ভারতীয় বংশোদ্ভূত হর্ষিতা ব্রেলাকে খুনের ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী পঙ্কজ লাম্বার উপর। সূত্র : ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
পূর্ব লন্ডনের ইলফোর্ডের পুলিশ ব্রিসবেন রোডে গত ১৪ নভেম্বর পার্ক করা গাড়ির ভেতর থেকে একটি মরদেহ পায় লন্ডনের পুলিশ। এই মরদেহটি ২৪ বছর বয়সি ভারতের হর্ষিতা ব্রেলার।
দিল্লিতে জন্মগ্রহণ করা হর্ষিতা গত বছরের আগস্টে পঙ্কজ লাম্বা নামে এক যুবককে বিয়ে করার পর চলতি বছরের এপ্রিলে যুক্তরাজ্যে চলে যায়।
জানা গেছে, স্বামীর সঙ্গে ওই তরুণী যুক্তরাজ্যে বসবাস করতেন। তবে গত ২২ মার্চ থেকেই পঙ্কজ লাম্বা নিখোঁজ। এখন মৃতদেহ পাওয়ার পর হার্ষিতার বড় বোন সোনিয়া ব্রেলার দাবি, যৌতুকের জন্য খুন করা হয়েছে তার বোনকে। যদিও বিয়ের সময় লাম্বা পরিবারকে সোনা ও টাকা দিয়েছিল হার্ষিতার পরিবার।
অভিযোগে সোনিয়া বলেন, ‘পরিবার পঙ্কজকে অনেক যৌতুক দিয়েছিল কিন্তু তবুও সে খুশি ছিল না, সে আমাদের কাছে যৌতুক দাবি করে যাচ্ছিল।’
নর্থ হ্যাম্পশায়ার পুলিশ বলেছে, তাদের ধারণা এই মাসের শুরুতে হর্ষিতাকে তার স্বামী খুন করেছে। এছাড়া খুনের পর মরদেহ নর্থ হ্যাম্পশায়ার থেকে ১৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণে ইলফোর্ডে নিয়ে আসা হয়। ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ পঙ্কজ লাম্বা। তাকে খুঁজছে দেশটির পুলিশ। সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তবে নিহতের পরিবারের দাবি, হত্যাকাণ্ডের একদিন পর সে ভারতে পালিয়ে এসেছে।
সোনিয়া ব্রেলা বলেন, ‘আমাদের কাছে তার ভারতে ফিরে আসার প্রমাণ আছে, যা আমরা লন্ডন পুলিশকে বলেছি। এখানে কেউ আমাদের সাহায্য করছে না। আমরা আমাদের স্থানীয় পুলিশের কাছেও যোগাযোগ করেছি। পঙ্কজ ও তার বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে যৌতুকের হয়রানির অভিযোগ দায়ের করেছি।’
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুসারে, হর্ষিতার বাবা, মা ও বোন দিল্লিতে থাকেন। সেখান থেকেই মেয়ের খুনের সুবিচারের দাবি জানিয়েছেন মা সুদেশ কুমারী। তিনি বলেন, ‘আমি আমার মেয়ে খুনের বিচার চাই।’
বিবিসিকে হর্ষিতার বাবা সতবীর ব্রেলা বলেন, ‘আমি চাই মেয়ে জামাইয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কথা হলেই হর্ষিতা সময়ে খাবার সময়ে দেয় না বলে পঙ্কজ অভিযোগ করত। মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলা নিয়েও বিরক্ত ছিল পঙ্কজ।’
হর্ষিতার বোন সোনিয়া দাবাস বলেন, ‘দেখাশোনা করে বিয়ে হয় দিদির। লন্ডনে বসবাস নিয়ে দিদি খুবই উৎসুক ছিল। কিন্তু বিয়েটা সুখের হয়নি।’
পরিবার সূত্রে জানা যায়, হর্ষিতার সঙ্গে তাদের শেষবার ১৩ নভেম্বর কথা হয়। হর্ষিতা ব্রেলার মরদেহ এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে ভারতে পৌঁছাতে পারে বলেও জানিয়েছে সোনিয়া।

