকুন।’
নতুন নকশাটি যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদ্যাপনের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে ট্রাম্পের প্রতিকৃতিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, তিনি একটি ডেস্কের ওপর ভর দিয়ে গম্ভীর ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছেন এবং নিচে তাঁর স্বাক্ষরও সংযুক্ত রয়েছে।
পাসপোর্টের নকশায় ট্রাম্পের ছবির পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মূল পাঠ ব্যবহার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই প্রতিকৃতির ভিত্তি হিসেবে হোয়াইট হাউসের আলোকচিত্রী ড্যানিয়েল টোরোকের তোলা একটি ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।
পাসপোর্টের ভেতরের আরেকটি পাতায় ১৭৭৬ সালে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরের ঐতিহাসিক দৃশ্যের একটি চিত্রকর্ম সংযোজন করা হয়েছে। পাশাপাশি সেখানে ‘ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা ২৫০’ লেখা রয়েছে, যা দেশের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তির প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
হোয়াইট হাউসও একই নকশার পাসপোর্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে এটিকে ‘প্যাট্রিয়ট পাসপোর্ট’ নামে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটি জাতীয় ইতিহাস ও দেশপ্রেমের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, আগামী ৬ জুলাই থেকে এই বিশেষ সংস্করণের স্মারক পাসপোর্ট বিতরণ শুরু হবে। তবে এর বিস্তারিত কার্যক্রম সম্পর্কে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো অতিরিক্ত মন্তব্য করেনি।
গত এপ্রিল মাসে পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, ট্রাম্প-থিমের এই স্মারক পাসপোর্ট কেবল ওয়াশিংটনে সরাসরি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে সংগ্রহ করা যাবে। এছাড়া সীমিত সংখ্যক পাসপোর্ট প্রস্তুত করা হয়েছে এবং মজুত শেষ হওয়া পর্যন্তই এগুলো বিতরণ করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই পাসপোর্ট কেবল একটি স্মারক নথি নয়; এটি সরকারি বিভিন্ন উদ্যোগে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। এর আগে বিভিন্ন সরকারি ভবনের বাইরে তাঁর প্রতিকৃতিসংবলিত ব্যানার টাঙানো হয়েছে। পাশাপাশি ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এক ডলারের নোটেও ট্রাম্পের স্বাক্ষর যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন এই পাসপোর্ট কার্যকর হলে ট্রাম্পই হবেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম দায়িত্ব পালনরত প্রেসিডেন্ট, যার ছবি দেশটির নাগরিকদের জন্য প্রকাশিত বিশেষ স্মারক ভ্রমণ নথিতে অন্তর্ভুক্ত হবে। এ কারণে বিষয়টি যেমন তাঁর সমর্থকদের কাছে একটি ঐতিহাসিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে, তেমনি সমালোচকদের মধ্যেও এটি নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

