ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে প্রায় ৪০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সূত্র: এএফপি
গত সপ্তাহে রাজধানী প্যারিস থেকে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দ্রুত দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথ অবরোধ করেছেন এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষেও জড়িয়েছেন।
বার্তা সংস্থা এএফপি শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে।
আন্দোলনে মূলত অংশ নিচ্ছে ফরাসি উচ্চবিদ্যালয় বা ‘লিসে’-এর শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীরা। সাধারণত এসব প্রতিষ্ঠানে ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রধান অভিযোগ, তাদের হাইস্কুলে অতিরিক্ত সময় অবস্থান করতে হয়। এর পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষের অতিরিক্ত গরম পরিবেশ, অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি এবং শিক্ষক ও স্কুলের অন্যান্য কর্মীদের নিয়মিত অনুপস্থিতির বিষয়েও তারা অভিযোগ তুলেছে।
সরকার জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত অভিযোগগুলো যৌক্তিক বলে মনে হলেও সহিংসতার বিষয়টি তারা সমর্থন করে না।
বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ বারবার কাঁদানে গ্যাসের শেল ব্যবহার করেছে এবং অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
এএফপির এক আলোকচিত্রী জানিয়েছেন, শুক্রবার প্যারিসের দক্ষিণাঞ্চলের লিওনার্দো দা ভিঞ্চি এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের গাস্তোঁ বাশেলার নামের দুটি হাইস্কুলের প্রবেশপথ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে সেখানে দমকল বাহিনীকে ডাকা হয়।
শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে অভিযোগ করেছেন, কয়েকটি সহিংসতাপ্রবণ গোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
তিনি জানান, শুক্রবার দেশটির ৩ হাজার ৭০০টি হাইস্কুলের মধ্যে প্রায় ৪০০টি বন্ধ ছিল।
দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মার্সেইয়ের অনেক হাইস্কুল অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।
শিক্ষামন্ত্রী জেফ্রে বলেন, আন্দোলন শুরুর পর থেকে অন্তত ৬৫ জন শিক্ষক ও কর্মচারী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪০ জন হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক রয়েছেন।
এ ছাড়া প্রায় ১৭০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে এবং ১০০টির বেশি হাইস্কুল ‘গুরুতর ক্ষতির’ শিকার হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “অভিভাবকদের অবশ্যই এগিয়ে এসে সন্তানদের বিক্ষোভে যেতে নিষেধ করতে হবে। এখন সবচেয়ে জরুরি হলো, আমাদের সন্তানরা যেন আর রাস্তায় না থাকে, কারণ তারা বিপদের মধ্যে রয়েছে।”
বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানা বলেন, বিক্ষোভের সময় সন্তানদের কারণে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার দায় অভিভাবকদের ওপর বর্তাবে।
তিনি জানান, অভিভাবকরা যাতে ‘মেরামতের খরচ পরিশোধ করেন’ তা নিশ্চিত করতে সরকারি কৌঁসুলিদের অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
ফরাসি টিভি চ্যানেল আরটিএলকে দারমানা বলেন, আন্দোলন শুরুর পর থেকে প্রায় ২ হাজার মানুষকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের ৯০ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ছয় মাসের কিছু বেশি সময় আগে এই বিক্ষোভ ফ্রান্সের রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
সরকার অভিযোগ করেছে, কট্টর বামপন্থী দল ফ্রান্স আনবোড (এলএফআই) এই আন্দোলনের পেছনে রয়েছে। দলটির প্রভাবশালী নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ আবারও প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
তবে এলএফআইয়ের জ্যেষ্ঠ নেতা ম্যানুয়েল বোমপার সরকারের বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্বের আশ্রয় নেওয়ার’ অভিযোগ তুলেছেন।
শিক্ষামন্ত্রী জেফ্রে জানিয়েছেন, উত্তেজনা কমিয়ে আনতে শুক্রবার তিনি শিক্ষাবিষয়ক ট্রেড ইউনিয়ন এবং হাইস্কুল শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর সঙ্গে বৈঠক করছেন।

