ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন দেশটির প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে একটি স্মারকলিপি দিতে চেয়েছিলেন। তবে বিচার বিভাগের প্রচলিত রীতি এবং ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতির বিষয়টি উল্লেখ করে সেই আবেদন গ্রহণ করেননি প্রধান বিচারপতি।
ইন্ডিয়া জোটের পরিকল্পনা ছিল, সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে একটি বড় পদযাত্রা করে প্রধান বিচারপতির হাতে নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি তুলে দেওয়া।
এর আগে ইন্ডিয়া টুডে টিভির হাতে আসা প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি চিঠিতে বৈঠকের আবেদন প্রত্যাখ্যানের কারণ উল্লেখ করা হয়।
চিঠিতে প্রধান বিচারপতি জানান, বিরোধী নেতারা যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চাচ্ছেন, সেগুলো ইতোমধ্যে বিচারাধীন রয়েছে। ফলে বিচার বিভাগের একজন কর্মকর্তা হিসেবে ব্যক্তিগত বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা বিচারবিভাগীয় নৈতিকতা এবং সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থী।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত চিঠিতে লিখেছেন, বিচারাধীন বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য কোনো বৈঠকের আয়োজন করা ভারতের সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অন্যতম অংশ ‘ক্ষমতার পৃথকীকরণ’ নীতির লঙ্ঘন।
তিনি আরও বলেন, বিরোধী নেতারা যে প্রশাসনিক জটিলতার বিষয়গুলো তুলে ধরতে চাচ্ছেন, সেগুলোর সমাধানের প্রশাসনিক একচ্ছত্র ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের নেই।
তবে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় আদালত সবসময় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কংগ্রেস নেতৃত্বকে রাজনৈতিকভাবে স্মারকলিপি দেওয়ার পরিবর্তে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।
তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে স্মারকলিপি দেওয়ার পরিবর্তে আদালতের বিচারবিভাগীয় ক্ষমতাকে কাজে লাগানো উচিত।
প্রধান বিচারপতি জানান, নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত একই ধরনের অন্যান্য মামলার শুনানি মঙ্গলবার নির্ধারিত রয়েছে।
রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গেকে দেওয়া বার্তায় তিনি বলেন, তারা চাইলে সোমবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটের মধ্যে সরাসরি অথবা ই-ফাইলিংয়ের মাধ্যমে আবেদন জমা দিতে পারেন।
আইন অনুযায়ী কোনো পিটিশন জমা পড়লে তা দ্রুততম সময়ে শুনানির আশ্বাসও দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এই অবস্থানের পর ভারতের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

