ভারতের বিহার রাজ্যের একটি মন্দিরে গুজবকে কেন্দ্র করে হুড়োহুড়ির ঘটনায় অন্তত সাত নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোরে বিহারের লখিসরাই জেলার অশোক ধাম মন্দিরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ভোরে পূজা দিতে মন্দিরে বিপুলসংখ্যক পুণ্যার্থী জড়ো হয়েছিলেন। সেই সময় একটি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়াকে কেন্দ্র করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
মন্দিরের কর্মকর্তা শৈলেন্দ্র কুমার জানান, বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ার পর তার ছিঁড়ে পুণ্যার্থীদের ওপর পড়ে গেছে—এমন একটি গুজব ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সেখানে থাকা মানুষজন।
বিশেষ করে নারীদের সারিতে এ আতঙ্ক দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার চেষ্টা করলে শুরু হয় হুড়োহুড়ি। একপর্যায়ে কয়েকজন নারী পড়ে গেলে তাদের ওপর দিয়ে অন্যরা চলে যাওয়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এতে ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাত নারীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। তবে আহতের সঠিক সংখ্যা এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রমের পাশাপাশি হতাহতদের সংখ্যা যাচাইয়ের কাজ চলছে।
ঘটনার পর মন্দির এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ শুরু করেন। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী ঘটনাটিতে শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি আহতদের দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
ঘটনাটি আবারও দেখিয়ে দিল, ধর্মীয় স্থানে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হলে সামান্য আতঙ্ক বা গুজবও কতটা ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে সংকীর্ণ জায়গায় ভিড় নিয়ন্ত্রণ, জরুরি বের হওয়ার পথ এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা না থাকলে মুহূর্তের ভুল বোঝাবুঝি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনায় রূপ নিতে পারে।

