বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যদি ভারত সফরে যান, তাহলে তা দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন করে চাঙা করার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধানের একটি সুযোগ এনে দিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের সাবেক কূটনীতিক বিদ্যা ভূষণ সোনি। সোমবার ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বর্তমানে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে দিল্লি ও ঢাকার মধ্যে আলোচনা চলছে। এ প্রসঙ্গে সোনি জানান, তিনি বেশ আশাবাদী। তার মতে, দুই দেশের মধ্যে এমন অনেক বিষয় এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে, যেগুলোর সমাধান জরুরি—এর মধ্যে তিস্তা নদীর প্রসঙ্গটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, অতীতে বেশিরভাগ বিষয়েই দুই পক্ষ একমত হয়েছিল, তবে পরবর্তীতে কিছু সূক্ষ্ম খুঁটিনাটি বিষয় আলোচনার বাইরে থেকে যায়।
রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট প্রসঙ্গেও কথা বলেন এই সাবেক কূটনীতিক। তার ধারণা, এ বিষয়ে বাংলাদেশ ভারতের কাছ থেকে আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করে। সোনি মনে করেন, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করা ছাড়া এই সংকটে ভারতের সরাসরি করণীয় সীমিত, কারণ মিয়ানমার প্রশাসনের ওপর ভারতের একটি প্রভাব রয়েছে। তার মতে, সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে মিয়ানমার প্রসঙ্গে ভারতের সহযোগিতা চাইতে পারে।
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার নিয়েও ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন সোনি। তিনি বলেন, তারেক রহমান তুলনামূলক অনেক বেশি উদার ও খোলামেলা মানসিকতার মানুষ বলে তার মনে হয়েছে। তিনি ভারতবিরোধী কোনো অবস্থান নেননি, এমনকি এমন কোনো বক্তব্যও দেননি যা ভারতবিরোধী বলে চিহ্নিত করা যায়। এই কারণেই ভারত সতর্কতার সঙ্গে হলেও সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার পথ খুঁজছে বলে তিনি মনে করেন।
তবে দুই দেশের সরকারি মুখপাত্রদের বিভিন্ন মন্তব্য প্রসঙ্গে সোনি একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত যা কিছু বলা হয়েছে তা মূলত সরকারি পর্যায়ের রাজনৈতিক বক্তব্য—রাজনীতিবিদরা নিজেরা এখনো এ নিয়ে সরাসরি কিছু বলেননি। এই কারণেই তার মনে হয়, সফর হওয়ার সম্ভাবনা এখনো টিকে আছে এবং এই বিষয়ে তিনি যথেষ্ট আশাবাদী।
সাক্ষাৎকারের শেষ দিকে সোনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা হাতছাড়া করা উচিত হবে না। তার ভাষ্যে, তারেক রহমান যদি এই সফরে না আসেন, তাহলে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার এই সম্ভাবনার দুয়ার বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য যোগাযোগের চ্যানেলটি অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে। উভয় পক্ষই এই সুযোগ হারাতে চায় না বলে মনে করেন তিনি, আর এ কারণেই তিনি সামগ্রিকভাবে বেশ আশাবাদী।

