কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-সংক্রান্ত নীতি তদারকি ও প্রযুক্তিটির বিকাশে নতুন একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স’ নামের এই বিশেষ দলের নেতৃত্বে থাকবেন দেশটির জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক জে ক্লেটন। এআই খাতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ধরে রাখাই এর অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে গতকাল তিনি বিষয়টি জানান। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারের বিভিন্ন সংস্থার এআই-সংক্রান্ত কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবে নতুন এই টাস্কফোর্স। একই সঙ্গে প্রযুক্তিটির উন্নয়নে বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রণী অবস্থান নিশ্চিত করার কাজও থাকবে তাদের হাতে।
টাস্কফোর্সটি সরাসরি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং হোয়াইট হাউজের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলসের কাছে প্রতিবেদন দেবে। অর্থাৎ মধ্যবর্তী কোনো দপ্তরের মাধ্যমে নয়, শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ থাকবে এই দলের। বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন ট্রাম্প। সেই আদেশের মূল উদ্দেশ্য ছিল এআই-কে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ নামে অভিহিত করা। প্রেসিডেন্টের যুক্তি, ‘আর্টিফিশিয়াল’ বা ‘কৃত্রিম’ শব্দটি প্রযুক্তিটিকে কিছুটা নকল বা মেকি হিসেবে তুলে ধরে। এ ধারণা থেকেই এআইয়ের নাম বদলের উদ্যোগ নেন তিনি। নতুন টাস্কফোর্সের নামেও সেই পরিবর্তিত পরিভাষার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।
পর্যবেক্ষকদের একটি অংশের মতে, প্রযুক্তি খাতের নীতিনির্ধারণে এ ধরনের উদ্যোগ বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এআই এখন শুধু প্রযুক্তি বা বাণিজ্যের বিষয় নয়, জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িয়ে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে টাস্কফোর্সের নেতৃত্বে একজন গোয়েন্দা প্রধানকে রাখা ইঙ্গিত দিতে পারে যে প্রশাসন বিষয়টিকে নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
টাস্কফোর্সের সদস্য কারা থাকবেন, কোন কোন সরকারি সংস্থা এর আওতায় আসবে এবং কী ধরনের ক্ষমতা তাদের হাতে থাকবে, সে সম্পর্কেও এখন পর্যন্ত স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এসব প্রশ্নের উত্তরের ওপরই নির্ভর করবে দলটি বাস্তবে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।
এআই-কে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ নামে ডাকার সিদ্ধান্তও বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। নামের এই পরিবর্তন কেবল শব্দের হেরফের, নাকি নীতিগত অবস্থানের বদল, তা নিয়ে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে ভিন্ন মত থাকা অস্বাভাবিক নয়। আলোচনার সুযোগ রয়েছে এ নিয়েও যে প্রযুক্তির নাম বদলালে তার নিয়ন্ত্রণ, ঝুঁকি মূল্যায়ন কিংবা আইনি কাঠামোতে কোনো বাস্তব প্রভাব পড়বে কি না।
সব মিলিয়ে এআই খাতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত সমন্বয় জোরদার করার চেষ্টা হিসেবেই নতুন টাস্কফোর্স গঠনকে দেখা হচ্ছে। এর কার্যক্রম কীভাবে এগোয় এবং সরকারের এআই-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে এর প্রভাব কতটা পড়ে, সেদিকে নজর থাকবে প্রযুক্তি খাতের।

