শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লে। তিনি নাভি পিল্লে নামেই বেশি পরিচিত। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার বিকেল তিনটার পর নরওয়ের রাজধানী অসলো থেকে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি।
গত কয়েক বছরের পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকা দেখলে বোঝা যায়, নোবেল কমিটি বারবার মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও শান্তির পক্ষের লড়াইকে সামনে এনেছে। গত বছর এই পুরস্কার পান ভেনেজুয়েলার মারিয়া কোরিনা মাচাদো। দেশটির মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় অবিচল ও সাহসী ভূমিকা এবং স্বৈরশাসন থেকে ন্যায়ভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক রূপান্তরের দীর্ঘ লড়াইয়ের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে পুরস্কৃত করা হয়।
২০২৪ সালে পুরস্কার পায় জাপানের পরমাণু অস্ত্রবিরোধী সংগঠন নিহন হিদানকিয়ো। হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পরমাণু বোমা হামলায় বেঁচে যাওয়া মানুষদের এই তৃণমূল আন্দোলন বিশ্বে পারমাণবিক অস্ত্রবিরোধী প্রচারণার প্রতীক। তার আগের বছর, ২০২৩ সালে নোবেল পান ইরানের নার্গিস মোহাম্মাদি। ইরানি নারীদের ওপর নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই এবং সবার জন্য মানবাধিকার ও স্বাধীনতার প্রচারের জন্য তাঁকে এই সম্মান দেওয়া হয়।
২০২২ সালে পুরস্কার ভাগ করে নেন বেলারুশের মানবাধিকার আইনজীবী আলেস বিলিয়াতস্কি, রুশ মানবাধিকার সংস্থা মেমোরিয়াল ও ইউক্রেনের মানবাধিকার সংস্থা সেন্টার ফর সিভিল লিবার্টিজ। ২০২১ সালে ফিলিপাইনের সাংবাদিক মারিয়া রেসা ও রাশিয়ার সাংবাদিক দিমিত্রি মুরাতভ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য সাহসী লড়াইয়ের স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কৃত হন।
নোবেল শান্তি পুরস্কারের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশিবার এই সম্মান পেয়েছে রেড ক্রস। প্রতিষ্ঠানটি ১৯১৭, ১৯৪৪ ও ১৯৬৩ সালে, অর্থাৎ মোট তিনবার পুরস্কার পেয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর পেয়েছে দুবার, ১৯৫৪ ও ১৯৮১ সালে।
এ বছরের পুরস্কার ঘোষণায় শান্তির সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইনের প্রসঙ্গটি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। বিশ্বের নানা প্রান্তে সংঘাত, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও আইনি জবাবদিহির প্রশ্ন যখন আলোচনার কেন্দ্রে, তখন কমিটির এই সিদ্ধান্ত আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের ওপর জোর দেওয়ার একটি বার্তা বহন করে বলে মনে করা যায়।
তবে নাভি পিল্লের কাজ, তাঁর অবদানের বিস্তারিত এবং নোবেল কমিটির ঘোষণার ভাষ্য এখনো এই প্রতিবেদনে আসেনি। কমিটির আনুষ্ঠানিক বিবৃতি ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের তথ্য প্রকাশিত হলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

