ভারতের উত্তর প্রদেশের গ্রেটার নয়ডায় যমুনা এক্সপ্রেসওয়েতে বুধবার গভীর রাতে একটি চলন্ত স্লিপার বাসে ভয়াবহ আগুন লেগে নয়জন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন নারী এবং আটজন পুরুষ রয়েছেন। আগুন লাগার পরপরই বাসের ভেতরে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, আর প্রাণ বাঁচাতে অনেক যাত্রী চলন্ত অবস্থাতেই জানালা দিয়ে লাফিয়ে নিচে পড়েন। ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
পুলিশ ও দমকল বাহিনীর তথ্যমতে, বাসটি দিল্লি থেকে মহোবার উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। রাত সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ বাসের ভেতরে আগুন ধরে যায়। ঘটনার সময় বাসে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন যাত্রী ছিলেন। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং যাত্রীদের মাঝে হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তবে অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং পুলিশ যাত্রীদের জবানবন্দি নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে।
এ ঘটনায় বাসের এক যাত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসটি নয়ডা-আগ্রা সড়কের প্রায় ৩৩ কিলোমিটার এলাকায় পৌঁছালে যাত্রীরা চালকের আসনের দিক থেকে পোড়া গন্ধ পেতে শুরু করেন।
বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে চালক ও সহকারীকে জানানো হলেও তারা এটিকে সাধারণ ঘটনা বলে উড়িয়ে দেন এবং বাস থামিয়ে পরীক্ষা করার প্রয়োজন মনে করেননি। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, চালক নিজের আসনে বসে তখনো ধূমপান চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই চালকের আসনের কাছাকাছি জায়গা থেকে হঠাৎ আগুনের শিখা দেখা যায়।
আগুনের সূত্রপাত দেখে যাত্রীরা চিৎকার করে বাস থামানোর অনুরোধ জানালেও চালক ও সহকারী প্রথমে তা কানে তোলেননি, বরং যাত্রীদের উল্টো ভয়ভীতি দেখান বলে অভিযোগ। এর মধ্যেই আগুন পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং কেবিন ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে চালক ও সহকারী ঘটনাস্থল থেকে সরে পড়েন। পরে আশপাশের মানুষ ও যাত্রীরা মিলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন এবং জানালা ভেঙে অনেককে উদ্ধার করার চেষ্টা চালান, যদিও ততক্ষণে পরিস্থিতি অনেকটাই সামলানোর বাইরে চলে গিয়েছিল।
বাসে থাকা একজন যাত্রী জানান, তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন, হঠাৎ অন্য একজন যাত্রী তাকে জাগিয়ে আগুনের কথা জানান। তার ভাষ্যে, পুরো বাস তখন ধোঁয়ায় ভরে গিয়েছিল এবং বের হওয়ার কোনো নিরাপদ পথ খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। চরম আতঙ্কের মধ্যেই তিনি কোনোভাবে বাইরে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন এবং তাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।
এই ঘটনা আরও একবার দীর্ঘ দূরত্বের রাত্রিকালীন বাস চলাচলে নিরাপত্তা তদারকির ঘাটতির বিষয়টি সামনে নিয়ে এল। প্রাথমিক লক্ষণ উপেক্ষা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত না নেওয়ার এই মাশুল গুনতে হলো নিরীহ যাত্রীদের প্রাণ দিয়ে, যা যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিতে চালকদের প্রশিক্ষণ ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্বকে নতুন করে সামনে এনেছে বলে মনে করছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞরা।

