ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরে বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে একটি যাত্রীবাহী জাহাজ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় শুরু হয়েছে ব্যাপক উদ্ধার তৎপরতা। জাহাজটিতে মোট ২৪৩ জন আরোহী ছিলেন বলে জানিয়েছে দেশটির জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা (বাসারনাস)। স্থানীয় সময় রোববার ভোররাতে জাহাজটির সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যে উদ্ধার অভিযানে একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে, আর জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে অন্তত ১০২ জনকে। বাকি আরোহীদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান এখনো চলমান রয়েছে।
ভার্গো ট্রান্সপোর্ট ৮ নামের জাহাজটি শনিবার পূর্ব জাভার সুরাবায়া বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে দক্ষিণ কালিমান্তানের বানজারমাসিনের উদ্দেশে রওনা দেয়। যাত্রাপথে জাভা সাগরে প্রবল ঝড়ের কবলে পড়ে জাহাজটি। স্থানীয় সময় রাত দুইটার দিকে বানজারমাসিন থেকে প্রায় দেড়শ কিলোমিটার দক্ষিণে থাকা অবস্থায় জাহাজটির সঙ্গে শেষবারের মতো যোগাযোগ হয়েছিল বলে জানা গেছে।
উদ্ধারকারী সংস্থা জানিয়েছে, বিবৃতি প্রকাশের সময় পর্যন্ত জাহাজটির সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি এবং এর সুনির্দিষ্ট অবস্থানও অজানা ছিল। ঘটনার পরপরই একটি উদ্ধারকারী জাহাজ ও হেলিকপ্টার সর্বশেষ জানা অবস্থানের উদ্দেশে পাঠানো হয় এবং আশপাশের এলাকায় থাকা অন্যান্য নৌযানগুলোকেও সতর্ক করে যাত্রীদের কোনো চিহ্ন পেলে তা জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
প্রায় সতেরো হাজার দ্বীপ নিয়ে গঠিত ইন্দোনেশিয়ায় বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষায় নৌযান ও ফেরি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আকাশপথের তুলনায় খরচ কম ও সহজলভ্য হওয়ায় দেশটির বিপুলসংখ্যক মানুষ দৈনন্দিন যাতায়াতে সমুদ্রপথের ওপর নির্ভরশীল। তবে নিরাপত্তা মান যথাযথভাবে বজায় না থাকায় মাঝে মধ্যেই এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়তে হয় যাত্রীদের। প্রসঙ্গত, এর কিছুদিন আগেই মাদুরা দ্বীপের কাছে আরেকটি ফেরিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছিল।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিখোঁজ যাত্রীদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকলেও বৈরী আবহাওয়া পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে। এ অবস্থায় বাকি আরোহীদের নিরাপদে উদ্ধার করাই এখন কর্তৃপক্ষের প্রধান লক্ষ্য।

