ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৮১টির বেশি সামরিক বিমান ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তাঁর মতে, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি। এই দাবির পক্ষে তিনি যুক্তরাষ্ট্রেরই একটি সরকারি গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরেছেন। তবে দাবিটি ইরানি পক্ষের, মার্কিন কর্তৃপক্ষের কোনো প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
আজ বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি এ কথা বলেন। পোস্টে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের (সিআরএস) একটি প্রতিবেদনের উল্লেখ করেন। ‘অপারেশন এপিক ফিউরি: কনসিডারেশনস ফর কংগ্রেস’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনের একটি ছবিও তিনি পোস্টের সঙ্গে যুক্ত করেছেন।
সিআরএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ৮১টি স্থির-পাখার ও ঘূর্ণায়মান-পাখার বিমান হারিয়ে গেছে অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে চালকবিহীন বিমান বা ড্রোনও রয়েছে। এখানে লক্ষ করার বিষয়, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ‘হারিয়ে গেছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে’। আরাগচি এই সংখ্যাকে ‘ধ্বংস’ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।
আরাগচির ভাষ্য, মে মাসে সিআরএস স্বীকার করেছিল, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ৪২টি সামরিক বিমান ধ্বংস হয়েছে। এখন সেই সংখ্যা বেড়ে ৮১-তে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিবেদনের তালিকা অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত বা হারিয়ে যাওয়া বিমানের মধ্যে রয়েছে ১২টি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল, একটি এফ-৩৫এ, দুটি এ-১০, সাতটি কেসি-১৩৫ ট্যাংকার, একটি ই-৩ সেন্ট্রি, দুটি এমসি-১৩০জে এবং একটি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ হেলিকপ্টার। এ ছাড়া আছে একটি এমকিউ-৪সি, তিনটি এমকিউ-১ ড্রোন, ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার, একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি, চারটি এএইচ-৬ লিটল বার্ড এবং একটি এমএইচ-৬০ সি হক। তালিকায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যা এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনের, যা মোট ক্ষতির অর্ধেকের বেশি।
আরাগচি আরও দাবি করেন, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ সরকারি হিসাবের চেয়ে বেশি। এর প্রমাণ হিসেবে তিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) একটি সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, যেসব সামরিক ঘাঁটি অক্ষত বা ভালো অবস্থায় আছে বলে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, সেগুলো পরিদর্শনের অনুমতি একজন বর্তমান মার্কিন সিনেটরকে দেওয়া হচ্ছে না। মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি লেখেন, সব মানুষকে কিছু সময়ের জন্য বোকা বানানো যায়। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সিনেটরকে পরিদর্শনের অনুমতি না দেওয়ার অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
এই দাবির তাৎপর্য বুঝতে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা দরকার। প্রথমত, ক্ষতির সংখ্যা ও ধরন নিয়ে যুদ্ধরত পক্ষগুলোর বক্তব্য প্রায়ই পরস্পরবিরোধী হয়। দ্বিতীয়ত, একটি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনকে উদ্ধৃত করায় ইরান নিজের দাবিকে বাড়তি বিশ্বাসযোগ্যতা দিতে চেয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত আর ধ্বংস হওয়া এক বিষয় নয়, এবং এসব বিমানের কতগুলো ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা নিয়েও আরাগচির বক্তব্য প্রতিবেদনের ভাষ্যের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে কি না, সে প্রশ্ন থেকে যায়।
সব মিলিয়ে যুদ্ধের তথ্য নিয়ে প্রচারণা ও পাল্টা প্রচারণা আরও তীব্র হচ্ছে। এখন নজর থাকবে, যুক্তরাষ্ট্র আরাগচির দাবি ও সিনেটরের পরিদর্শন নিয়ে কী প্রতিক্রিয়া জানায় এবং স্বাধীন সূত্রে ক্ষয়ক্ষতির কোনো যাচাইকৃত চিত্র পাওয়া যায় কি না।

