বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দুটি নৌপথ হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দেব খোলা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি এই জলপথগুলোকে বিশ্ব অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ধমনী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে শুক্রবার শাহবাজ শরিফ বলেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এসব নৌপথের স্থিতিশীলতা শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং পুরো বিশ্বের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তান আলোচনার পথ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। দুই দেশের মধ্যে সংলাপের সুযোগ তৈরি এবং সংঘাত কমানোর লক্ষ্যে পাকিস্তান বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শাহবাজ শরিফ বলেন, শান্তির জন্য কাজ করা মানবজাতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তিনি জাতিসংঘ সনদের প্রতি পাকিস্তানের অঙ্গীকারের কথাও তুলে ধরেন এবং বিশ্ব শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।
তার বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতিও উঠে আসে। তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারিতে উপসাগরীয় অঞ্চল ও বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য ভয়াবহ সংঘাতের মধ্যে পড়ে। এর ফলে প্রাণহানি, অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দেব নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। এই দুটি পথ দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের জ্বালানি ও পণ্য পরিবহন হয়ে থাকে। তাই এসব পথের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হলে বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস রপ্তানির বড় অংশ এই পথ দিয়ে যায়। অন্যদিকে বাব আল-মান্দেব এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সংযোগ তৈরি করে।
শাহবাজ শরিফ বলেন, সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান।
জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে ফিলিস্তিন প্রসঙ্গেও কথা বলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। তিনি পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি নির্মাণের বিরোধিতা করেন এবং গাজায় চলমান হামলা বন্ধের আহ্বান জানান।
তিনি আল-কুদস আল-শরিফকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে পাকিস্তানের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
শাহবাজ শরিফ কাশ্মীর ইস্যুও তাঁর বক্তব্যে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কাশ্মীর পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং কাশ্মীরিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের আহ্বান জানান।
পাশাপাশি তিনি ভারতের প্রতি ভবিষ্যতে কোনো ধরনের ভুল পদক্ষেপ না নেওয়ার সতর্কবার্তা দেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে চতুর্থবার বক্তব্য দিতে পারাকে সম্মানের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন শাহবাজ শরিফ। একই সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নবনির্বাচিত সভাপতি খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে পাকিস্তানের সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ ও বাব আল-মান্দেবের মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা এখন শুধু আঞ্চলিক রাজনীতির বিষয় নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে এসব পথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে।

