Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice মঙ্গল, অক্টো. 27, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • জলবায়ু ও পরিবেশ
      • লাইফস্টাইল
      • বিশ্লেষণ
      • কৃষি
      • রাজনীতি
      • ভিডিও
      • বিশেষ বিশ্লেষণ
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » সাত অক্টোবরের হামলা: নেতানিয়াহু সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে কেন?
    আন্তর্জাতিক

    সাত অক্টোবরের হামলা: নেতানিয়াহু সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে কেন?

    নিউজ ডেস্কঅক্টোবর 8, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    বিবিসি বাংলা

    বুধবার ভোরে গাজার সঙ্গে ইসরায়েলের সীমান্ত এলাকায় যখন ধীরে ধীরে আলো ফুটতে শুরু করে, তখন কার আজার বাসিন্দারা নীরবে কিবুতজের কেন্দ্রে থাকা অস্ত্রাগারের দিকে এগিয়ে যায়।

    ২০২৩ সালের সাতই অক্টোবর সকাল সাতটার কিছু পর সেখানেই হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলাকারীরা স্থানীয় ১৪ সদস্যের বেসামরিক প্রতিরক্ষা দলের সাতজনকে হত্যা করেছিল, সেদিন কার আজায় নিহত ৬৪ জনের মধ্যে তারাও ছিলেন।

    সেখান থেকে ১৯ জনকে অপহরণও করা হয়েছিল।

    সেই হামলার যন্ত্রণা এখনো সেখানে টাটকা। তবে তিন বছর পর এখন প্রশ্ন উঠছে, ইসরায়েলের নিরাপত্তাব্যবস্থার এই ব্যর্থতার দায় আর কাদের নেওয়া উচিত।

    “আমি চাই, আমার দেশ এই ঘটনার দায় নিক,” বলেছেন ইনবার গোল্ডস্টেইন, যার ভাই ও ভাইয়ের মেয়ে ওই হামলায় নিহত হয়েছেন এবং আরও চারজন আত্মীয়কে কার আজা থেকে অপহরণ করা হয়েছে।

    ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর সাত অক্টোবরের হামলাটি ছিল দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। সেদিন হামলাকারীরা সীমান্তের বেড়া ভেঙে দক্ষিণ ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালিয়ে প্রায় এক হাজার ২০০ জনকে হত্যা করে। আরও ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়।

    ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এই নিরাপত্তা ব্যর্থতার তিন বছর পেরিয়ে গেলেও, কীভাবে এমন হামলা ঘটতে পারল, তা জানতে এখনো কোনো স্বাধীন রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়নি।

    অথচ হামলার সময় দেশটির নেতৃত্বে থাকা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আবারও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিও আগের মতোই, শত্রুদের হাত থেকে ইসরায়েলকে রক্ষায় অন্য সবার চেয়ে বেশি শক্তিশালী ও কঠোর অবস্থান নেওয়া।

    গোল্ডস্টেইন বলেন, “কেউ এই হামলার মূল কারণগুলো তদন্ত করেনি। এর শুরু বা শেষ সাতই অক্টোবরে নয়। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের নিরাপত্তাকে অবহেলা করার ফল এটি।”

    ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলের কাফার আজায় হামাস-নেতৃত্বাধীন হামলার তৃতীয় বার্ষিকীতে নিহতদের স্মরণে মোমবাতি জ্বালানো হয় (৭ অক্টোবর ২০২৬)।
    তিন বছর আগে হামাস-নেতৃত্বাধীন বন্দুকধারীদের হাতে কার আজার ৬০ জনেরও বেশি বাসিন্দা নিহত এবং ১৯ জন জিম্মি হয়েছিলেন। ছবি: সংগৃহীত

    হামলার জন্য হামাসের দায় এবং পাশাপাশি ইসরায়েলে আরও কিছু প্রশ্ন এখন জোরালো হচ্ছে।

    যেমন, দেশটির গোয়েন্দারা কেন হামলার আগাম তথ্য জানতে ব্যর্থ হলেন? হামলার আগে সামরিক ও রাজনৈতিক নেতাদের কী কী তথ্য জানানো হয়েছিল? আর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজে কতটুকু জানতেন?

    হামলার কয়েক মাস আগে থেকেই গাজা সীমান্তের বিভিন্ন ঘাঁটিতে নজরদারির দায়িত্বে থাকা তরুণ নারী সেনাসদস্যরা সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি নিয়ে তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছিলেন।

    তাদের একজন ছিলেন রনি এশেল। সাত অক্টোবর কফার আজার কাছে নাহাল ওজ সামরিক ঘাঁটিতে সশস্ত্র হামলাকারীরা হামলা চালায়। ওই হামলায় তিনি ও তার ইউনিটের আরও ১৪ জন নিহত হন।

    রনির চাচা এলাদ লেভি বলেন, “অনেক প্রশ্নের উত্তর জানা দরকার। মিশরীয়রা কি প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক করেছিল? সংযুক্ত আরব আমিরাত কি কোনো সতর্কবার্তা দিয়েছিল? নেতানিয়াহু কি আরও কোনো সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছিলেন? আমাদের জানতে হবে আসলে কী ঘটেছিল। শুধু হামলার দিন নয়, তার এক বছর আগে, এমনকি পাঁচ বছর আগেও কী ঘটেছিল, সেটাও জানতে হবে।”

    তিনি আরও বলেন, “সত্যটা সবার সামনে আসা উচিত। আমরা যদি এসব বিষয়ে তদন্ত না করি, তাহলে একই ঘটনা বারবার ঘটবে।”

    জেরুজালেমের মাউন্ট হার্জেলে, ইসরায়েলের উপর ৭ অক্টোবর ২০২৩-এর হামলার শিকারদের স্মরণে আয়োজিত এক রাষ্ট্রীয় স্মরণসভায় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অংশগ্রহণ করেন (৫ অক্টোবর ২০২৬)।
    তিন বছর আগের নিরাপত্তা ব্যর্থতার জন্য কোনো ব্যক্তিগত দায়ভার নিতে অস্বীকার করেছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: EPA

    তিন বছর ধরে এমন অনেক খবর সামনে এসেছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে যে হামলার আগে নেতানিয়াহুকে সতর্ক করা হয়েছিল। তার নিজের নিরাপত্তাপ্রধানের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছ থেকেও সতর্কবার্তা এসেছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে নেতানিয়াহু এসব দাবি অস্বীকার করেছেন।

    গত মাসে ইসরায়েলের সংবাদপত্র হারেৎজ একটি নতুন বইয়ের কিছু অংশ প্রকাশ করে। সেখানে দাবি করা হয়, হামলার ১০ দিন আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতা নেতানিয়াহুকে ফোন করেছিলেন। হামাস বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছে বলে তাকে সতর্ক করেছিলেন তিনি।

    তবে নেতানিয়াহুর কার্যালয় এই প্রতিবেদনকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। সংবাদপত্রটির বিরুদ্ধে মামলা করার কথাও জানিয়েছে তারা।

    গত মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সদস্য আমির ওহানা বলেন, নেতানিয়াহু হামলার বিষয়ে আগে থেকেই জানতেন, এমন ধারণা “হাস্যকর ও অযৌক্তিক”।

    তার যুক্তি, গাজায় হামাসের তৎকালীন নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার নিজেই যখন মাত্র কয়েকজনকে হামলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন, তখন নেতানিয়াহুর পক্ষে তা জানা কীভাবে সম্ভব?

    ওহানা আরও বলেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী এরপর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বদলে দিয়েছেন। এমনকি ইসরায়েলের ভেতরে ও বাইরে থেকে অভিযান বন্ধের আহ্বান জানানো হলেও তিনি পিছু হটেননি।

    অন্যদিকে, সাতই অক্টোবরের হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতার জন্য নেতানিয়াহু তার দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর প্রধানদের দায়ী করেছেন।

    তার অভিযোগ, হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ইচ্ছা করেই তাকে ঘুম থেকে জাগাননি। কারণ তাদের আশঙ্কা ছিল, নেতানিয়াহু পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিপুলসংখ্যক সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দিতে পারেন। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।

    ইসরায়েলের ডানপন্থি টেলিভিশন চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, “প্রধানমন্ত্রীকে ঘুম থেকে জাগানো যাবে না! যদি তিনি বলেন, এখনই পুরো সেনাবাহিনীকে সতর্ক করো, বিমানবাহিনীকে অভিযানে পাঠাও!”

    তিনি আরও বলেন, “তারা যদি আমাকে ঘুম থেকে জাগাত, তাহলে এই ঘটনা ঘটত না।”

    এর মাধ্যমে নেতানিয়াহু বোঝাতে চেয়েছেন, তাকে আগে জানানো হলে তিনি এমন ব্যবস্থা নিতে পারতেন, যাতে ইসরায়েলকে হামলা থেকে আরও ভালোভাবে রক্ষা করা সম্ভব হতো।

    গাজা সীমান্ত বেড়ার ইসরায়েলি অংশে, হামাসের নেতৃত্বে ৭ অক্টোবর ২০২৩-এ ইসরায়েলের উপর চালানো হামলার সময় আগুন ধরিয়ে দেওয়া একটি ইসরায়েলি ট্যাংকের চারপাশে জড়ো হওয়া ফিলিস্তিনিদের দেখা যাচ্ছে। (ফাইল ছবি)
    হামাসের হামলার কয়েকদিন আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট তাকে সতর্ক করেছিলেন বলে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, নেতানিয়াহু তা অস্বীকার করেছেন। ছবি: সংগৃহীত

    ইসরায়েলের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নিয়ে একাধিক বই লিখেছেন সাংবাদিক ও লেখক ইয়াকভ কাৎজ।

    হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে হামাসের তৎপরতা নিয়ে ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে লিখেছেন তিনি।

    তার লেখা ‘হোয়াইল ইসরায়েল স্লেপ্ট’ বইয়ে হামলার আগের কয়েক ঘণ্টার বিভিন্ন ঘটনার বর্ণনা রয়েছে।

    সেখানে বলা হয়েছে, ভোরের দিকে ইসরায়েলের ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা ও গোয়েন্দাপ্রধানদের মধ্যে একাধিকবার ফোনে কথা হয়। ছুটিতে থাকা সামরিক কমান্ডারদের জরুরি ভিত্তিতে ফিরিয়ে আনা হয়। এমনকি সীমান্তে একটি বিশেষ গোয়েন্দা ইউনিটও পাঠানো হয়।

    কাৎজ বলেন, তখন নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ধারণা ছিল, হামাসের যোদ্ধারা বড়জোর সীমান্ত পেরিয়ে ছোট পরিসরে হামলা চালাতে পারে।

    তিনি বলেন, “সব নিরাপত্তাপ্রধানই যখন নেতানিয়াহুকে বলছেন যে বড় ধরনের হামলা হওয়ার আশঙ্কা নেই, তখন তিনি কেন ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে আগাম বড় ধরনের হামলার নির্দেশ দেবেন? তাকে ঘুম থেকে জাগালেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হতো না।”

    তবে কাটজ মনে করেন, হামাসের হামলার প্রস্তুতি বুঝতে না পারার দায় নিয়ে নেতানিয়াহুকে আরও কিছু প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।

    নেতানিয়াহুকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “আপনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। আপনিই নীতি নির্ধারণ করেছেন। হামাসকে নিয়ন্ত্রণে রাখার যে নীতি আপনি তৈরি করেছিলেন, তা গাজা গাজা সীমান্তে পাহারার দায়িত্বে থাকা সাধারণ সেনাসদস্যরাও সেই নীতি মেনে কাজ করতেন।”

    তিনি আরও বলেন, “সেই নীতি ছিল হামাসকে নিয়ন্ত্রণে রাখা, ফিলিস্তিনিদের মধ্যে বিভাজন বজায় রাখা এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ঠেকাতে হামাসকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখা।”

    ইসরায়েলের তেল আবিবে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছবি সম্বলিত একটি মুখোশ পরা এক বিক্ষোভকারী লাল রঙে ঢাকা একটি চাদরের উপর হাঁটু গেড়ে বসে আছেন। তার হাতে হিব্রু ভাষায় লেখা একটি প্ল্যাকার্ডে "দায়িত্বের" "অকাল মৃত্যু" ঘোষণা করা হয়েছে (৭ অক্টোবর ২০২৬)।
    একটি রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবিতে ইসরায়েলিরা বিক্ষোভ করেছে। ছবি: সংগৃহীত

    বছরের পর বছর ধরে নেতানিয়াহু গাজায় হামাসের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে না গিয়ে সংগঠনটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার নীতি অনুসরণ করেছেন। এই সময়ে ইসরায়েলি সরকারগুলো কাতারকে গাজার জন্য কয়েকশ কোটি ডলারের সহায়তা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছিল।

    সাতই অক্টোবরের হামলার এক মাস পর জার্মানির একটি সংবাদপত্রকে নেতানিয়াহু বলেন, তিনি হামাসকে শক্তিশালী করতে চেয়েছিলেন বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা “সম্পূর্ণ মিথ্যা”।

    জার্মান সংবাদপত্র ডি ভেল্টকে তিনি বলেন, “বরং, আমরা হামাসকে যতটা সম্ভব দুর্বল করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ওই অর্থ দেওয়া হয়েছিল গাজায় সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় এড়াতে। এটাই ছিল একমাত্র কারণ।”

    হামলার কয়েক মাস পর ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) তৎকালীন প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল হেরজি হালেভি সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চান।

    তিনি বলেন, এই ব্যর্থতার দায় তার কাঁধে ও মনে সবসময় বহন করছেন।

    পরে তিনি পদত্যাগ করেন। এরপর বেশ কয়েকজন সামরিক কমান্ডারকে বরখাস্ত করা হয়। ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানও পদ ছেড়ে দেন।

    তবে নেতানিয়াহু এখন পর্যন্ত সাতই অক্টোবরের হামলার জন্য ব্যক্তিগতভাবে কোনো দায় স্বীকার করেননি।

    সাতই অক্টোবরের হামলার সময় আইডিএফের আন্তর্জাতিক মুখপাত্র ছিলেন কর্নেল রিচার্ড হেখট।

    তিনি বলেন, নেতানিয়াহুসহ রাজনৈতিক নেতাদের দায় স্বীকার না করার বিষয়টি ছিল ছয় মাস পর তার পদত্যাগের অন্যতম কারণ।

    তিনি বলেন, “এটি লজ্জাজনক। জবাবদিহির প্রশ্নে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মধ্যে কোনো সমস্যা আছে বলে আমি মনে করি না। অথচ এটাই কষ্টের বিষয়। রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সামরিক বাহিনীর মধ্যে তিক্ত সম্পর্কের অন্যতম প্রধান কারণ এটি।”

    সোমবার জেরুজালেমে সাতই অক্টোবরের হামলায় নিহতদের স্মরণে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে নিহত একজনের বাবা উঠে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর কাছে জবাবদিহি দাবি করেন।

    তিনি বলেন, “আপনি আমার ছেলেকে রক্ষা করেননি। যারা নিহত হয়েছেন, তাদের কাউকেই রক্ষা করেননি।”

    এরপর নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যান।

    সে সময় তিনি চিৎকার করে বলতে থাকেন, “লজ্জা! ধিক্কার!”

    ইসরায়েলের তেল আবিবের একটি বহুতল ভবন থেকে ঝোলানো একটি বিশাল ব্যানারে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে দেখা যাচ্ছে, যার সাথে হিব্রু ভাষায় লেখা আছে, “আমরা আত্মসমর্পণ করব না” (৬ অক্টোবর ২০২৬)।
    নেতানিয়াহু আত্মসমর্পণ করেন না” – এটা ডানপন্থী লিকুদ দলের একটি স্লোগান। ছবি: EPA

    সাতই অক্টোবরের হামলার তিন বছর পর ইসরায়েলে জবাবদিহির দাবি আরও জোরালো হচ্ছে।

    হামলার ঘটনায় তদন্তের জন্য সরকারকে একটি রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের নির্দেশ দিতে দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

    এই আন্দোলনে যুক্ত আছেন ইসরায়েলের সাবেক মন্ত্রী ও বিরোধী রাজনীতিক ইজহার শাই। সাতই অক্টোবরের হামলায় তার ছোট ছেলে ইয়ারন নিহত হন। ইয়ারন একজন সেনাসদস্য ছিলেন।

    গত সপ্তাহে তেল আবিবে এক বিক্ষোভের সময় তিনি বলেন, “সাতই অক্টোবরের ঘটনা সম্পর্কে পুরো সত্য না জেনেই আমরা নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।”

    তিনি আরও বলেন, “আমাদের প্রধানমন্ত্রী কখনো শপথ নিয়ে ওই ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি। তাকে কখনো কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে সবকিছুর ব্যাখ্যা দিতে হয়নি।”

    নেতানিয়াহু বরাবরই ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্টের নেতৃত্বে রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের বিরোধিতা করে আসছেন।

    সম্প্রতি তিনি যুক্তি দিয়েছেন, দেশটির বিচার বিভাগ তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক অবস্থান নিতে পারে।

    নির্বাচন ঘোষণার আগে তার সরকার বিকল্প হিসেবে একটি ‘জাতীয় তদন্ত কমিশন’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিল। প্রস্তাব অনুযায়ী, কমিশনের সদস্যদের নিয়োগ দেবে রাজনৈতিক দলগুলো।

    তবে জুলাইয়ে পার্লামেন্টের অধিবেশন শেষ হওয়ার আগে বেশ কিছু আইন পাস করলেও তদন্ত কমিশন গঠনের পরিকল্পনা নিয়ে বিলটি পাস করতে পারেনি ইসরায়েল সরকার।

    সরকারের দাবি, সময়ের অভাবে বিলটি পাস করা সম্ভব হয়নি।

    এ বিষয়ে সাক্ষাৎকারের জন্য নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির বেশ কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। তবে তাদের কারও সাক্ষাৎকার পাওয়া যায়নি।

    সমালোচকদের অভিযোগের বিষয়ে দলটির বক্তব্যও জানতে চাওয়া হয়েছে। তবে এখনো কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

    বিরোধীদলীয় রাজনীতিবিদ গাদি আইজেনকোট দক্ষিণ ইসরায়েলের রেইমের কাছে, হামাস-নেতৃত্বাধীন ৭ অক্টোবর ২০২৩-এর হামলায় নিহত ইসরায়েলিদের একটি রাস্তার পাশের বোমা আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন (৭ অক্টোবর ২০২৬)।
    গাদি আইজেনকোট ও অন্যান্য বিরোধী নেতারা একটি রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের আহ্বানকে সমর্থন জানিয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

    নেতানিয়াহুর সাতই অক্টোবরের হামলার দায় অস্বীকার এখন একটি নির্বাচনী ইস্যুতে পরিণত হয়েছে, কারণ তিনি এই মাসের শেষের দিকে পুনর্নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

    নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকটের দল ‘স্লিপি বিবি’ নামে একটি ভিডিও গেম প্রকাশ করেছে। এই গেমে খেলোয়াড়দের কাজ হলো, হামলার সতর্কবার্তাগুলো এড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে দায় নেওয়া থেকে বাঁচানো এবং ‘নিরাপদে বিছানায় পৌঁছে দেওয়া’।

    কয়েক দশক ধরে নেতানিয়াহু নিজেকে ইসরায়েলের ‘মিস্টার সিকিউরিটি’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছেন। এমনকি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা ব্যর্থতার সময় ক্ষমতায় থাকার পরও তিনি আবার একই নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন।

    গত তিন বছর ধরে তিনি ইসরায়েলের শত্রু হিসেবে বিবেচিত হামাস, হেজবুল্লাহ ও ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নতুন যুদ্ধ পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

    জনমত জরিপগুলো বলছে, এবারের নির্বাচনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। আর অনেক ভোটারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সাতই অক্টোবরের হামলা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

    ইয়াকভ কাটজের মতে, সাতই অক্টোবরের হামলার প্রভাবকে দুই দিক থেকে দেখা যায়।

    তিনি বলেন, “একদিকে রয়েছে সেই ব্যর্থতা ও ভুলগুলো, যার কারণে হামাস ইসরায়েলে হামলা চালাতে পেরেছিল। অন্যদিকে রয়েছে নেতানিয়াহুর যুক্তি। তিনি দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বদলে দিয়েছেন এবং ইসরায়েলকে আগের চেয়ে নিরাপদ করেছেন। ভোট দেওয়ার সময় ইসরায়েলিরা এই দুটি বিষয়ই বিবেচনায় নেবেন।”

    সাতই অক্টোবরের হামলার প্রভাব এবারের নির্বাচনেও স্পষ্ট। এই হামলাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিকভাবে আবারও বিভক্ত হয়ে পড়েছে ইসরায়েল।

    নেতানিয়াহুর সমর্থকদের মতে, ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনো তার নেতৃত্ব প্রয়োজন।

    অন্যদিকে, সমালোচকদের দাবি, নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় টিকে থাকাই ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    আন্তর্জাতিক

    উগান্ডায় ৩৮ খুনের অভিযোগে কথিত সিরিয়াল কিলার নরখাদক মুজুরিজি গ্রেপ্তার

    অক্টোবর 27, 2026
    বিশ্ব অর্থনীতি

    বিটকয়েনের দাম নামল ৮০ হাজার ডলারের নিচে

    অক্টোবর 27, 2026
    মতামত

    দ্বৈত পেশায় আইনজীবী: নিয়ম আছে, কার্যকর প্রয়োগ কাঠামো কোথায়?

    অক্টোবর 27, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.