নিজের আইকিউ ‘সবচেয়ে বেশি’ দাবি করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি)-এর খ্যাতনামা পদার্থবিদ ও প্রকৌশলী তার প্রয়াত চাচা জন ট্রাম্পের কাছ থেকেই তিনি এই ‘আইকিউ’ পেয়েছেন।
টাইম সাময়িকীকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। ওই সাক্ষাৎকারে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইরানের যুদ্ধ, ওয়াশিংটন ডিসির সংস্কার এবং মূলধারার গণমাধ্যমের সঙ্গে বিরোধ নিয়েও কথা বলেন।
সাক্ষাৎকারে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যানকে তিনি বিশ্বাস করেন কি না—এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে হঠাৎ নিজের আইকিউ প্রসঙ্গ তোলেন ট্রাম্প। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনারা কি আমার চাচাকে নিয়ে খবরটি দেখেছেন? আমার আইকিউ সবচেয়ে বেশি। একেবারে সর্বোচ্চ। আমি ঠিক আছি এবং এসব বিষয় বুঝি। আপনারা জানেন, আমার চাচা ৪১ বছর এমআইটিতে ছিলেন। আর আমি—আমি সত্যি বলতে জেনেটিকসে বিশ্বাস করি এবং বিষয়টি বুঝি।’
জন ট্রাম্প এমআইটির প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। ক্যান্সার গবেষণায় অগ্রণী ভূমিকার জন্যও তিনি পরিচিত ছিলেন। ১৯৮৩ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান তাকে ‘ন্যাশনাল মেডেল অব সায়েন্স’ দেন। ১৯৮৫ সালে তার মৃত্যু হয়।

ট্রাম্পের মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে তাকে নিয়ে ঠাট্টা করেন। তারা বলেন, জেনেটিকসের মাধ্যমে চাচার বুদ্ধিমত্তা এভাবে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়ার দাবি সঠিক নয়।
একজন এক্স ব্যবহারকারী লেখেন, ‘ট্রাম্প জেনেটিকস কীভাবে কাজ করে, সেটিই বোঝেন না। তার চাচা যদি আসলে তার বাবা না হন, তাহলে তার বুদ্ধিমত্তা আসবে ট্রাম্পের বাবা-মা বা দাদা-দাদির কাছ থেকে, চাচার কাছ থেকে নয়।’
আরেকজন লেখেন, ‘কারও চাচা বুদ্ধিমান হলেই কেউ তার মতো বুদ্ধিমান হয়ে যায়—এটা একেবারেই কেউ বিশ্বাস করে না।’
অন্য একজনের মন্তব্য, ‘আপনার চাচা বুদ্ধিমান হলেই আপনিও বুদ্ধিমান হয়ে যাবেন, এমন নয়।’
এর আগে একাধিকবার নিজের প্রয়াত চাচার কথা বলেছেন ট্রাম্প। ২০২৪ সালের শুরুর দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমআইটির কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে জন ট্রাম্পের একটি সাদা-কালো ছবি প্রকাশ করেছিলেন তিনি। ছবির সঙ্গে ট্রাম্প লিখেছিলেন, ‘আমার চাচা, ড. জন ট্রাম্প, এমআইটিতে (প্রতিষ্ঠানটিতে ওক সংস্কৃতি চালুর অনেক আগে!)।’
২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারণাতেও জন ট্রাম্পের ‘ভালো জিন’-এর কথা বলেছিলেন ট্রাম্প। তিনি তখন বলেছিলেন, ‘এমআইটির ড. জন ট্রাম্প, ভালো জিন, খুব ভালো জিন, ঠিক আছে, খুব বুদ্ধিমান।’
গত বছরও চাচাকে নিয়ে একটি মন্তব্য করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তিনি ভুলভাবে দাবি করেছিলেন, তার চাচা কুখ্যাত ‘আনবমবার’ থিওডোর কাজিনস্কিকে পড়িয়েছিলেন। কাজিনস্কি হার্ভার্ড থেকে স্নাতক এবং মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ও পিএইচডি ডিগ্রি নেওয়ার পর ধারাবাহিক প্রাণঘাতী হামলা চালান।
গত বছর এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তৎকালীন হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেছিলেন, ‘প্রেসিডেন্ট তার পরিবার নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত।’
তিনি আরও বলেছিলেন, ‘আসলে প্রেসিডেন্টের কাছে তার চাচার এমআইটির লেটারহেডে লেখা একটি চিঠি রয়েছে, যা ওভাল অফিসের ডাইনিং রুমে রাখা আছে।’

