মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পছন্দের শব্দ ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ গ্রহণ না করা যে কাউকেই হোয়াইট হাউস “শত্রু” হিসেবে বিবেচনা করবে। বৃহস্পতিবার এমন কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সূত্র: পলিটিকো
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিভিন্ন বিধিনিষেধ ও সুরক্ষাকবচ তৈরির দাবির মুখেই তিনি শব্দটিকে এভাবে নতুন করে ব্র্যান্ডিং করার প্রচারণা আরও উসকে দিলেন।
ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যালের পোস্টে বলেন, ‘হোয়াইট হাউস এমন যে কাউকে ‘শত্রু’ মনে করে, যিনি ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া নতুন এবং আরও সঠিক শব্দ ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’-এর পরিবর্তে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) শব্দটি ব্যবহার করেন!’
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-কে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ হিসেবে পুনঃনামকরণ করা প্রেসিডেন্টের সেই রিব্র্যান্ডিং (নতুন ভাবমূর্তি তৈরির) প্রচেষ্টারই অংশ, যার লক্ষ্য দ্রুত বিকাশমান এই প্রযুক্তির ওপর ইতিবাচক আলো ফেলা।
বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সরকারি ওয়েবসাইটে অনিয়ন্ত্রিত এআই এজেন্টের ঢুকে পড়ার ঘটনা সামনে আসার পর, এর নিরাপত্তা বিষয়ক উদ্বেগ মোকাবিলায় উপযুক্ত প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা (গার্ডরেইল) রয়েছে কি না- তা নিয়ে আইনপ্রণেতা ও বিশেষজ্ঞদের তীব্র নজরদারির মুখে পড়েছে এই প্রযুক্তি।

তবে এআই-এর বিকাশকে সীমিত করার দাবিগুলোকে ট্রাম্প অনেকটা উড়িয়েই দিয়েছেন। তিনি হোয়াইট হাউসে শতকোটিপতি নির্বাহীদের সাথে বৈঠক করে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, এই দ্রুত বিকাশমান প্রযুক্তি বিশ্বের জন্য সামগ্রিকভাবে কল্যাণকর এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
তার মতে, ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দটির মাধ্যমে প্রযুক্তির প্রকৃত সক্ষমতাকে আরও ভালোভাবে ফুটিয়ে তোলা যায় এবং ইতোমধ্যে তিনি এ খাতের কিছু নির্বাহী কর্মকর্তাকে এই শব্দটি ব্যবহারে রাজি করিয়েছেন।
হোয়াইট হাউস তাদের ওয়েবসাইটের এআই সংক্রান্ত পাতাও হালনাগাদ করেছে যেখানে ‘এআই’ শব্দটি মুছে ফেলে তার জায়গায় ‘এসআই’ (সুপার ইন্টেলিজেন্স-এর সংক্ষিপ্ত রূপ) বসানো হয়েছে। (যদিও ওয়েবসাইটের ডোমেইন নামটি এখনও এআই ডট গভ হিসেবেই রয়েছে)। এছাড়া হোয়াইট হাউসের মূল পাতায় থাকা “এআই অ্যাকশন প্ল্যান”-এর বিবরণটি বদলে সেখানে এআই-কে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ হিসেবে রিব্র্যান্ড করা সংক্রান্ত ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের উল্লেখ যুক্ত করা হয়েছে।
প্রযুক্তিশিল্পের ধনকুবের ইলন মাস্ক- রবিবার এক্স-এ ঘোষণা দিয়েছেন যে, তিনি তার এআই কোম্পানি ‘স্পেসএক্স এআই’-এর নাম বদলে ‘স্পেসএক্স এসআই’ রাখবেন। এছাড়া ট্রাম্প গত বৃহস্পতিবার মাস্ক এবং এনভিডিয়া-এর সিইও জেনসেন হুয়াংকে বিজ্ঞান ও প্রকৌশল ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মাননা ‘ন্যাশনাল মেডেল অব সায়েন্স’ তুলে দেন।
নিজের প্রেসিডেন্সির পুরো সময় জুড়েই ট্রাম্প একাধিক বিষয়ের নাম পরিবর্তনের চেষ্টা চালিয়েছেন; যার মধ্যে ‘মেক্সিকো উপসাগর’-কে ‘আমেরিকা উপসাগর’ এবং ‘লেক অন্টারিও’-কে ‘লেক আমেরিকা’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া অন্তর্ভুক্ত।
দক্ষিণে অবস্থিত এই উপসাগরটির জন্য তার প্রস্তাবিত নতুন নাম গ্রহণ না করায়, তার প্রশাসন ‘অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস’-কে হোয়াইট হাউসের একাংশে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার চেষ্টাও করেছিল।

