ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আবুধাবি সফর করে দেশটির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বিষয়টি সোমবার সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েল।
ইসরায়েলি বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সফরকালে সৌদি আরবসহ কয়েকটি আঞ্চলিক দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি গোপন বৈঠকও করেন নেতানিয়াহু। ওই বৈঠকে ইরান, হুথি এবং আকাশ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
নেতানিয়াহুর দপ্তর এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানায়, প্রধানমন্ত্রী ও তার স্ত্রী রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেন। ‘সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের আমন্ত্রণে’ তারা এ সফরে যান।
বিবৃতিতে বলা হয়, সফরের মূল লক্ষ্য ছিল ‘দুই দেশের সম্পর্ক জোরদার করা এবং আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ’ নিয়ে আলোচনা করা।
নেতানিয়াহুর সঙ্গে সফরে ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান, মোসাদের প্রধান, সামরিক সচিব এবং পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকারি বার্তা সংস্থা ডব্লিউএএমও নিশ্চিত করেছে যে, সফরকালে বিন জায়েদ নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। দুই নেতা ‘সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েলের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং তা আরও জোরদার ও উন্নয়নের উপায়’ নিয়ে আলোচনা করেন বলে জানানো হয়। তবে এর বাইরে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
বিন জায়েদের সঙ্গে নেতানিয়াহুর সাক্ষাতের কোনো ছবি প্রকাশ করেনি সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে আবুধাবির পক্ষ থেকে এবারই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে নেতানিয়াহুর কোনো সফর নিশ্চিত করা হলো।
পরে ইসরায়েলি বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, সফরের অংশ হিসেবে কয়েকটি আঞ্চলিক দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি গোপন বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। এতে এমন কিছু দেশও ছিল, যাদের সঙ্গে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তবে যেসব দেশের নাম বলা হয়েছে, তাদের কেউই বৈঠক বা এতে নিজেদের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়েদিওথ আহরোনথ সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, বৈঠকে সৌদি আরব, মরক্কো ও জর্ডানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া উপসাগরীয় অঞ্চলের আরও কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরাও বৈঠকে অংশ নেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মোসাদের প্রধান রোমান গফম্যান বৈঠকটির আয়োজন করেন এবং বিন জায়েদ সেটি আয়োজনের জন্য সম্মতি দেন।

