সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্য করে টানা তৃতীয় দিনের মতো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছে, তাদের বাহিনী রিয়াদের দিকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিহত করেছে। গত কয়েক দিনে একের পর এক হামলায় রিয়াদে অন্তত ১৪ জনের প্রাণ গেছে। সেই ধাক্কা সামলে ওঠার চেষ্টার মধ্যেই নতুন করে হামলার খবর এল।
আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হুতিরা রিয়াদ লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। জোটের বাহিনী সেটি প্রতিহত করেছে। এর বাইরে সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতের দিকেও আরও দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। সেগুলোর পরিণতি বা ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।
এর আগে রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর হামলার পর ধোঁয়া ও আগুনের কুণ্ডলী দেখা গিয়েছিল। রয়টার্সের তোলা ছবির ক্যাপশন অনুযায়ী, ওই হামলা হয় ৮ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার। আল-জাজিরার আগের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বিমানবন্দরে হামলার পর রিয়াদের আকাশ প্রায় ফাঁকা হয়ে পড়ে। বিমান চলাচলে এই ব্যাঘাত শুধু যাত্রীদের ভোগান্তিই বাড়ায়নি, রাজধানীর নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। পরে আরও একজনের মৃত্যুর খবর আসে। সেই হিসাবে দুই দিনে বিমানবন্দর-সংশ্লিষ্ট হামলায় মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৪।
এই ঘটনাপ্রবাহে কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রথমত, হামলা এখন আর সীমান্তবর্তী এলাকায় সীমাবদ্ধ নেই। রিয়াদের মতো রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রকে বারবার লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। একই সঙ্গে খামিস মুশাইতের দিকেও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। অর্থাৎ হুতিরা একাধিক দিক থেকে সৌদি ভূখণ্ডে চাপ বাড়াতে চাইছে বলে মনে হচ্ছে।
দ্বিতীয়ত, সৌদি জোটের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্রটি ঠেকাতে পারলেও আগের হামলাগুলোতে প্রাণহানি ঘটেছে। ফলে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা কতটা কার্যকর, তা নিয়ে আলোচনা উঠতেই পারে। তবে প্রতিবেদনে এ বিষয়ে কোনো মূল্যায়ন নেই। তাই এ নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলার সুযোগ কম।
তৃতীয়ত, হুতিদের ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিসেবে পরিচয় দেওয়ায় ঘটনাটির একটি আঞ্চলিক মাত্রাও রয়েছে। সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে টানাপোড়েন, ইয়েমেনের দীর্ঘ সংঘাত এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা, এসব বিষয় এই হামলার সঙ্গে জড়িয়ে যেতে পারে। তবে এসব নিয়ে আলোচ্য প্রতিবেদনে কোনো সরাসরি তথ্য দেওয়া হয়নি।
আপাতত পরিস্থিতির মূল চিত্র হলো, টানা তিন দিন ধরে রিয়াদ হামলার মুখে। অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, বিমান চলাচলে ব্যাঘাত ঘটেছে, আর জোট ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর দাবি করছে। হামলার সর্বশেষ সময়, হুতিদের পক্ষ থেকে কোনো বিবৃতি এবং সৌদি সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে এখনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এসব তথ্য সামনে এলে ঘটনার গতিপথ আরও পরিষ্কার হবে।

