বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টনসহ অভিন্ন নদীগুলোর পানি বণ্টন সংক্রান্ত সব বিষয় যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মাধ্যমে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছে ভারত। চলতি বছরের ডিসেম্বরে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন চুক্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের যৌথ নদী কমিশন রয়েছে এবং গঙ্গাসহ নদী ও পানিবণ্টন-সংক্রান্ত সব বিষয় কমিশনের অংশ হিসেবে আলোচনা করা হবে। একই সঙ্গে গঙ্গা চুক্তি নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকও চলমান রয়েছে।’
বাংলাদেশের পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ঢাকার পক্ষ থেকে ১৯৯৬ সালের চুক্তি নবায়নের পরিবর্তে গঙ্গার পানি বণ্টনে নতুন চুক্তি করার আগ্রহের কথা জানানোর পর ভারতের পক্ষ থেকে এ মন্তব্য এলো। ওই চুক্তির মেয়াদ আগামী ১২ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত দুই দিনের ‘কল্লোলিনী: এ রিভার ডায়ালগ ২০২৬’ অনুষ্ঠানে পানিসম্পদমন্ত্রী এ্যানি বলেন, শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশ যাতে গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা পায়, তা নিশ্চিত করতে নিশ্চয়তা সংবলিত নতুন চুক্তি নিয়ে জেআরসি কাজ করছে।
তিনি বলেন, ‘ভাটির দেশ হিসেবে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের পানি প্রবাহের প্রয়োজন।’
এ্যানি আরও বলেন, বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি প্রবাহ ঠেকাতেও বাংলাদেশ শক্ত অবস্থান নেবে। তার মতে, অতিরিক্ত পানি প্রবাহের কারণে বন্যা এবং কৃষি ও অর্থনীতির ক্ষয়ক্ষতি হয়।
১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি বাংলাদেশ ও ভারত ৩০ বছরের জন্য সই করেছিল। ফারাক্কায় শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ বণ্টন এই চুক্তির আওতাভুক্ত। চুক্তিটির মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা।
নতুন চুক্তি প্রণয়নের প্রস্তুতির জন্য বাংলাদেশ ইতোমধ্যে একটি দল গঠন করেছে এবং বিষয়টি ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে গত আগস্টে সংসদে জানিয়েছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সাম্প্রতিক ঢাকা সফর নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে জয়সওয়াল বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।’

