থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত আটজন বৌদ্ধ ভিক্ষুর মৃত্যু হয়েছে। তীর্থযাত্রার উদ্দেশ্যে পদযাত্রায় থাকা ভিক্ষুদের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি পিকআপ গাড়ি উঠে গেলে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় আরও ১৪ জন আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দেশটির মুকদাহান প্রদেশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পিকআপটি চালাচ্ছিল ১১ বছর বয়সী এক শিশু। দুর্ঘটনার পর তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। শিশু সুরক্ষা কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী ব্যাংকক থেকে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত মুকদাহান প্রদেশ থেকে মোট ৩৫ জন বৌদ্ধ ভিক্ষু পদযাত্রা শুরু করেছিলেন। তাঁদের গন্তব্য ছিল প্রায় ২৬০ কিলোমিটার দূরের উবন রাচাথানি প্রদেশ। যাত্রা শুরুর মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যেই ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা ঘটে।
মুকদাহানের গভর্নর ওয়ারায়ান বুননারাত জানান, ঘটনাস্থলেই পাঁচজন ভিক্ষুর মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজন মারা যান। আহত ১৪ জনকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে চারজনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় উদ্ধারকারী সংস্থার প্রকাশিত নজরদারি ক্যামেরার ভিডিওতে দেখা যায়, ভিক্ষুরা সড়কের একপাশে সারিবদ্ধভাবে হেঁটে যাচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় একটি পিকআপ গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাঁদের ওপর উঠে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই শান্ত পরিবেশ রূপ নেয় বিভীষিকায়।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে প্রত্যক্ষদর্শী ভিক্ষুদের প্রাথমিক বর্ণনা অনুযায়ী, দুর্ঘটনার আগে পিকআপটি সড়কে অস্বাভাবিকভাবে দুলছিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার বাইরে চলে গিয়ে পদযাত্রারত ভিক্ষুদের আঘাত করে।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে কীভাবে ১১ বছর বয়সী একটি শিশু পিকআপ চালাচ্ছিল এবং এতে কোনো প্রাপ্তবয়স্কের অবহেলা ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিশ্লেষকদের মতে, এই দুর্ঘটনা শুধু একটি সড়ক দুর্ঘটনাই নয়, বরং শিশুদের হাতে যানবাহন তুলে দেওয়ার ঝুঁকি এবং সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার বিষয়টিও সামনে নিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে ধর্মীয় পদযাত্রার মতো আয়োজনে অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় থাইল্যান্ডজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত ভিক্ষুদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও ধর্মীয় নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বিভিন্ন মহল থেকে সহমর্মিতার বার্তাও জানানো হচ্ছে।

