বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্কের সম্পদে একদিনেই এসেছে বড় ধরনের উত্থান। প্রযুক্তি ও মহাকাশ খাতের দুই বড় প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স এবং টেসলার শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধির কারণে মাত্র এক দিনে তার সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে ৬১ বিলিয়ন ডলার।
ফোর্বসের সর্বশেষ ধনী ব্যক্তিদের তালিকা অনুযায়ী, ইলন মাস্কের আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ এখন দাঁড়িয়েছে ৯৭৯.৭ বিলিয়ন ডলারে। এর মাধ্যমে তিনি ১ ট্রিলিয়ন ডলার সম্পদের ঐতিহাসিক সীমার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন।
ফোর্বসের রিয়েল-টাইম বিলিয়নিয়ার তালিকায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২ অক্টোবর শুক্রবার স্পেসএক্স ও টেসলার শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে মাস্কের মোট সম্পদের ওপর।
স্পেসএক্সের শেয়ারের মূল্য একদিনে ৭ শতাংশের বেশি বেড়ে ১৫৮.৮৪ ডলারে পৌঁছায়। এর পেছনে প্রতিষ্ঠানটির একাধিক সফল মহাকাশ উৎক্ষেপণ বড় ভূমিকা রাখে। একই দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার শেয়ারের দামও প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে ৩৭১.৩২ ডলারে দাঁড়ায়।
বিশ্লেষকদের মতে, মাস্কের সম্পদের বড় অংশই নগদ অর্থ নয়; বরং তার মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ারমূল্যের ওপর নির্ভরশীল। ফলে টেসলা বা স্পেসএক্সের বাজারমূল্যে সামান্য পরিবর্তন হলেও তার ব্যক্তিগত সম্পদের হিসাব দ্রুত পরিবর্তিত হয়।
টেসলার তৃতীয় প্রান্তিকের গাড়ি সরবরাহের তথ্যও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করেছে। প্রতিষ্ঠানটি এই সময়ে ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৫৩২টি গাড়ি সরবরাহ করেছে, যা বাজার বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ছিল।
ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে ইলন মাস্কের সম্পদের পরিমাণ ৯৭৯.৭ বিলিয়ন ডলার হিসেবে অনুমান করা হয়। আগের দিনের তুলনায় এটি ৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেশি। বর্তমানে তিনি ফোর্বসের রিয়েল-টাইম বিলিয়নিয়ার তালিকায় প্রথম অবস্থানে রয়েছেন।
অন্যদিকে বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী ব্যক্তি হিসেবে রয়েছেন অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস। তার আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ৩৭০.৭ বিলিয়ন ডলার।
ইলন মাস্ক এর আগেও বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন মাসে তার সম্পদের পরিমাণ সর্বোচ্চ প্রায় ১.৪৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। তবে পরবর্তীতে টেসলা ও স্পেসএক্সের শেয়ারমূল্যের ওঠানামার কারণে তার সম্পদের পরিমাণে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে।
মাস্কের সম্পদের এই দ্রুত বৃদ্ধি আবারও প্রমাণ করছে যে আধুনিক বিশ্বের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজারমূল্য কীভাবে একজন উদ্যোক্তার ব্যক্তিগত সম্পদকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বদলে দিতে পারে। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক গাড়ি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মহাকাশ প্রযুক্তি এবং ভবিষ্যতের পরিবহন খাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা তার সম্পদ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
তবে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করা শুধু ব্যক্তিগত সম্পদের একটি নতুন রেকর্ড হবে না, বরং এটি বৈশ্বিক ব্যবসা ইতিহাসেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। কারণ এত বিপুল ব্যক্তিগত সম্পদের মালিক হওয়া এখন পর্যন্ত বিশ্বের ব্যবসায়িক ইতিহাসে বিরল একটি ঘটনা।
বর্তমানে পুরো বিশ্বের নজর রয়েছে টেসলা ও স্পেসএক্সের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের দিকে। এই দুই প্রতিষ্ঠানের সাফল্য অব্যাহত থাকলে ইলন মাস্ক খুব শিগগিরই বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়ন ডলার সম্পদের অধিকারী ব্যক্তি হিসেবে নতুন ইতিহাস তৈরি করতে পারেন।

