ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া পদক্ষেপ হয়তো কিছুটা বেশি কঠোর হয়ে গেছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য এখন উপযুক্ত কোনো কর্মকর্তাকে খুঁজে বের করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।
ওহাইওর ইয়াংস্টাউনে এক জনসভায় ট্রাম্প বলেন, ইরানের নেতাদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো প্রয়োজনের চেয়ে বেশি আগ্রাসী পদক্ষেপ নিয়েছে।
তিনি বলেন, “নেতাদের ক্ষেত্রে আমরা হয়তো একটু বেশিই বাড়াবাড়ি করে ফেলেছি। কারণ এখন আমরা কার সঙ্গে আলোচনা করছি, সেটাই আর বুঝতে পারছি না।”
ট্রাম্প আরও বলেন, “সত্যি বলতে, কার সঙ্গে দরকষাকষি করব, তা খুঁজে বের করতে আমাদের অনেক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।”
তিনি দাবি করেন, ইরানের কেউ এখন আর প্রেসিডেন্ট হতে আগ্রহী নন। তবে তার এই বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার পার্থক্য রয়েছে। কারণ ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মাসুদ পেজেশকিয়ান।
ট্রাম্পের মন্তব্যে ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান কৌশল নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে তিনি ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার বার্তা দিয়েছেন, অন্যদিকে আলোচনার জন্য একটি রাজনৈতিক পথ খোলা রাখার ইঙ্গিতও দিয়েছেন।
জনসভায় ট্রাম্প আবারও ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে তার আগের দাবির পুনরাবৃত্তি করেন। তিনি বলেন, ইরান তাদের পুরো বিমানবাহিনী এবং ১৫৯টি জাহাজ হারিয়েছে। এসব নৌযান এখন “সাগরের তলদেশে বিশ্রাম নিচ্ছে” বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে এসব দাবির বিষয়ে বিস্তারিত কোনো প্রমাণ তিনি উপস্থাপন করেননি।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসে এমন এক সময়ে, যখন উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলার ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে। ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনসের তথ্য অনুযায়ী, ১ অক্টোবরের পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৯টি জাহাজে হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলের এই উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং নৌ নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে নিজের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।
ট্রাম্প আবারও ইরানকে “সন্ত্রাসবাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র” হিসেবে উল্লেখ করেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক প্রভাব এবং সামরিক কার্যক্রম নিয়ে উত্তেজনা রয়েছে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই সম্পর্কের নতুন মাত্রা নিয়ে আলোচনা তৈরি করেছে।

