কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত আশাবাদ বিশ্ব আর্থিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। এর ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থায়ন পাওয়ার সুযোগও সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের ঋণ নেওয়ার খরচ বাড়া, হেজ ফান্ডের বিনিয়োগজনিত বাজারচাপ এবং ঋণের অস্বচ্ছ কাঠামো বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট নিয়ে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব ঝুঁকির কথা তুলে ধরেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন জুবিলি ইউএসএ নেটওয়ার্ক। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ব্যাংকক থেকে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক এরিক লেকম্পটে বৈশ্বিক আর্থিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর ঋণ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করা দরকার। ঝুঁকির এই তালিকা সরাসরি আইএমএফের নিজের বক্তব্য নয়। আইএমএফের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে জুবিলি ইউএসএ নেটওয়ার্ক তাদের বিবৃতিতে এসব উদ্বেগ তুলে ধরেছে। ফলে প্রতিবেদনের মূল তথ্য ও সংগঠনটির ব্যাখ্যার মধ্যে কিছু পার্থক্য থাকতে পারে।
এই সতর্কবার্তার তাৎপর্য কয়েকটি দিক থেকে বোঝা যায়। প্রথমত, এআইকে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের উচ্ছ্বাস বাজারে দামের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রবৃদ্ধি না এলে বাজারে হঠাৎ সংশোধন ঘটতে পারে, যার ধাক্কা পড়বে বিশ্বজুড়ে।
দ্বিতীয়ত, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়তে পারে উন্নয়নশীল দেশ। বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা বাড়লে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ বাজার থেকে অর্থ সরিয়ে নেন। এতে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য বিদেশি ঋণ ও বিনিয়োগ পাওয়া কঠিন এবং ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে।
তৃতীয়ত, সরকারের ঋণ নেওয়ার বাড়তি খরচ ও ঋণের অস্বচ্ছ কাঠামো ঝুঁকিকে আরও জটিল করছে। ঋণের শর্ত ও দায়ের পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট না থাকলে সংকটের সময় পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হতে পারে।
তবে প্রাপ্ত তথ্যে এসব ঝুঁকি কতটা তীব্র, কোন দেশ বেশি ঝুঁকিতে এবং কী ধরনের নীতিগত পদক্ষেপের সুপারিশ করা হয়েছে, তা বিস্তারিত জানা যায়নি। জুবিলি ইউএসএ নেটওয়ার্কের পূর্ণ বিবৃতি বা আইএমএফের মূল প্রতিবেদন দেখা গেলে চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।
সব মিলিয়ে বার্তাটি হলো, এআই-নির্ভর প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা যত বড়ই হোক, তার ওপর অতিরিক্ত ভরসা বৈশ্বিক আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য তাই ঋণব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং বাহ্যিক ধাক্কা সামলানোর প্রস্তুতি রাখা এখন আরও জরুরি।

