ইথিওপিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইরত বেশ কয়েকটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী সরকার উৎখাতের লক্ষ্যে একটি নতুন জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে।
‘অ্যালায়েন্স ফর সারভাইভাল’ নামের এই জোটে রয়েছে আমহারা অঞ্চলের ‘ফানো’ মিলিশিয়া, ওরোমো লিবারেশন আর্মি (ওএলএ), তিগ্রায় পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট (টিপিএলএফ) এবং আরও চারটি ছোট সশস্ত্র গোষ্ঠী।
এই সাতটি গোষ্ঠী প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, গণহত্যা ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো এবং দেশকে চরম দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ করেছে। তাদের দাবি, ইথিওপিয়া বর্তমানে ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর এই জোট গঠনের বিষয়ে দেশটির কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ইথিওপিয়ার সবচেয়ে জনবহুল দুই রাজ্য ওরোমিয়া ও আমহারায় গত কয়েক বছর ধরেই সশস্ত্র সংঘাত চলছে।
পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলীয় তিগ্রায় অঞ্চলেও নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সেখানে দুই বছর স্থায়ী গৃহযুদ্ধে লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু হয় এবং বাস্তুচ্যুত হন আরও বহু মানুষ।
২০২২ সালে আফ্রিকান ইউনিয়নের (এইউ) একটি শান্তি চুক্তির মাধ্যমে তিগ্রায় যুদ্ধের অবসান ঘটলেও, উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলায় পুনরায় পুরোদমে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ওরোমিয়া, আমহারা ও তিগ্রায় ছাড়াও নতুন এই জোটে ওগাদেন, আফার ও বেনিশাঙ্গুল-গুমুজ অঞ্চলের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো রয়েছে। এর মাধ্যমে ইথিওপিয়ার মোট ১২টি আঞ্চলিক রাজ্যের ছয়টিতেই (অর্ধেক) জোটের উপস্থিতি বিস্তৃত হল।
তিগ্রায় যুদ্ধের সময় আমহারার ফানো গোষ্ঠী কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছিল। তবে যুদ্ধ শেষের এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে অস্ত্র সমর্পণের সরকারি নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করে তারা সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু করে।
অন্যদিকে ২০১৮ সাল থেকেই ওরোমো লিবারেশন আর্মির (ওএলএ) বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আসছে দেশটির সরকার।
প্রতিবেশী ইরিত্রিয়ার সঙ্গে তিগ্রায় পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টের (টিপিএলএফ) কথিত জোটের খবরের কয়েক মাস পর ‘অ্যালায়েন্স ফর সারভাইভাল’ জোটের এই আত্মপ্রকাশ ঘটল।
এর আগে গত জুলাইয়ে আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে আবি আহমেদ বলেছিলেন, ইথিওপিয়ার “প্রতিরক্ষা সক্ষমতার” ওপর তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তিনি বলেন, “যদি অন্যরা যুক্তও হয়, ইথিওপিয়ার সার্বভৌমত্ব নিয়ে আমাদের বিন্দুমাত্র ভয় নেই।”
গত জুনে ইথিওপিয়ায় সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সংঘাত, দমন-পীড়নের অভিযোগ এবং বিরোধীদের কম অংশগ্রহণের মধ্যেই আবি আহমেদের ‘প্রস্পারিটি পার্টি’ পার্লামেন্টে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় রাখে।
তবে ফানো এবং ওএলএ বিদ্রোহী গোষ্ঠী দুটি এই নির্বাচন ও এর ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছে। অন্যদিকে, তিগ্রায় অঞ্চল ও এর ৬০ লাখ বাসিন্দাকে এই নির্বাচন থেকে পুরোপুরি বাদ রাখা হয়েছিল।

