বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব যখন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে পরিবহন খাত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে, তখন যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের মূল্যচাপ কমাতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে তিনি এতদিন সীমিত ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত ‘লাল ডিজেল’ বা ‘রেড ডায়েড ডিজেল’ সাধারণ গাড়ি ও মহাসড়কে চলাচলকারী ট্রাকে ব্যবহারের ক্ষেত্রে থাকা আইনি বাধা তুলে দিয়েছেন।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে লাল রঙের ডিজেল মূলত কৃষি যন্ত্রপাতি, ট্রাক্টর এবং ভারী শিল্পকারখানার কাজে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত ছিল। সাধারণ যানবাহনে এই জ্বালানি ব্যবহার করলে জরিমানা বা শাস্তির বিধান ছিল। নতুন আদেশের ফলে এখন প্রয়োজন অনুযায়ী সাধারণ নাগরিকরাও এই অপেক্ষাকৃত কম খরচের জ্বালানি ব্যবহার করতে পারবেন।
ট্রাম্প নেব্রাস্কা অঙ্গরাজ্যে আয়োজিত এক রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ডিজেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে স্থানীয় পর্যায়ে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা চাপের মধ্যে পড়েছেন। নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে করমুক্ত লাল ডিজেল ব্যবহারের সুযোগ দিলে পরিবহন ব্যয় কমবে এবং এর প্রভাব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের ওপরও পড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
লাল ডিজেল এবং প্রচলিত ডিজেলের মধ্যে মূলত গুণগত পার্থক্য নেই। উভয় জ্বালানির কার্যক্ষমতা প্রায় একই। পার্থক্য মূলত কর ব্যবস্থায়। সাধারণ ডিজেলের ওপর সরকার নির্ধারিত জ্বালানি কর যুক্ত থাকে, কিন্তু লাল ডিজেল সাধারণত করমুক্ত হওয়ায় এর দাম তুলনামূলক কম হয়। জ্বালানির এই ধরনটি আলাদা করে শনাক্ত করার জন্য এতে বিশেষ লাল রং মেশানো হয়।
দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে লাল ডিজেলের ব্যবহার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত ছিল। কারণ সরকার কর ফাঁকি রোধ করতে চেয়েছিল। কৃষি ও শিল্প খাতে ব্যবহারের জন্য করমুক্ত জ্বালানি সরবরাহ করা হলেও সাধারণ গাড়িতে এটি ব্যবহার করলে তা আইন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতো। তবে বর্তমানে ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রশাসন পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই নিয়মে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ স্বল্পমেয়াদে পরিবহন খাতে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। বিশেষ করে ট্রাক পরিবহন, পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা এবং কৃষিভিত্তিক ব্যবসায় জ্বালানি খরচ কমলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। কারণ ডিজেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকে খাদ্যপণ্য পরিবহন, শিল্প উৎপাদন এবং সরবরাহ ব্যবস্থার খরচ।
তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কিছু প্রশ্নও রয়েছে। করমুক্ত জ্বালানির ব্যাপক ব্যবহার সরকারের জ্বালানি কর আয় কমাতে পারে। পাশাপাশি লাল ডিজেলের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা দুর্বল হলে কর ব্যবস্থায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজার বর্তমানে নানা অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংঘাত, সরবরাহ সংকট এবং উৎপাদন ব্যয়ের পরিবর্তনের কারণে ডিজেল ও অন্যান্য জ্বালানির দাম ওঠানামা করছে। এর প্রভাব শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পরিবহন ও অর্থনীতিতেও পড়ছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত মূলত দ্রুত জ্বালানি ব্যয় কমানোর একটি প্রচেষ্টা। তবে এটি দীর্ঘমেয়াদে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম, সরবরাহ পরিস্থিতি এবং জ্বালানি নীতির ওপর। এখন দেখার বিষয়, লাল ডিজেলের ব্যবহার বাড়ানোর এই পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ কমাতে কতটা ভূমিকা রাখতে পারে।

