যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সাম্প্রতিক বাণিজ্য সমঝোতার অংশ হিসেবে দুই দেশের প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্যে শুল্ক কমানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
হোয়াইট হাউস রোববার এমন পণ্যের তালিকা প্রকাশ করেছে, যেগুলোতে ভবিষ্যতে কম শুল্ক সুবিধা দেওয়া হতে পারে। তবে এখনো নির্দিষ্ট শুল্কহার বা কার্যকরের সময়সূচি জানানো হয়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুই দেশের নেতাদের আলোচনায় বাণিজ্যসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন তালিকাগুলো পর্যালোচনা করবে এবং পারস্পরিক ভিত্তিতে এসব পণ্যে কম শুল্ক সুবিধা দেওয়ার বিষয় বিবেচনা করবে।
যুক্তরাষ্ট্র চীনা ৭৭টি পণ্যশ্রেণিতে শুল্ক কমানোর বিষয় বিবেচনা করতে পারে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে আতশবাজি, বড়দিনের সাজসজ্জার সামগ্রী, গৃহস্থালি পণ্য ও ক্রীড়া সরঞ্জাম।
অন্যদিকে চীনের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের ১ হাজার ৬০০টির বেশি পণ্যশ্রেণি রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গরু, শূকর ও পোলট্রি মাংস, সামুদ্রিক খাবার, শস্য, দুগ্ধজাত পণ্য, হুইস্কি, কয়লা ও কাঠ।
হোয়াইট হাউস শুক্রবার জানিয়েছিল, এসব ‘অসংবেদনশীল পণ্যের’ ক্ষেত্রে আরও অনুকূল শুল্ক সুবিধার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। পরে চীনও এই সমঝোতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, চীন ২০২৭ ও ২০২৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কমপক্ষে ১ কোটি মেট্রিক টন কয়লা আমদানি করতে সম্মত হয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের কারণে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। এক পর্যায়ে উভয় দেশের শুল্কহার ১০০ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়।
গত বছর দক্ষিণ কোরিয়ায় ট্রাম্প ও শির বৈঠকের পর দুই দেশ একটি বাণিজ্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। সেই চুক্তির মেয়াদ নভেম্বর পর্যন্ত ছিল, তবে তা বাড়িয়ে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন শুল্ক সুবিধা কার্যকর হলে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে, তবে চূড়ান্ত প্রভাব নির্ভর করবে শুল্কহার ও বাস্তবায়ন পদ্ধতির ওপর।

