রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে অংশ নিতে গিয়ে এখন পর্যন্ত পেরুর ১১ নাগরিক নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে আরও ১১৪ জনের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। রোববার (৯ আগস্ট) পেরুর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে রাশিয়া থেকে ৩১ জন পেরুভিয়ান নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সরকারি হিসাব বলছে, মোট ৪৫৯ জন পেরুভিয়ান নাগরিক কোনো না কোনোভাবে এই যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন।
তাদের মধ্যে ১১ জন নিহত হয়েছেন, ১১৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন এবং তিনজন ইউক্রেনীয় বাহিনীর হাতে বন্দি হয়েছেন বলে জানিয়েছে পেরুর সরকার।
এদিকে রাশিয়ায় অবস্থানরত আরও দুই পেরুভিয়ান নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে মস্কোয় থাকা পেরুর দূতাবাসের কনস্যুলার বিভাগ। পাশাপাশি কনস্যুলার কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর জুলাইয়ের শেষ দিকে আরও দুই নাগরিক দেশে ফিরে গেছেন।
যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ভুয়া চাকরির প্রস্তাবের ব্যাপারেও নিজেদের নাগরিকদের সতর্ক করেছে পেরু সরকার। এসব প্রস্তাবের আড়ালে মানবপাচারকারী চক্র বিদেশে যাওয়ার জন্য মানুষকে প্রলুব্ধ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
বিদেশি কোনো দেশের সশস্ত্র বাহিনীতে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রেও সরকারি অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে বলে নাগরিকদের মনে করিয়ে দিয়েছে পেরুর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য জাতীয় পুলিশ ও সরকারি কৌঁসুলির দপ্তরে জানানোর আহ্বানও জানানো হয়েছে।
নিখোঁজ বা ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের সদস্যরা মস্কো ও ওয়ারশতে থাকা পেরুর কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন বলে জানিয়েছে সরকার।
পেরুর স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রুশ বাহিনীতে যোগ দেওয়া স্বজনদের দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে অনেক পরিবারের সদস্য লিমায় রাশিয়ার দূতাবাসের সামনে অবস্থান নিয়েছেন। নিখোঁজদের অবস্থান জানানো এবং আহতদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিও জানিয়েছেন তারা।
তবে নিখোঁজের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন একটি দাবি সামনে এসেছে। পরিবারগুলোর এক মুখপাত্রের ভাষ্য, তাদের কাছে এমন তথ্য রয়েছে যে অন্তত ১৫০ জন পেরুভিয়ান নিহত হয়েছেন। যদিও এই সংখ্যা এখনো পেরু সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
নিখোঁজ নাগরিকদের সন্ধানে পেরু সরকার আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির সহায়তাও চেয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের অবস্থান শনাক্ত এবং পরিবারের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দেওয়াই এখন সরকারের অন্যতম প্রধান উদ্যোগ।

