ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে করা কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও ইন্ডি জোটের শীর্ষ নেতাদের আবেদনে ১৪টি প্রযুক্তিগত ও তথ্যগত ত্রুটি চিহ্নিত করেছে আদালতের রেজিস্ট্রি। নিয়ম অনুযায়ী, মামলাটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করতে হলে আগে এই ত্রুটিগুলো সংশোধন করতে হবে। ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে করা এই আবেদনের শুনানি শুরুর আগেই একটি আইনি প্রস্তুতির ধাপ বাকি থেকে গেল।
ভারতের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে আবেদনটি করেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদব, সৌগত রায় ও সঞ্জয় রাউতসহ ইন্ডি জোটের অন্য শীর্ষ নেতারা। আবেদনে ভোটসংক্রান্ত একটি বিশেষ প্রক্রিয়ার ওপর স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়েছে। বিবাদী করা হয়েছে নির্বাচন কমিশন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারকে।
নিউজ ১৮ বাংলার বরাত দিয়ে জানা গেছে, রেজিস্ট্রির আপত্তির তালিকায় রয়েছে প্রয়োজনীয় নথির অভাব, আবেদনকারীদের অসম্পূর্ণ অনুমতিপত্র এবং ফি বাবদ ২২০ টাকা কম জমা দেওয়া। রেজিস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, নয়জন আবেদনকারীর অনুমতিপত্র অসম্পূর্ণ। কংগ্রেস সভাপতি খাড়গের পরিচয়পত্রের প্রতিলিপিটিও অস্পষ্ট। এ ছাড়া কয়েকটি ক্ষেত্রে ওকালতনামা না থাকা, নথিতে অতিরিক্ত ছোট হরফ ব্যবহার, রঙিন কপির অভাব, ঝাপসা লেখা, পাতা বাদ পড়া এবং আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদন জমা নিয়েও একটি তথ্য উঠে এসেছে। গত সোমবার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রাহুল গান্ধী আদালতে পৌঁছাতে পারেননি। তাই তাঁর আইনি দলের পক্ষ থেকে আইনজীবী এস প্রসন্ন বিকেলে আবেদনপত্রটি জমা দেন। সুপ্রিম কোর্টের পোর্টালে মামলাটি এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন বনাম রাহুল গান্ধী নামে তালিকাভুক্ত হয়েছে।
রেজিস্ট্রির এই আপত্তিগুলো মূলত প্রক্রিয়াগত, মামলার মূল বিষয়বস্তু নিয়ে নয়। সাধারণত এ ধরনের ত্রুটি দ্রুত শুধরে নেওয়া যায়, তাই শুনানির পথে বড় বাধা না-ও হতে পারে। তবে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি মামলায় বিরোধী শীর্ষ নেতাদের আবেদনেই এতগুলো ত্রুটি থাকায় প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। ত্রুটি সংশোধনে কত সময় লাগবে এবং কবে শুনানির তারিখ নির্ধারিত হবে, তা এখনো জানা যায়নি। আবেদনের বিষয়বস্তু নিয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রতিক্রিয়াও প্রতিবেদনে নেই। সংশোধিত আবেদন জমা পড়লে মামলার পরবর্তী গতিপথ স্পষ্ট হবে।

