Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice রবি, সেপ্টে. 20, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • জলবায়ু ও পরিবেশ
      • লাইফস্টাইল
      • বিশ্লেষণ
      • বিশেষ বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » ইসরায়েলকে ৬০ হাজার শক্তিশালী বোমা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, কী আছে এগুলোতে?
    আন্তর্জাতিক

    ইসরায়েলকে ৬০ হাজার শক্তিশালী বোমা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, কী আছে এগুলোতে?

    এফ. আর. ইমরানসেপ্টেম্বর 20, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    ২ হাজার পাউন্ড ওজনের এমকে-৮৪ বোমা। ছবি: মার্কিন বিমানবাহিনী
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইসরায়েলের কাছে অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক ক্ষমতাসম্পন্ন ৬০ হাজার বোমা বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রতিটি বোমার ওজন ২ হাজার পাউন্ড বা প্রায় ৯০৭ কেজি। এ লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে কয়েক শ কোটি ডলারের একটি অস্ত্র চুক্তি সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চুক্তির ব্যয় মেটানো হবে মূলত মার্কিন করদাতাদের অর্থে।

    মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারে থাকা সবচেয়ে শক্তিশালী ও বিধ্বংসী যুদ্ধাস্ত্রগুলোর অন্যতম এসব বোমা ইসরায়েলের কাছে বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। একই সঙ্গে এ সিদ্ধান্ত অনানুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন কংগ্রেসকেও জানানো হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্র এর আগে কখনো একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক বোমা ইসরায়েলে পাঠায়নি। গাজায় প্রায় তিন বছর ধরে চলা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের ধারাবাহিক সহিংসতা এবং দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের অভিযানের মধ্যেই এই বড় ধরনের অস্ত্র চুক্তির বিষয়টি সামনে এসেছে। এসব সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

    যুক্তরাষ্ট্র এমন এক সময়ে ইসরায়েলকে বিপুল পরিমাণ বোমা সরবরাহ করতে যাচ্ছে, যখন ইরান যুদ্ধের কারণে দেশটির নিজেদের অস্ত্রের মজুত কমে আসছে বলে জানা গেছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহের কারণে এই সংকট আরও গভীর হয়েছে।

    এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, মার্কিন প্রশাসন ইসরায়েলকে ঠিক কী ধরনের বোমা সরবরাহ করছে এবং এসব অস্ত্র দিয়ে ইসরায়েল নতুন করে কী ধরনের সামরিক অভিযান চালাতে পারে।

    ট্রাম্প প্রশাসন অবশ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, বিদেশে অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে সব সময় একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। তবে প্রক্রিয়াধীন কোনো চুক্তি সম্পর্কে তিনি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: এএফপি

    মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র এএফপিকে বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক নীতি অনুযায়ী কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর আগে পররাষ্ট্র দপ্তর কোনো প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রির বিষয় নিশ্চিত করে না বা এ বিষয়ে মন্তব্য করে না।

    তবে বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ওয়াশিংটন ইসরায়েলের কাছে ৬০ হাজার শক্তিশালী বোমা সরবরাহের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সম্ভাব্য এই চুক্তির আওতায় ২০ হাজার এমকে-৮৪ বোমা, ২০ হাজার বিএলইউ-১১৭ বোমা এবং বাংকার ধ্বংসে সক্ষম ২০ হাজার আই-২০০০ পেনিট্রেটর বোমা বিক্রি করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    এই বিশাল অস্ত্র চুক্তির আর্থিক মূল্য প্রায় ২৮০ কোটি ডলার। এর বড় অংশের অর্থ দেওয়া হবে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফরেন মিলিটারি ফাইন্যান্সিং’ কর্মসূচির মাধ্যমে। এই ব্যবস্থায় ওয়াশিংটন মূলত নিজেদের করদাতাদের অর্থ থেকে ইসরায়েলকে অর্থ সহায়তা দেয়, যাতে দেশটি সেই অর্থ ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি আধুনিক অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম কিনতে পারে।

    সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে তিন ধরনের বোমা সরবরাহ করবে। এসব অস্ত্র সম্পর্কে সংক্ষেপে জানা যাক।

    এমকে-৮৪ বোমা মার্ক ৮০ সিরিজের মধ্যে সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী বোমাগুলোর একটি। প্রায় ২ হাজার পাউন্ড বা ৯০৭ কেজি ওজনের এই বোমা বড় ভবন এবং মাঝারি ধরনের সুরক্ষিত লক্ষ্যবস্তুতে সর্বোচ্চ মাত্রার বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে।

    এমকে-৮৪ বোমা যেখানে আঘাত করে, সেখান থেকে শত শত মিটার দূর পর্যন্ত ভবন ধ্বংস করতে পারে। তবে এই বোমা সব সময় নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত করতে সক্ষম নয়।

    বিএলইউ-১১৭ বোমার ওজনও প্রায় ২ হাজার পাউন্ড। দেখতে এটি এমকে-৮৪ বোমার মতো হলেও এর ভেতরে ভিন্ন ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়।

    এই বোমায় লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত করার প্রযুক্তি যুক্ত করা যায়। মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে নিরাপদে সংরক্ষণের জন্য এর বাইরের অংশে বিশেষ তাপ প্রতিরোধী আবরণ দেওয়া থাকে।

    আই-২০০০ পেনিট্রেটর বোমা সাধারণত ‘বাংকার বাস্টার’ নামে পরিচিত। প্রায় ২ হাজার পাউন্ড ওজনের এই অস্ত্র মাটির নিচে থাকা স্থাপনা বা কংক্রিটের শক্ত কাঠামো ভেদ করে বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে। এ কারণে এর বাইরের ধাতব আবরণ এমকে-৮৪ বোমার তুলনায় অনেক বেশি পুরু ও শক্ত।

    এর আগে ২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন ইসরায়েলে ২ হাজার পাউন্ড ওজনের কিছু বোমা সরবরাহ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল। বিভিন্ন হামলায় বিপুলসংখ্যক বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সমালোচনার পর সে সময় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

    ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে তাদের ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে সবচেয়ে চমৎকার ও উচ্চ প্রযুক্তির অস্ত্র তৈরি করছে। এসব আধুনিক অস্ত্র মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য অঞ্চলে থাকা আমাদের সামরিক বাহিনীর কাছে প্রতিদিন সরবরাহ করা হচ্ছে।”

    তবে হোয়াইট হাউসে ফিরে ট্রাম্প সেই স্থগিতাদেশ তুলে দেন। একই সঙ্গে তিনি কংগ্রেসের পর্যালোচনা ছাড়াই ইসরায়েলের কাছে প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেন।

    এই অস্ত্রের মধ্যে ৩৫ হাজার ৫০০টির বেশি শক্তিশালী বোমা ছিল। এর ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের জানুয়ারিতে ওয়াশিংটন ইসরায়েলের কাছে আরও ৬৬৭ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেয়।

    অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ও লেবাননে প্রায় চার দশক ধরে ইসরায়েল ২ হাজার পাউন্ড ওজনের এসব শক্তিশালী বোমা ব্যবহার করে আসছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের নজিরবিহীন হামলার পর গাজায় পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর অনেক আগ থেকেই দেশটি এসব ধ্বংসাত্মক অস্ত্র ব্যবহার করে আসছে।

    ইতিহাস অনুযায়ী, ১৯৮১ সালে ইরাকের বাগদাদের কাছে একটি পারমাণবিক চুল্লি ধ্বংস করতে ইসরায়েল ‘অপারেশন অপেরা’ নামে অভিযান চালায়। ওই অভিযানে এসব বোমা ব্যবহার করা হয়েছিল। এর পরের বছর লেবানন ও সিরিয়াতেও একই ধরনের বোমা হামলা চালানো হয়। এতে বহু বেসামরিক মানুষ হতাহত হন।

    প্রতিরক্ষা নীতি গবেষণা ও বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান প্রজেক্ট অন ডিফেন্স অলটারনেটিভসের তথ্য অনুযায়ী, একটি ২ হাজার পাউন্ডের বোমা বিস্ফোরণের কেন্দ্র থেকে ৩৫ মিটার বা ১১৫ ফুটের মধ্যে থাকা সবকিছু মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত, আহত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে পারে। মাটির ধরন অনুযায়ী এই বোমার বিস্ফোরণে প্রায় ৫০ ফুট বা ১৫ মিটার চওড়া এবং ১৬ ফুট বা ৫ মিটার গভীর গর্ত তৈরি হতে পারে।

    গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ইসরায়েল এসব শক্তিশালী বোমা আগের তুলনায় অনেক বেশি ব্যবহার করছে।

    ২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর গাজা নগরীর ঘনবসতিপূর্ণ জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরে ইসরায়েল একটি ২ হাজার পাউন্ডের বোমা ফেলে। এতে ধ্বংস হওয়া ভবনগুলোর মধ্যে বিশাল গর্ত সৃষ্টি হয় এবং ডজন ডজন বেসামরিক মানুষ নিহত হন। জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় তখন জানিয়েছিল, এই হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

    ২০২৪ সালের নভেম্বরের দিকে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। তবে ওয়াশিংটন ওই আদালতের এখতিয়ার ও আইনি কর্তৃত্ব প্রত্যাখ্যান করেছে।

    ২ হাজার পাউন্ড ওজনের এমকে-৮৪ বোমা। ছবি: মার্কিন বিমানবাহিনী

    বোমাগুলোর ধ্বংসক্ষমতা

    আল-জাজিরার অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ‘দ্য রেস্ট অব দ্য স্টোরি’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে যুদ্ধ শুরুর পর গাজায় অন্তত ২ হাজার ৮৪২ জন ফিলিস্তিনির সন্ধান পেয়েছে উদ্ধারকারী দল, যাঁদের শরীর বোমার আঘাতে এমনভাবে ধ্বংস হয়েছে যে ঘটনাস্থলে রক্তের দাগ বা মাংসের ছোট ছোট অংশ ছাড়া মরদেহের আর কোনো অবশিষ্টাংশ পাওয়া যায়নি।

    বিশেষজ্ঞ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এ পরিস্থিতির জন্য আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ থার্মাল ও থার্মোবারিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন। ইসরায়েলের ব্যবহৃত শক্তিশালী এসব বোমা বিস্ফোরণের সময় ৩ হাজার ৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা তৈরি করতে পারে।

    অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, কীভাবে ইসরায়েলি গোলাবারুদের বিশেষ রাসায়নিক মিশ্রণ কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে মানবদেহ পুড়িয়ে দিতে পারে। গাজায় মানুষের এভাবে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি কিছু নির্দিষ্ট মারণাস্ত্রের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে এমকে-৮৪ এবং বিএলইউ সিরিজের বাংকারবিধ্বংসী বোমা অন্যতম।

    রুশ সামরিক বিশেষজ্ঞ ভাসিলি ফাতিগারভ বলেন, এসব আধুনিক অস্ত্র শুধু মানুষকে হত্যা করে না, বরং যেকোনো বস্তুকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিতে পারে। এসব বোমার আগুন দীর্ঘস্থায়ী করতে রাসায়নিক মিশ্রণের সঙ্গে অ্যালুমিনিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও টাইটানিয়ামের গুঁড়া যোগ করা হয়। এর ফলে বিস্ফোরণের সময় তাপমাত্রা আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে।

    ৬০ হাজার বোমার তাৎপর্য

    ২ হাজার পাউন্ড ওজনের ৬০ হাজার বোমার মোট ওজন দাঁড়ায় প্রায় ৫৪ হাজার ৪০০ টন। এই বিপুল পরিমাণ বোমার ওজনের তুলনা করলে দেখা যায়, এটি নিউইয়র্কের বিখ্যাত এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের পুরো ইস্পাত কাঠামোর ওজনের প্রায় সমান অথবা প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের মূল লোহার কাঠামোর চেয়ে প্রায় সাত গুণ বেশি ভারী।

    ১৯৪৫ সালের মার্চে জাপানের টোকিওতে চালানো ভয়াবহ বোমা হামলায় এক রাতেই ৮০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন। ওই হামলায় মোট ১ হাজার ৬০০ টন বোমা ব্যবহার করা হয়েছিল। সেই তুলনায় ইসরায়েলে পাঠানো সম্ভাব্য বোমার ওজন প্রায় ৩৫ গুণ বেশি।

    আরও বিস্তৃত তুলনায়, ৫৪ হাজার ৪০০ টন বোমার ওজন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পুরো সময়ে জার্মানির বার্লিন শহরের ওপর ফেলা সব বোমার মোট ওজনের প্রায় সমান। এমনকি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের মূল ভূখণ্ডে ফেলা মোট বোমার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ওজনের সমান অস্ত্র এককভাবে ইসরায়েলকে সরবরাহ করছে মার্কিন প্রশাসন।

    যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সংকট

    মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বা পেন্টাগনের একটি বিশেষ নজরদারি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুত, বিশেষ করে অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমছে। এর ফলে দেশটির সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র কেনার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং উৎপাদনের সময় কমানোর চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রয়োজনীয় যুদ্ধ উপকরণ, যন্ত্রাংশ ও নির্দিষ্ট গোলাবারুদ নতুন করে মজুত করছে।

    তবে ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে তাদের ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে সবচেয়ে চমৎকার ও উচ্চ প্রযুক্তির অস্ত্র তৈরি করছে। এসব আধুনিক অস্ত্র মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য অঞ্চলে থাকা আমাদের সামরিক বাহিনীর কাছে প্রতিদিন সরবরাহ করা হচ্ছে।”

    অস্ত্র চুক্তি নিয়ে প্রতিক্রিয়া

    ইসরায়েলের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুলসংখ্যক বোমা বিক্রির খবর প্রকাশের পর দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

    রক্ষণশীল রাজনৈতিক বিশ্লেষক টাকার কার্লসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, গাজায় নেতানিয়াহু সরকারের কর্মকাণ্ড মূলত গণহত্যা। তাঁর দাবি, ট্রাম্প প্রশাসনের পাঠানো নতুন বোমা লেবানন এবং সম্ভবত মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও একই ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে ব্যবহৃত হতে পারে।

    মার্কিন ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন অস্ত্র বিক্রি ঠেকাতে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করে অভিযোগ করেন, মার্কিন করদাতাদের অর্থে কেনা বোমা এমন একটি সরকারের কাছে পাঠানো হচ্ছে, যার প্রধান নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ রয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য মার্জোরি টেলর গ্রিনও এক পোস্টে লিখেছেন, মার্কিন নাগরিকেরা এই সিদ্ধান্তের পক্ষে ভোট দেননি এবং যুক্তরাষ্ট্র এটি সমর্থন করে না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, করের অর্থ ও মারণাস্ত্র হাজার হাজার নিরীহ মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়েছে।

    তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    মতামত

    মিরাসের অধিকার ও নতুন সম্পত্তি হস্তান্তর আইন: আদালতে উঠতে পারে যেসব প্রশ্ন

    সেপ্টেম্বর 20, 2026
    ব্যাংক

    নেতৃত্ব নিয়ে কোন্দল ঠেকাতে এনসিসি ও এসবিএসি ব্যাংকের নিজস্ব সংস্কার

    সেপ্টেম্বর 20, 2026
    আন্তর্জাতিক

    রিয়াদে হুথিদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, জ্বালানি ট্যাংকে আগুন

    সেপ্টেম্বর 20, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.