ইরানের সঙ্গে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বহরে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস (সিআরএস)। সংস্থাটির প্রতিবেদনের বরাতে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৮১টি বিমান, হেলিকপ্টার ও চালকবিহীন আকাশযান (ড্রোন) ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব সরঞ্জামের সম্ভাব্য আর্থিক মূল্য প্রায় ৩৩০ কোটি ডলার।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষয়ক্ষতির তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, নজরদারি বিমান, আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান এবং বিশেষ অভিযানে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে চালকবিহীন আকাশযান বহর।
সিআরএসের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র অন্তত ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হারিয়েছে। প্রতিটি ড্রোনের আনুমানিক মূল্য ৩ কোটি থেকে ৫ কোটি ডলারের মধ্যে। এই ক্ষতির ফলে মার্কিন বিমানবাহিনীর মোতায়েনযোগ্য রিপার ড্রোনের সংখ্যা ১৮৯টির নির্ধারিত সক্ষমতার নিচে নেমে এসেছে। মার্কিন বিমানবাহিনীর এক জেনারেল মে মাসে দেশটির সিনেটে এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন।
সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত যুদ্ধবিমান বহরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯ মার্চ ইরানের হামলায় একটি এফ-৩৫এ লাইটনিং-২ স্টেলথ যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই যুদ্ধবিমানটির মূল্য প্রায় ৯ কোটি ২০ লাখ ডলার।
এ ছাড়া এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমানেরও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। মোট ১২টি এফ-১৫ই ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি যুদ্ধবিমান ২ মার্চ কুয়েতের আকাশে ভুলবশত নিজেদের বাহিনীর হামলায় ধ্বংস হয়। পরে আরেকটি ইরানের আকাশে ভূপাতিত হয়।
জর্ডানের মুয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর ইরানের হামলায় আরও আটটি এফ-১৫ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবে এসব বিমান পরে মেরামত করে আবার সক্রিয় করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
শুধু যুদ্ধবিমান নয়, যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি ও আক্রমণ সক্ষমতার অন্যান্য প্ল্যাটফর্মও ক্ষতির মুখে পড়েছে। একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট-২ আক্রমণ বিমান এপ্রিল মাসে হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সেপ্টেম্বরের হামলায় আরেকটি এ-১০ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এ ছাড়া প্রায় ২৭ কোটি ডলার মূল্যের একটি ই-৩ সেন্ট্রি আর্লি ওয়ার্নিং বিমানও হারিয়েছে মার্কিন বাহিনী। বোয়িং ৭০৭ যাত্রীবাহী বিমানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই নজরদারি বিমান যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ আকাশ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার অংশ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিশেষ অভিযান, জ্বালানি সরবরাহ ও গোয়েন্দা কার্যক্রমে ব্যবহৃত কয়েকটি বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাতটি কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান, দুটি এমসি-১৩০জে কমান্ডো-২ বিশেষ অভিযান বিমান, একটি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন সামুদ্রিক নজরদারি ড্রোন এবং তিনটি এমকিউ-১ ড্রোন।
হেলিকপ্টার বহরেও ক্ষতি হয়েছে। একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি আক্রমণ হেলিকপ্টার, চারটি এএইচ-৬ লিটল বার্ড হালকা আক্রমণ হেলিকপ্টার, একটি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ জলি গ্রিন-২ উদ্ধার হেলিকপ্টার এবং একটি মার্কিন নৌবাহিনীর এমএইচ-৬০ সি হক হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ক্ষয়ক্ষতি শুধু আর্থিক ক্ষতির বিষয় নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সক্ষমতা ও আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জামের প্রাপ্যতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর ড্রোন ও স্টেলথ যুদ্ধবিমানের ক্ষতি পূরণ করতে সময় ও বিপুল অর্থ প্রয়োজন হতে পারে।

