অবৈধ লেনদেন শনাক্ত ও তার তথ্য সময়মতো সরকারকে জানাতে ব্যর্থ হওয়ায় ব্যাংক অব আমেরিকাকে ১২১ কোটি (১ দশমিক ২১ বিলিয়ন) ডলার জরিমানা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের ইতিহাসে এটি তৃতীয় বৃহত্তম জরিমানা। এই অর্থদণ্ডের প্রভাবে ব্যাংকটির চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের মুনাফা কমবে, আর খবর প্রকাশের পর কমেছে শেয়ারের দামও।
ট্রেজারি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকটি প্রায় ৫০০ কোটি (৫ বিলিয়ন) ডলারের সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য যথাসময়ে সরকারকে জানায়নি। এর মধ্যে অন্তত ১০০ কোটি ডলারের লেনদেন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ ব্যর্থতা শুধু নিয়মমাফিক প্রতিবেদন দেওয়ার ঘাটতিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, তার একটি অংশ সরাসরি নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগের সঙ্গে জড়িত।
ট্রেজারি বিভাগের অভিযোগ, ব্যাংকটি নিজেদের তদারকিব্যবস্থা ও নিরাপত্তা জোরদার করার চেয়ে আয় ও মুনাফাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। জরিমানার পাশাপাশি ব্যাংকটিকে এখন একজন স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তকারী নিয়োগ দিতে হবে। তিনি অতীতের সব লেনদেন পরীক্ষা করে সন্দেহজনক তথ্য মার্কিন আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থাকে জানাবেন।
ব্যাংকের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই বিপুল জরিমানার কারণে তৃতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি নিট মুনাফা প্রায় ১৭ সেন্ট কমে যাবে। খবর সামনে আসার পর লেনদেন-পরবর্তী সময়ে ব্যাংকটির শেয়ারের দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। আর্থিক বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ইউবিএস বলছে, এই জরিমানা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাংকটির শেয়ার পুনঃক্রয়ের সক্ষমতা এবং ভবিষ্যতে ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করতে পারে।
ব্যাংক অব আমেরিকা জানিয়েছে, আর্থিক অপরাধ দমনে তারা প্রযুক্তিতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে এবং হাজার হাজার কর্মী নিয়োজিত রেখেছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী তারা সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ করে যাচ্ছে।
ঘটনাটি বৈশ্বিক আর্থিক খাতের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা বহন করে। বড় ব্যাংকও যদি সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত ও প্রতিবেদনে ব্যর্থ হয়, তাহলে তাকে বড় অঙ্কের মূল্য দিতে হতে পারে। মুনাফার চাপ ও নিয়ম মানার দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য রাখা যে কতটা জরুরি, এই ঘটনা তা-ই মনে করিয়ে দেয়। প্রযুক্তি ও জনবলে বিনিয়োগের দাবি করলেও ব্যাংকটির কার্যকর নজরদারি কাঠামো কেন সময়মতো কাজ করেনি, সে প্রশ্ন থেকে যায়। এখন স্বাধীন তদন্তকারীর পর্যালোচনার ফল এবং ব্যাংকটি তার ব্যবস্থা কতটা সংশোধন করে, সেদিকেই নজর থাকবে।

