আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।
গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসনের মধ্যে এই প্রথম আন্তর্জাতিক আদালত নেতানিয়াহু বা কোনো ইসরায়েলি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করলেন। একই আদেশ জারি করেন ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের নেতা মোহাম্মদ দেইফের বিরুদ্ধেও।
নেতানিয়াহু ও গ্যালান্টের বিরুদ্ধে অভিযোগে আইসিসি বলেন, অন্তত গত বছরের ৮ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ২০ মে পর্যন্ত মানবতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে নেতানিয়াহু ও গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন তারা। এ অভিযোগের সঙ্গে গাজার বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে ক্ষুধাকে ব্যবহার করা ও স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট স্থাপনাকে ইচ্ছাকৃতভাবে নিশানা বানানোর বিষয়টিও যুক্ত রয়েছে।
নেতানিয়াহু ও গ্যালান্ট—দু’জনকেই গাজায় ‘ক্ষুধাকে যুদ্ধাস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করায় অভিযুক্ত করেছেন আদালত। এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মূলত আদালত গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত উপত্যকাটিতে খাদ্যসামগ্রী ও মানবিক ত্রাণ সরবরাহে পদ্ধতিগত উপায়ে বাধা দিয়ে চলার ঘটনাকে বুঝিয়েছেন। এর বাইরে আদালত তাদেরকে ‘হত্যা, নির্যাতন ও অন্যান্য অমানবিক কর্মকাণ্ডে’ যুক্ত থাকায় অভিযুক্ত করেন।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, পশ্চিমা দেশ, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র এবং জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের মতো ইউরোপের দেশগুলোতে আইসিসির এ সিদ্ধান্তের সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে। ইসরায়েলে অস্ত্রশস্ত্রের জোগান দিয়ে থাকে এসব দেশ।
গর্ডন আল–জাজিরাকে বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর এক সুনির্দিষ্ট চাপ তৈরি করেছেন আইসিসি। ইসরায়েলি নেতারা যদি মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত হন, সেক্ষেত্রে এর অর্থ, দেশগুলো ইসরায়েলকে যে অস্ত্র দিচ্ছে, তা অব্যাহত রাখা হবে অপরাধের কাজ। এসব দেশকে ইসরায়েলের সঙ্গে করা বাণিজ্য চুক্তিগুলো অবশ্যই পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে।
নেতানিয়াহু ও গ্যালান্টের গ্রেপ্তার হওয়ার এমন সম্ভাবনা থাকার কারণ, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম সনদে ১২৪টি দেশ স্বাক্ষর করেছে। এসব দেশে সফরে গেলে তাদের গ্রেপ্তার করতে সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোর আইনি বাধ্যবাধকতা থাকবে।
নেতানিয়াহু ও গ্যালান্টের বিরুদ্ধে আইসিসির ওই পরোয়ানা জারি করার অর্থ হলো- গ্রেপ্তার হলে তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে। তবে যতক্ষণ গ্রেপ্তার না হচ্ছেন, ততক্ষণ বিচার শুরু হচ্ছে না। কেননা, নেতানিয়াহু ও গ্যালান্টের অনুপস্থিতিতে তাদের বিচার করার এখতিয়ার আইসিসির নেই।

