রাশিয়ার বাল্টিক অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ভূখণ্ড কালিনিনগ্রাদে সরাসরি হামলা হলে পরমাণু অস্ত্রসহ দেশের হাতে থাকা সব ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ইউরোপের কোনো দেশ আক্রমণ করার পরিকল্পনা মস্কোর নেই। তবে রাশিয়ার ওপর হামলা হলে তার জবাব দেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার মস্কোয় ভালদাই আলোচনা ক্লাবের বৈঠকে এসব কথা বলেন পুতিন। পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মাঝখানে বাল্টিক সাগরের তীরে অবস্থিত কালিনিনগ্রাদ রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন। কৌশলগত অবস্থানের কারণে অঞ্চলটি রাশিয়া ও পশ্চিমা সামরিক জোটের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে আছে।
পুতিন বলেন, বাল্টিক সাগরে ধারাবাহিক সামরিক মহড়া এবং রুশ জাহাজ আটকের চেষ্টা পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলছে। কালিনিনগ্রাদকে ঘিরে পশ্চিমা দেশগুলোর বিভিন্ন বক্তব্যও মস্কোর উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রুশ প্রেসিডেন্টের ভাষ্য, রাশিয়ার কোনো ভূখণ্ডে সরাসরি হামলা হলে দেশটির হাতে থাকা সব ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি সামনে আসবে। কালিনিনগ্রাদে হামলার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হবে না বলে সতর্ক করেন তিনি।
এর আগে কালিনিনগ্রাদকে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি থাকার কথা জানিয়ে ন্যাটোর কাছে কূটনৈতিক বার্তা পাঠিয়েছিল মস্কো। এর প্রতিক্রিয়ায় ন্যাটো রাশিয়ার পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের হুমকিকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে সমালোচনা করে।
ন্যাটোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জোটটি প্রতিরক্ষামূলক উদ্দেশ্যে পরিচালিত এবং তাদের সামরিক মহড়াগুলো কালিনিনগ্রাদ বা রাশিয়ার কোনো ভূখণ্ডের বিরুদ্ধে হুমকি নয়।
কালিনিনগ্রাদকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই পুতিন আবারও বলেছেন, ইউরোপের কোনো দেশ আক্রমণ করার ইচ্ছা রাশিয়ার নেই। বরং ইউরোপের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই মস্কোর লক্ষ্য। তবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আগ্রাসন হলে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।
ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গেও পশ্চিমা দেশগুলোকে সতর্ক করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট। তার মতে, চলমান সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের পাশাপাশি হামলা ও পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে।
পুতিন দাবি করেন, ইউক্রেনের রুশ তেল শোধনাগারগুলোতে হামলার কারণে দেশটির অর্থনীতিতে প্রভাব পড়েছে এবং এতে রাশিয়ার মোট দেশজ উৎপাদন প্রায় ১ শতাংশ কমেছে। তবে এসব হামলার জবাবে মস্কোও পাল্টা ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানান তিনি।
ভালদাই আলোচনা ক্লাবের বৈঠকে পুতিন আরও বলেন, বিশ্ব বর্তমানে একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সময় পার করছে। ব্যাপক ধ্বংসাত্মক অস্ত্র কখনো ব্যবহার করা হবে না—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাই এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগেই তা ঠেকানোর ওপর গুরুত্ব দেন রুশ প্রেসিডেন্ট।
বাল্টিক সাগরের তীরে পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মাঝখানে অবস্থিত কালিনিনগ্রাদ রাশিয়ার জন্য সামরিক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এই অঞ্চলকে ঘিরে ন্যাটোর সামরিক তৎপরতা এবং মস্কোর পাল্টা সতর্কবার্তা ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে।

