মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে গাজা, লেবানন ও সিরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলের সামরিক উপস্থিতি এবং ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে ইসরাইল যেসব এলাকাকে ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ হিসেবে বর্ণনা করছে, সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে দেশটি। অন্যদিকে সমালোচকরা বলছেন, এই নীতির ফলে প্রতিবেশী ভূখণ্ডে দীর্ঘমেয়াদি দখলদারির বাস্তবতা তৈরি হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সংঘাতের পর গাজার বিস্তীর্ণ এলাকায় ইসরাইলি বাহিনীর উপস্থিতি বেড়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূখণ্ডের উল্লেখযোগ্য অংশ এখন ইসরাইলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যুদ্ধের কারণে বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়ে সীমিত এলাকায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। ধ্বংস হয়েছে বহু বসতবাড়ি, কৃষিজমি এবং স্থানীয় অবকাঠামো। যেখানে একসময় কৃষিকাজ ও স্বাভাবিক জনজীবন ছিল, সেখানে এখন সামরিক স্থাপনা ও সেনা টহল দেখা যাচ্ছে।
একই ধরনের পরিস্থিতি দক্ষিণ লেবাননেও তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সেখানে সংঘাতের পর কয়েকশ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ইসরাইলি বাহিনীর উপস্থিতি রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এর ফলে বহু মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। স্থানীয় অনেক গ্রামও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সিরিয়ার গোলান মালভূমি নিয়েও দীর্ঘদিনের বিরোধ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর ইসরাইল যে অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নেয়, সেটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এখনও বিতর্কিত। ২০২৪ সালে সিরিয়ার রাজনৈতিক অস্থিরতার পর ওই অঞ্চলে ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণ আরও বিস্তৃত হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক মহলের একটি অংশ, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, লেবাননের কিছু এলাকা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে দ্য গার্ডিয়ান–এর এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে যে তারা গাজা, লেবানন ও সিরিয়ার দখলকৃত ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’গুলোতে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে চায়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত বুধবার রাতে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কার্টজ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ–এর সঙ্গে আলোচনায় এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে এসব এলাকায় সেনা মোতায়েন অব্যাহত রাখাকে ইসরাইল প্রয়োজনীয় মনে করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। কারণ একদিকে ইসরাইল নিরাপত্তার যুক্তি তুলে ধরছে, অন্যদিকে দখলকৃত ভূখণ্ডের ভবিষ্যৎ, বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রত্যাবর্তন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।

