পাকিস্তানের চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস (সিডিএফ) ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির আজ সোমবার ইরান সফর করবেন। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যেই তার এই সফর বলে জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সূত্র: ডন
রোববার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। পাকিস্তানের গণমাধ্যম ডনও এ খবর জানিয়েছে।
ইসমাইল বাঘাই বলেন, আসিম মুনির একটি সরকারি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন। এই সফরের মূল লক্ষ্য ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করা। পাশাপাশি অঞ্চলটিতে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতামূলক উদ্যোগ অব্যাহত রাখাও সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য।
সফরকালে আসিম মুনির ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও বৈঠক করবেন বলেও জানান ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।
আসিম মুনিরের এই সফরের খবর এমন এক সময়ে সামনে এলো যখন ইরানের বিরুদ্ধে বড় আকারে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব নিষেধাজ্ঞা ইতিমধ্যে সংকটে থাকা ইরানের অর্থনীতির ওপর আরও চাপ তৈরি করতে পারে।
এর জবাবে বড় ধরনের সামরিক অভিযানে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান। এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই তেহরানে যাচ্ছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান।
সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে নেওয়া এসব ব্যবস্থা হবে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা’।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে চান। এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ইরানকে যেকোনো ধরনের সহায়তা দেওয়া দেশের বিরুদ্ধেও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন তিনি।
এদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করা অনুমোদনহীন যেকোনো তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার হুমকি দিয়েছে তেহরান। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতি ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের মধ্যে পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া চলমান যুদ্ধে দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দিয়ে আসছে ইসলামাবাদ।
যুদ্ধ শুরুর দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ৮ এপ্রিল দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকরে মধ্যস্থতা করে পাকিস্তান। এরপর ১১ ও ১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার ফলে ১৭ জুন জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়। যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের লক্ষ্যে ওই সমঝোতা স্মারকে একটি কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল। তবে সম্প্রতি ওই চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এতে ৬০ দিনের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের শর্ত দেওয়া হয়েছিল।
দুই পক্ষের সংঘাত কিছুদিন বন্ধ থাকলেও হরমুজে অননুমোদিত জাহাজ চলাচলকে কেন্দ্র করে আবারও হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হয়।
তবে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলেও পাকিস্তান তার মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তানের সিডিএফ আসিম মুনির এবং দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি একাধিকবার ইরান সফর করেছেন।
২০২৬ সালের এপ্রিলে ইরান সফরের সময় আসিম মুনির দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

