ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের পর নিজেদের মজুত পুনর্গঠনে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যে দেশটির অন্যতম প্রধান অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রেথিয়নের সঙ্গে ২২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর।
বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর চুক্তিটির ঘোষণা দেওয়া হয়। এর আওতায় আকাশ ও সমুদ্রপৃষ্ঠের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ব্যবহারের জন্য স্ট্যান্ডার্ড ক্ষেপণাস্ত্র-৬ বা এসএম-৬-এর উৎপাদন বাড়ানো হবে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, পাঁচ বছরের জন্য করা এই চুক্তিতে প্রয়োজনে আরও দুই বছর মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এর ফলে উৎপাদন কার্যক্রম দ্রুত বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
মার্কিন নৌবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন চুক্তির অন্যতম লক্ষ্য হলো এসএম-৬ প্রতিহতকারী ক্ষেপণাস্ত্রের নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য সরবরাহ বজায় রাখা। এই ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযান এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা—দুই ধরনের কাজেই ব্যবহার করা যায়।
পেন্টাগনের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বড় অঙ্কের এই চুক্তি প্রতিরক্ষা শিল্পকে দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদন পরিকল্পনা তৈরির নিশ্চয়তা দেবে। এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কর্মী ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহব্যবস্থা আরও সুরক্ষিত রাখার সুযোগ তৈরি হবে।
ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন দ্রুত বাড়ানোর জন্য মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর চলতি বছরে একাধিক বড় চুক্তি করেছে। এর আগে সেপ্টেম্বরে রেথিয়নের সঙ্গে আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য ২০ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করা হয়। একই সময়ে প্যাট্রিয়ট প্রতিহতকারী ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য লকহিড মার্টিনের সঙ্গে ৫৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিও করা হয়েছিল।
ট্রাম্প প্রশাসনের অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এসব চুক্তি করা হচ্ছে। তবে প্রতিরক্ষা শিল্পের কয়েকজন কর্মকর্তা সতর্ক করেছেন, এসব চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ এখনো মার্কিন কংগ্রেস পুরোপুরি বরাদ্দ করেনি। ফলে আইনপ্রণেতাদের চূড়ান্ত অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় পরিসরে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে।
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের পর মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারে তৈরি হওয়া ঘাটতির বিষয়টি এরই মধ্যে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। গত মাসে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের মহাপরিদর্শক জানান, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে বিপুল গোলাবারুদ ব্যবহারের ফলে কৌশলগত মজুতে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন করে গোলাবারুদ উৎপাদন ও সরবরাহের ক্ষেত্রে দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতাও প্রকাশ পেয়েছে।
১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের এক প্রতিবেদনে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সরঞ্জামের ওপর এই পরিস্থিতির প্রভাবের কথা বলা হয়। প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, আগামী কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে প্রতিহতকারী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত সীমিত হয়ে পড়তে পারে।
এদিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার কয়েক মাস পরও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তেহরান কৌশলগত এই জলপথের ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে বলে দাবি করা হয়েছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে রেখেছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্প তাঁর সহযোগীদের জানিয়েছেন যে নভেম্বরের শেষ নাগাদ ইরানের ওপর আবারও বিমান হামলা চালানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদের ব্যবহার আরও বাড়তে পারে, যা নতুন করে অস্ত্রের মজুত ও উৎপাদনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

