ইরান তার বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ২৯ নভেম্বর জেনেভায় তিন ইউরোপীয় শক্তির সঙ্গে আলোচনা করার পরিকল্পনা করছে। জাপানের বার্তা সংস্থা কিয়োডোর বরাত দিয়ে রবিবার বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানায়।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে ইরান তাদের পরমাণু কার্যকর জোরদার করছে। এমন অভিযোগ এনে সংস্থাটির ৩৫টি দেশের গভর্নর বোর্ড ইরানের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার জাতিসংঘে একটি নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণ করে। যার নেতৃত্ব ছিলো ইউরোপের তিন দেশ ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য। এবার এই তিন দেশের সঙ্গেই বৈঠকে বসতে চায় ইরান।
কিয়োডো জানিয়েছে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সরকার নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জানুয়ারিতে অভিষেকের আগে পারমাণবিক অচলাবস্থার সমাধান খুঁজছে। একজন সিনিয়র ইরানি কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, আগামী শুক্রবার বৈঠকটি শুরু হবে।
রোববার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমায়েল বাঘাই জানিয়েছেন, ‘শুক্রবার ইরান, ফ্রান্স, জার্মানি এবং যুক্তরাজ্যের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাথে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।’ যদিও কোথায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে সেটি পরিষ্কার জানাননি তিনি। ‘বৈঠকে ফিলিস্তিন ও লেবাননের পাশাপাশি পারমাণবিক বিষয়সহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হবে।’ বাঘাইয়ের এই বৈঠকটিকে সবশেষ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনের পার্শ্ব বৈঠকে দেশগুলোর সঙ্গে অনুষ্ঠিত আলোচনার ধারাবাহিকতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ইরানের এই পদক্ষেপটি এমন সময় নেওয়া হয়েছে যখন তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
গ্রোসির সফরের সময় ইরান অস্ত্র উৎপাদনের জন্য নির্ধারিত মানের ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বিশুদ্ধতা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের সংবেদনশীল মজুদ সীমাবদ্ধ করার জন্য আইএইএ-এর দাবিতে সম্মত হয়েছে। প্রস্তাবের প্রতি প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইরান ঘোষণা করেছে তারা এক রাশ ‘নতুন এবং উন্নত সেন্ট্রিফিউজ’ চালু করছে। সেন্ট্রিফিউজগুলি গ্যাসে রূপান্তরিত ইউরেনিয়ামকে অত্যন্ত উচ্চ গতিতে ঘুরিয়ে তার মধ্যে ফিসাইল আইসোটোপ (ইউ-২৩৫)-এর পরিমাণ বৃদ্ধি করে।
ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থার মুখপাত্র বেহরুজ কামালভান্দি রাষ্ট্রীয় মাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন ধরনের উন্নত মেশিন ব্যবহার করে সমৃদ্ধকরণের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করব।’ সেই সঙ্গে ইরান বলেছে, তারা আইএইএ-এর সাথে তাদের ‘প্রযুক্তিগত এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা’ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে।
তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে লাগাম টানতে ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে চুক্তি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন, রাশিয়া এবং জার্মানি। তবে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ২০১৮ সালে চুক্তি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানিয়েছে, পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার জন্য ২০১৫ সালের চুক্তিতে নির্ধারিত সীমার চেয়েও ৩২ গুণ বেশি বেড়েছে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ।

