হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে ইরানের সাত দিনের প্রস্তাবের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা। এর মধ্যেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ হিসেবে দেখানো একটি মানচিত্র প্রকাশ করে ইরানকে কটাক্ষ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শনিবার ভোরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন ট্রাম্প। সেখানে হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তন করে নিজের নামে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে দেখা যায়।
ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ আসে এমন এক সময়ে, যখন ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি সাত দিনের পরিকল্পনা দিয়েছে। ওই পরিকল্পনায় যুদ্ধবিরতি এবং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মার্কিন মধ্যস্থতাকারীদের কাছে এই প্রস্তাব তুলে ধরেন। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং যুদ্ধবিরতির বিষয়ে পদক্ষেপ নিলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব।
ইরানের দাবি অনুযায়ী, এসব পদক্ষেপ নেওয়া হলে দেশটি আবারও আন্তর্জাতিক বাজারে বেশি পরিমাণে তেল রপ্তানি করতে পারবে। বর্তমানে নিষেধাজ্ঞা ও সংঘাতের কারণে ইরানের অর্থনীতি চাপের মধ্যে রয়েছে।
আব্বাস আরাঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি চুক্তির বিষয়ে আগ্রহ দেখায়, তাহলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু এবং সংঘাত কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই সংকটের সমাধান সম্ভব। তবে চাপ বা হুমকির মাধ্যমে ইরানকে তার অবস্থান থেকে সরানো যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে, হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় যুক্ত রয়েছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে কি না, তা নিয়ে ট্রাম্পের সন্দেহ রয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস সরবরাহের বড় অংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এই নৌপথ ঘিরে যেকোনো উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
ট্রাম্পের ‘ট্রাম্প প্রণালি’ নাম ব্যবহারের ঘটনা তার আগের কিছু ভৌগোলিক নাম পরিবর্তনের উদ্যোগের সঙ্গেও তুলনা করা হচ্ছে।
এর আগে তিনি বিভিন্ন অঞ্চলের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘আমেরিকা উপসাগর’ করার সিদ্ধান্ত এবং আলাস্কার ডেনালি পর্বতের নাম পরিবর্তন করে ‘মাউন্ট ম্যাককিনলি’ করার বিষয়টি আলোচনায় আসে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ধরনের প্রতীকী পদক্ষেপ মূলত রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার কৌশলের অংশ। তবে হরমুজ প্রণালি নিয়ে বাস্তব সমাধান নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা এবং উভয় পক্ষের শর্ত মেনে নেওয়ার ওপর।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলেও দুই দেশের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক মহলের নজরে রয়েছে।

